সোমবার, ২০শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় ব্যানানা ম্যাংগো

AmaderBrahmanbaria.COM
জুলাই ২২, ২০১৭
news-image

---

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : গত কয়েক বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম চাষে ঘটেছে বিপ্লব। বেড়েছে বাগান ও গাছের সংখ্যা। উদ্ভাবিত হয়েছে কয়েকটি নতুন জাত। সম্প্রসারণ হয়েছে আরো কয়েকটি জাতের আম। এর মধ্যে বারী ৩, বারী ৪, বারী ১০, বারী ১১, গৌড়মতি, ব্যানানা ম্যাংগো ও হাড়িভাঙ্গা উল্লেখযোগ্য।

গতবছর প্রায় ১০৭ মেট্রিকটন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বিদেশে রপ্তানি হলেও এবার কৃষি ও করেন্টাইন বিভাগের গাফিলতি, উদাসিনতা ও হেয়ালিপনায় কোনও আম রপ্তানি না হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।

রপ্তানিযোগ্য আম এবার উৎপাদন করেও রপ্তানিতে আলোর মুখ না দেখায় চরম ক্ষতিগ্রস্ত হন আমচাষি, বাগান মালিকও রপ্তানিকারকরাও। দেখতে কলার মতো। এ কারণেই হয়তো নাম দেয়া হয়েছে ব্যানানা ম্যাংগো। গ্রিন ও ম্যাংগো সিটি বা আমের রাজধানীর আম যদি ভিন্নই না হয় তবে নামের সার্থকতা কোথায়। অন্তত ২০ জাতের ব্র্যান্ডিংসহ প্রায় আড়াই শ জাতের আম রয়েছে আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে। অন্যান্য রপ্তানিযোগ্য ও ব্রান্ডিং আমের মধ্যে আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশ-বিদেশে অতি দ্রুত অন্যান্য আমের পাশাপাশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ব্যানানা ম্যাংগো বা কলা আম এবং গৌড়মতি।

থাইল্যান্ড থেকে নিয়ে আসা চারা গবেষণা করে উদ্ভাবিত ব্যানানা ম্যাংগো বা কলা আম স্বাদে, গন্ধে যেমন অনন্য, তেমনি এর চাষের পদ্ধতিও সহজ। বাজারে ব্যাপক চাহিদা ও লাভজনক হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে বাগানের সংখ্যাও। বিদেশে রপ্তানিযোগ্য নাবী জাতের এই আমের ব্যাপক বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

সাড়ে তিন শ থেকে সাড়ে চার শ গ্রাম ওজনের আমটি ব্যতিক্রম বৈশিষ্ট্যের কারণে ইতিমধ্যে চাষিদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। চাষ পদ্ধতি সহজ হওয়ায়, এই আম চাষ করে আর্থিক স্বচ্ছলতার মুখ দেখতে শুরু করেছেন চাষিরা। বাজারে প্রচুর চাহিদা থাকায় দিন দিন বাড়ছে বাগানের সংখ্যাও। দেরিতে পাকার কারণে দামও বেশি পাচ্ছেন উৎপাদনকারীরা। বর্তমান এ সময়ে আম্রপালি, ল্যাংড়া ও হিমসাগর আম তেমন না থাকলেও এসব আমের চেয়ে কোনও অংশেই কম নয় বরং তার চেয়ে বেশি ভালো এবং এই ব্যানানা ম্যাংগোর বাজার মূল্য অন্তত ১০০ টাকা কেজি।

সাধারণত জুন মাসের পর থেকে দেশের বাজারে ভালো জাতের আমের প্রাপ্যতা যখন কমে আসে, তখন বাজারে আসে এই আম। এটিকে লেট ভ্যারাইটি বলার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা জানান, পাকে জুলাই মাসের শেষ দিকে বা ফজলি আমের শেষের দিকে, এ সময় ও এরপর একমাত্র গৌড়মতি আম ছাড়া অন্য কোনও ব্রান্ডিং আম থাকে না। স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় ও বিদেশে রপ্তানিযোগ্য এই আম চাষ করে বাণিজ্যিকভাবে সফল হবেন চাষিরা- এমনটাই বলছেন ফল গবেষকরা।

আমের এই জাতটি নজর কেড়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগেরও। চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যান প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, ২০১০ সালে থাইল্যান্ড থেকে এই জাতের ডগা নিয়ে এসে প্রথমে গ্রাফটিং করা হয়। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারে দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য কাজ শুরু হয়। ২০১২ সালে আসে প্রথম সাফল্য। এরপর প্রতিবছর নিয়মিত আম আসায় ২০১৫ সালে বাণিজ্যিকভাবে কৃষকের মাঝে এই আমের সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয়।

বিদেশে রপ্তানিযোগ্য নাবী জাতের এই আমের চাহিদা ও বাজার মূল্য ব্যাপক হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে এই আমের চাষ নিয়েও আশাবাদী বলে জানান চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারে উপপরিচালক ড. মো. সাইফুর রহমান । তিনি জানান, সারা দেশেই ব্যাপক চাহিদা চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের। ব্যানানা ম্যাঙ্গো সেই পালে নতুন হওয়া দিচ্ছে। থাইল্যান্ডভিত্তিক এই আম স্বাদে ও গন্ধে বেশ মনকাড়া। দেখতে কলার মতো লম্বা, পাকার সময় দুধে আলতা মেশানোর মতো হলুদ থেকে গোলাপি রঙের, আঠি চোকা পাতলা, মিষ্টতা ১৯ /২০ টিএসএস এবং ভক্ষণযোগ্য ৮৩%।

শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম আমিনুজ্জামান জানান, ব্যানানা ম্যাংগোর জাত উদ্ভাবনে কৃতিত্ব কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের। এই জাত উদ্ভাবনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের তেমন কোনও সফলতা বা কৃতিত্ব নেই। পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের আওতায় এই আম উৎপাদন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হার্টিকালচার সেন্টার আধুনিক পদ্ধতিতে হাতেকলমে আম চাষিদের কলাকৌশল ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বলেও জানান প্রশিক্ষক মো. জহুরুল ইসলাম।

হর্টিকালচার সেন্টারের প্রশিক্ষক মো. জহুরুল ইসলাম আরো জানান, ছাদের উপর বা যেকোনও স্থানে টব বা ড্রামেও চাষ করছেন অনেকে। বাংলাদেশের সব জেলার সব ধরনের মাটিতেই এই আম চাষের জন্য উপযোগী এবং রোপণের পর সামনের মওসুমেই ১/২ কেজি আম ধরার সম্ভাবনা থাকলেও লাগানোর পর আসা প্রথমবার মুকুল ভেঙে দেওয়া উচিত, তাহলে পরের বছর বৃদ্ধি ঠিক থাকবে বলেও জানান তিনি।