সোমবার, ১৮ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং ৪ঠা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ঢলে আখাউড়ার ৩০টি গ্রাম প্লাবিত

AmaderBrahmanbaria.COM
আগস্ট ১৩, ২০১৭
news-image

---

আখাউড়া প্রতিনিধি : ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ী ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ৩০টি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে প্রায় ২শ পুকুরের কয়েক কোটি টাকার মাছ। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে ৩ শতাধিক পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ। শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। বন্ধ রয়েছে আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম। দুর্ভোগে পড়েছে আখাউড়া স্থল বন্দর দিয়ে পারাপার হওয়া যাত্রীরা।

জানা গেছে, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির পানি ও ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ী ঢলে আখাউড়া কর্ণেল বাজার এলাকার হাওড়া নদীর বাঁধ ভেঙ্গে উপজেলার ৩০টি গ্রামের ৩ শতাধিক ঘর-বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিতে ওই এলাকার সাড়ে ৬শ হেক্টর জমির আমন ধান পানির নিচে রয়েছে। ২ শতাধিক পুকুর প্লাবিত হয়ে প্রায় ৩০ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। উপজেলার আব্দুল্লাহপুর, উমেদপুর  বান্ডুসার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় ওই সব বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

সরজমিনে আজ শনিবার বিকালে গিয়ে দেখা যায়, আখাউড়া স্থল  বন্দরের শুল্ক অফিস, ইমিগ্রেশন অফিস, বিজিবি কোম্পানী সদরসহ আমদানী রপ্তানী কারক ব্যবসায়ীদের অফিস পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে আখাউড়া স্থল বন্দর দিয়ে আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম। আগরতলা সড়কের বঙ্গের চর এলাকায় প্রায় ১ কিলোমিটার সড়ক পানির নিমজ্জিত রয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছে এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী লোকজন।

এদিকে আজ শনিবার বিকালে আখাউড়ার উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করতে আসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো: রেজওয়ানুর রহমান। তিনি ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ১০ কেজি চাল ও শুকনো খাবার বিতরন করেন। এ সময় সাথে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শামছুজ্জামান ও আইনমন্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী রাসেদুল কায়সার জীবন, আখাউড়া পৌর মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল, জেলা পরিষদ সদস্য আবুল কাসেম ভূইয়া, উপজেল আওয়ামীলীগের আহবায়ক মো: জয়নাল আবেদীন, যুগ্ম আহবায়ক সেলিম ভূইয়া, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানজিল শাহ, সাধারণ সম্পাদক মো: শরীফুল ইসলাম।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মো: রেজওয়ানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষে পাশে রয়েছে। আইনমন্ত্রী এড. আনিসুল হক ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার জন্য ৩০ মেঃ টন চাল ও ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।