মঙ্গলবার, ২২শে মে, ২০১৮ ইং ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে সবজি উৎপাদন : বছরে সরকারের সাশ্রয় লাখ টাকা

1কারাগার। চোর, ডাকাত ও মামলার আসামীাদের আটক রাখার স্থান হিসেবেই বিবেচিত। জামানা পাল্টাচ্ছে। পাল্টাচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গী। আর তাই বন্দীদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে কর্মমুখী ও দৃষ্টি ভঙ্গী পরিবর্তনের কাজ চলছে। ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা কারাগারে এ জন্য নানা কর্মসূচী শুরু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা কারা অভ্যন্তরে অন্যান্য কাজের পাশাপাশি সবজী বাগান চাষকেই বেছে নিয়েছে। বাগান করার মাধ্যমে গোটা কারা পরিবেশকেই বদলে দেয়া হচ্ছে। সবুজ সবজী উৎপাদনের মাধ্যমে অন্য রকম এক পরিবেশ কারা অভ্যন্তরে। কারাগার হোক সংশোধনাগার এ দৃষ্টি ভঙ্গিকে সামনে রেখে পরিচালিত হচ্ছে ব্রাক্ষনবাড়িয়া জেলা কারাগার। বিভিন্ন মামলার আসামীরা প্রশিক্ষন নিয়ে কাজ করছেন সবজি বাগানে। বিশাল কারাগারের পরিত্যাক্ত ভূমিতে প্রশিক্ষিত, মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিরদের মাধ্যমে চলে বছর জুড়ে চলছে সবজি চাষাবাদ। এর মাধ্যমে বছরে সরকারের লাখ লাখ টাকা সাশ্রয় হবার পাশাপাশি বন্দিরা সংশোধন হচ্ছে। কাজের দিকে মনোনিবেশ করছে। পাচ্ছেন মাসিক সম্মানী। রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ এ মন মানুষিকতা নিয়েই পরিচালিত হচ্ছে ব্রাক্ষনাড়িয়া জেলা কারাগার। শহরতলীর উরশী উড়ায় ১৭ একর জমির উপর এ কারাগার প্রতিষ্ঠিত। প্রথম শ্রেনীর এ কারাগারটিতে বন্দির সংখ্যা ১০৯৮ জন। নারী বন্দি রয়েছে ৫১ জন। তাদের সাথে থাকা শিশুদের জন্য রয়েছে ডে কেয়ার সেন্টার। স্বভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে এখানে বন্দিদের কৃষি, ইলেকট্রনিক্স, সেলাই ও নর সুন্দর প্রশিক্ষন দেয়া হয়। ২ জন প্রশিক্ষকের মাধ্যমে সপ্তাহে ৫ দিন চলে প্রশিক্ষন কার্যক্রম। বিশাল আয়তনের এ কারাগারে শ্রমিক ও মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের সাহায্যে বিভিন্ন মওসুমী ফল সহ সব্জির চাষ হচ্ছে। বন্দি এবং স্টাফদের খাবারের জন্য উৎপাদিত সব্জির সিংহভাগ ব্যয় হয়। এতে প্রতিবছর সরকারের ১০/১২ লক্ষ টাকা আর্থিক সাশ্রয় হচ্ছে। উৎসাহিত করার জন্য বন্দিদের কাজের জন্য দেয়া হয় সম্মানী। কারাবাগানে নিয়মিত কাজ করে অনেকটাই স্বাবলম্বী একাধিক বন্দী। কারাগারে ঢেড়স, ডাটা, পুঁইশাক, লাল শাক, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, আলু, টমোটে, বেগুন, পেঁপে, সহ নানা জাতের শাক সবুজ উৎপাদন হয় বছর জুড়েই। বন্দী আল-আমীন জনকন্ঠকে বলেন, ২ বছর আগে সাজানো ৫টি মামলা নিয়ে কারাগারে আসি। ভেতরে সুযোগ করে দেয়া হয় প্রশিক্ষনের। এর পর কাজের ব্যবস্থা হয় কারাবাগানে। বাগানে কাজ করে মাসে কিছু সম্মানী পাই। বাঞ্চারামপুর উপজেলার আল আমীন আরো জানান, সব মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে এখানেই থেকে যাই। কারা কর্তৃপক্ষ আমাকে বাগানে নিযুক্ত করে। মাসে এখন ৮ হাজার টাকা বেতন পাই। ৩ বেলা খানা খাই। বাড়িতে আর যাই না। আমার সাথে আরো কয়েকজন সহকর্মী রয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দী আজগর বলেন, বাগানে নিয়মিত কাজ করি। মাসিক ১২ হাজার টাকা বেতন দেই। বাঞ্ছারামপুরের আলম বলেন, এ কারাগারে সবজী চাষের মাধ্যমে ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। আমি প্রতিদিন কয়েক ঘন্টা কাজ করি বাগানে। বিনিময়ে পাই ভাতা। নরসিংদীর মনসুর আলী বলেন, বাগানে কাজ করে যা পাই তা বাড়িতে পাঠিয়ে দেই। এ টাকা সংসারের কাজে ব্যয় হয়। 

2জেলার মোঃ আব্দুল বারেক, তাদের মাধ্যমে ব্যপক ফসল উৎপাদন করি। এতে সরকাররের আর্থিক সাশ্রয় হচ্ছে। সবজির সিংহ ভাগ বন্দীদের জন্য ব্যবহার হয়। এ জন্য তাদের মসিক সম্মনী দেয়া হয়। জেল সুপার, মোঃ নূরুন্নবী ভুইয়া, বলেন, বন্দীদের কাজের মাধ্যেমে তাদের কর্মক্ষম করে তোলার চেষ্ঠা করা হচ্ছে। এতে সরকারের অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। এর মাধ্যেমে দেশে কৃষির উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।

Print Friendly, PDF & Email