g জহির রায়হানের সহকারী থেকে নায়করাজ | AmaderBrahmanbaria.Com – আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া


মঙ্গলবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ১১ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

জহির রায়হানের সহকারী থেকে নায়করাজ

AmaderBrahmanbaria.COM
আগস্ট ২২, ২০১৭
news-image

---

বিনোদন প্রতিবেদক : না ফেরার দেশে চলে গেলেন নায়করাজ রাজ্জাক। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাজ্জাক।

নায়করাজ রাজ্জাক দুই বাংলার চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তী। ১৯৬৮ সালে জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ ছায়াছবির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ নায়ক হিসেবে তাঁর চলচ্চিত্রাঙ্গনে অভিষেক। এই পর্যন্ত ছয়শত ছবিতে অভিনয় করেছেন।

জন্ম
১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি কলকাতার টালিগঞ্জে নায়করাজ রাজ্জাকের জন্ম। প্রকৃত নাম আবদুর রাজ্জাক।

পারিবারিক জীবন
টালিগঞ্জের মোল্লাবাড়িতে আকবর হোসেন ও মিনারুন্নেসার ছোট ছেলে আবদুর রাজ্জাক মাত্র ১৯ বছর বয়সে ১৯৬২ সালে বিয়ে করেন লক্ষ্মীকে। তাদের সংসারে ৩ পুত্র এবং ১ কন্যা সন্তান। মেয়ে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ১৯৬৪ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হলে রাজ্জাক স্ত্রী লক্ষ্মী এবং পুত্র বাপ্পাকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন।

অভিনয় জীবন
স্কুলে পড়ার সময় ‘বিদ্রোহ’ নাটক আর কলেজ জীবনে ‘রতন লাল বাঙ্গালি” ছায়াছবিতে তার প্রথম অভিনয়। ১৯৫৯ সালে বোম্বের ফিল্মালয়ে ভর্তি হন। এরপর কলকাতার ‘পংকতিলক’ এবং ‘শিলালিপি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়।
১৯৬৪ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হলে সপরিবারে ঢাকায় এসে চলে আসেন। যোগাযোগ করেন ঢাকায় প্রথম ছবি ‘মুখ ও মুখোশ’-এর পরিচালক আবদুল জব্বার খানের সঙ্গে। তিনি রাজ্জাককে ওই সময়ের বিখ্যাত চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা ইকবাল ফিল্মসে চাকরি নিয়ে দেন। চাকরিটি হচ্ছে পরিচালক কামাল আহমেদের সহকারীর কাজ। সহকারী পরিচালক হিসেবে রাজ্জাকের প্রথম ছবি ‘উজালা’।

সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ‘১৩নং ফেকু ওস্তাগার লেন’, ‘আখেরী টেনশন’ ও ‘ডাক বাবু’ ছবিতে তিনটি ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন রাজ্জাক।

বরেণ্য চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের সহকারী হিসেবেও কাজ করেন। একদিন হঠাৎ করেই সুযোগ পান নায়ক হবার। জহির রায়হান রাজ্জাককে ‘বেহুলা’ ছবির নায়ক বানিয়ে দেন। ‘বেহুলা’র নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন সুচন্দা। ১৯৬৬ সালে মুক্তি পায় ‘বেহুলা’। ছবিটি সুপারহিট হলে রাজ্জাক তার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পান।

ঢাকার চলচ্চিত্র পায় একজন রোমান্টিক নায়ক, যিনি পরবর্তীকালে বাংলাদেশের সিনেমা শিল্পের ত্রাণকর্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নায়করাজ রাজ্জাক ১৯৭৬ সালে ‘আশঙ্কা’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। গড়ে তোলেন প্রযোজনা সংস্থা এমএস প্রোডাকশন। এ পর্যন্ত ২০ টি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেন তিনি।

এ পর্যন্ত পরিচালনা করেছেন প্রায় ১৬টি চলচ্চিত্র। দাফন-কাফন নামে একটি প্রামাণ্য চিত্রের ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ নায়ক রাজের মৃত্যুর পর সম্পন্ন করা হবে। চলচ্চিত্র ছাড়াও টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত নাটক তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশন এবং চ্যানেল আই।

উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র

অবুঝ মন (শাবানা)
চোর (শবনম)
নাচের পুতুল (শবনম)
নীল আকাশের নীচে (কবরী)
বড় ভাল লোক ছিল
বেঈমান (কবরী)
ময়না মতি (কবরী)
মনের মতো মন (কবরী)
রংবাজ (কবরী)
লাইলি মজনু (ববিতা)
সঙ্গীতা (কবরী)
জীবন থেকে নেয়া (কবরী)

পুরস্কার
এ পর্যন্ত মোট পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ছবিগুলো হলো- কি যে করি (১৯৭৬), অশিক্ষিত (১৯৭৮), বড় ভাল লোক ছিল (১৯৮২), চন্দ্রনাথ (১৯৮৪), যোগাযোগ (১৯৮৮)।
চ্যানেল আই আয়োজিত চলচ্চিত্র মেলা-২০০৯ চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদান রাখার জন্য পুরো নায়করাজ রাজ্জাকের পরিবারকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। বাচসাসসহ বহু সংগঠনের অসংখ্য পদক জয় করেছেন নায়করাজ রাজ্জাক।

বিশেষ কর্মকাণ্ড
অভিনয়ের পাশাপাশি বর্তমানে জাতিসংঘ (ইউএনএফপিএ)-এর বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাজ্জাক। এই দায়িত্বে তিনি নারী নির্যাতন ও বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন।