g ১৪ কিশোরের শিরোচ্ছেদ না করতে ১০ নোবেল বিজয়ীর আবেদন | AmaderBrahmanbaria.Com – আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া


মঙ্গলবার, ২২শে আগস্ট, ২০১৭ ইং ৭ই ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

১৪ কিশোরের শিরোচ্ছেদ না করতে ১০ নোবেল বিজয়ীর আবেদন

AmaderBrahmanbaria.COM
আগস্ট ১২, ২০১৭
news-image

---

২০১২ সালে সৌদি আরবে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করায় যে ১৪ কিশোরের শিরোচ্ছেদ করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার তা না করার আবেদন জানিয়েছেন ১০ নোবেল বিজয়ী। তারা সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ ও ক্রাউন্স প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান’এর কাছে এ ধরনের শিরোচ্ছেদ না করে তাদের ক্ষমার আবেদন জানিয়েছেন। নোবেল বিজয়ীরা হচ্ছেন, পূর্ব তিমুরের সাবেক প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস হোর্তা, দক্ষিণ আফ্রিকার আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু, সাবেক পোলিশ প্রেসিডেন্ট লেস ওয়ালেসা, সাবেক সাউথ আফ্রিকান প্রেসিডেন্ট এফ ডব্লিউ ডি ক্লার্ক, ভারতের কৈলাস সত্যার্থী, লাইবেরিয়ার শান্তি কর্মী লিমাহ গোবি, ইয়েমেনের মানবাধিকার কর্মী তাওয়াক্কাল কারমান, ইরানের মানবাধিকার এটর্নি শিরিন এবাদি, যুক্তরাষ্ট্রের এ্যান্টি-ল্যান্ডমাইন এ্যাক্টিভিস্ট জোডি উইলিয়াম ও নর্থাদার্ন আয়ারল্যান্ডের শান্তি কর্মী মাইরেড ম্যাগুইর। টাইমস অব ইসরায়েল

এ দশজন নোবেল লরিয়েট সৌদি বাদশাহ ও ক্রাউন প্রিন্সের কাছে এক খোলা চিঠিতে বলেন, ওই ১৪ কিশোরের মৃত্যুদ- একটি অবিচার ও তার সংশোধন হওয়া উচিত। প্রতিবাদের জন্যে তাদের সবচেয়ে খারাপভাবে দোষী সাব্যস্ত করে যে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। নোবেল লরিয়েটরা ১৪ জন কিশোরের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় ও তাদের ওপর শারীরিক শক্তি প্রয়োগের নিন্দা জানান।

সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওই ১৪ জন কিশোর প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এরা সবাই শিয়া মুসলিম। এদের মধ্যে মুজতবা আল-সৈকতকে সৌদি বিমানবন্দরে আটক করা হয় যখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টান মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে পড়তে যাচ্ছিলেন। যখন তাকে গ্রেফতার করা হয় তখন তার বয়স ছিল ১৮ এবং তার বিরুদ্ধে ফেসবুকে একটি দল পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়। স্বীকারোক্তি আদায়ের সময় নির্যাতনে সৈকতের কাঁধের হাড় ভেঙ্গে যায়।

আরেক কিশোর আলী আল নিমরের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে ‘লিবারেলস’ নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার একটি পাতা ছিল এবং যেখানে সে প্রতিবাদের ছবি পোস্ট করেছিল ও সবাইকে প্রতিবাদে আহবান জানিয়েছিল। মুনির আদম নামে আরেক অন্ধ ও আংশিক বোবা এক তরুণ ওই ১৪ জনের মধ্যে রয়েছে। দুজন কিশোরও রয়েছে মৃত্যুদ-প্রাপ্তদের মধ্যে।

সৌদি বাদশাহ ও ক্রাউন প্রিন্সের কাছে দেওয়া ওই চিঠিতে নোবেল লরিয়েটরা আরো বলেন, আদালতে তারা তাদের কাছে থেকে জোরপূর্বক নেওয়া স্বীকারোক্তি প্রত্যাখ্যান করে। তাদের নির্যাতনের বিষয়টি তদন্ত করা হয়নি যা আন্তর্জাতিক ও মুসলিম শরীয়া আইনের পরিপন্থি। দি আমেরিকান ফেডারেশন অব টিচার্স প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে দাবি জানিয়েছে যাতে তিনি এ ১৪ জনের মৃত্যুদ- রহিত করার জন্যে প্রভাব বিস্তার করেন।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রধান সারা লি হুইটসন বলেছেন, ওই ১৪ জনের শিরোচ্ছেদ কার্যকর করার ঝুঁকিতে রয়েছে। সৌদি আরবের বিচার মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মানসুর আল-কাফারি গত ৪ আগস্ট এক বিবৃতিতে বলেছেন, সব ধরনের আইনী প্রক্রিয়া বিবেচনা করেই তাদের বিচার করা হচ্ছে। সন্ত্রাস সম্পর্কিত অপরাধ ও মৃত্যুদ-ের মত রায় পর্যালোচনা করা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে।

এদিকে সৌদি আরবের সুন্নি ধর্মীয় নেতারা অতীতে শিয়া সম্প্রদায়কে ধর্মভ্রষ্ট হিসেবে অভিহিত এবং শিয়া বিক্ষোভকারীরা ইরানের সমর্থিত বলেও উল্লেখ করেন। নোবেল বিজয়ীরা বিশ্বে আড়াই বিলিয়ন মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন এবং ইন্টারনেট থেকে খবর পান। সুতরাং সৌদি নেতাদের উচিত নয় তাদের দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর সোচ্চার হচ্ছে তা অস্বীকার করা।

এ জাতীয় আরও খবর