সোমবার, ১৮ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং ৪ঠা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

‘আরেফিন সিদ্দিককে অসম্মান ঢাবিকে অসম্মান করার শামিল’

AmaderBrahmanbaria.COM
আগস্ট ৯, ২০১৭
news-image

---

নিজস্ব প্রতিবেদক : অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিককে হেয় করা বা অসম্মান করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অসম্মান করার শামিল। এ মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. নাজমা শাহীন।

বুধবার দুপুরে ঢাবির কলা ভবন সংলগ্ন অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা এলামনাই এসোসিয়েশন আয়োজিত ‘অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে আমরা ‘শীর্ষক মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে নিজ বক্তব্যে ড. নাজমা শাহীন বলেন, আপনারা জানেন কিছুদিন ধরে কিছু সংবাদপত্র ও টেলিভিশন মিডিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইস্যুকে আংশিক ও মিথ্যাভাবে প্রকাশ করছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

তিনি বলেন, কার কতটুকু মনে আছে আমি জানি না, তবে আমি যেহেতু ১৯৬৪ সাল থেকে এই ক্যাম্পাসে, আমি এ ক্যাম্পাসে অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখেছি। ১৯৭৮ সালে ভর্তি হয়ে তিন বছরের অনার্স ও এক বছরের মাস্টার্স ডিগ্রি নিতে আমাকে ৭ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। সেকারণেই আজকের শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারবে না এ বিশ্ববিদ্যালয় কোথা থেকে কোথায় এসেছে।

তিনি আরো বলেন, অনেকেই আমাদের বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন, আমি বলছি না আজকের উপাচার্যই সব অসঙ্গতি শেষ করেছেন। কিন্তু তাঁর (আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক) দায়িত্বাকাল ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত অনেকবারই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ত্রের ঝনঝনানি তৈরির প্রচেষ্টা করা হলেও তিনি শক্তহাতে সব অপশক্তি ও সন্ত্রাসকে প্রতিহত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট দূর করেছেন। কৃতী শিক্ষার্থীদের সময়মত ডিগ্রি অর্জন করে যথাসময়ে ক্যারিয়ার গঠনে সাহায্য করে চলেছেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমি অনেক উপাচার্যকেই দেখেছি। কিন্তু তাঁর (উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিক) কাছে ঢাবির যেকোনো বিভাগের ছাত্র থেকে শুরু করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ যে কোনো ব্যক্তি তাদের ব্যক্তিগত অভিযোগ নিয়ে যেতে পারেন। আরেফিন সিদ্দিক কোনো ব্যক্তি নন, তিনি একটি ইনস্টিটিউট (প্রতিষ্ঠান)। তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, তাঁর উপর আঘাত আসা মানে ঢাবির সুনামের উপর আঘাত হানা।

ড. নাজমা শাহীন তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ ও ঢাবির বর্তমান শিক্ষক -শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আপনারা এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাই এগিয়ে আসেন, রুখে দাড়ান, আমরা প্রতিবাদ করি। ঢাবি বাংলাদেশের গৌরব। দেশের বিভিন্ন ক্রান্তি লগ্নে এ বিশ্ববিদ্যালয় নানাভাবে জাতির পাশে দাঁড়িয়েছে। আজ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে চলমান সব ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকার আহবান জানাচ্ছি।

মানববন্ধনে নতুন প্রজন্মের পক্ষে ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও বিশিষ্ট সাংবাদিক শরিফুল হাসান বলেন, আমি সব সময় বলি এই বাংলাদেশে আরেফিন সিদ্দিক স্যার একজনই। আমরা সবাই বলি আমরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন একজন উপাচার্য চাই যিনি হবেন আর্থিকভাবে সৎ, সেক্ষেত্রে ঢাবির আরেফিন স্যারকে আমাদের অনেকেরই চোখে পড়ে না। আমরা চাই এমন একজন শিক্ষককে যার কাছে ছাত্ররা সব সময় যেতে পারবেন। আরেফিন স্যার হলেন তেমনই একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান শিক্ষক।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেক উপাচার্য যেখানে বেতন ভাতাসহ বৈশাখী ভাতা, বোনাস ভাতা নিয়ে নানা অনিয়ম করে থাকেন। সেখানে আরেফিন সিদ্দিক স্যার তাঁর প্রাপ্য এক কোটি পঁচিশ লাখ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ফিরিয়ে দেন। আমি আরেফিন স্যারকে ২০০২ সাল থেকে চিনি, বিশ্বাস করেন বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলেও স্যারকে দেখেছি তাঁরাও স্যারকে শ্রদ্ধা করতেন। ফায়েজ স্যারকে আমি দেখেছি আরেফিন স্যার ওনার রুমে গেলে তিনি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়াতেন। আজকে কষ্ট লাগে আমাদের নীল দলের শিক্ষকরাই আরেফিন স্যারকে অসম্মান করতে চেষ্টা করছে। কোনো আদর্শের জন্য তাঁরা এটা করছেন না, তাঁরা যারা নীতি কথা বলছেন তাঁরা হয় সুবিধাভোগী নয়, সুবিধাবঞ্চিত। সুবিধা হাসিল করার জন্যই তাঁরা সঠিক আদর্শ থেকে সরে পড়েছেন।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিককে হেয় করে গণমাধ্যমে সংবাদ উপস্থাপনের প্রতিবাদে পালিত মানববন্ধনে ঢাবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বর্তমান শিক্ষার্থী রাগিব জানান, আরেফিন সিদ্দিক স্যার হলেন এমন এক মহান উপাচার্য যিনি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস নেন, আমার মনে হয় না তাঁর মত দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি উপাচার্য হয়ে এত মহান আদর্শের স্বাক্ষর রাখতে পারবেন।

উল্লেখ্য, মানবন্ধনে, ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন শফিউল আলম ভুইয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. মফিজুর রহমান, অন্যান্য বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতিসহ সংবাদমাধ্যমের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ একাত্মতা ঘোষণা করে বক্তব্য দেন।