g পাকিস্তানের উদাহরণ ৩০ লাখ শহীদকে অসম্মান করেছে : শামীম ওসমান | AmaderBrahmanbaria.Com – আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া


মঙ্গলবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ১১ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানের উদাহরণ ৩০ লাখ শহীদকে অসম্মান করেছে : শামীম ওসমান

AmaderBrahmanbaria.COM
আগস্ট ২২, ২০১৭
news-image

---

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যারা ব্যর্থ রাষ্ট্র পাকিস্তানের উদাহরণ দিচ্ছে তারা ভুলে গেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা নওয়াজ শরিফ নন। পাকিস্তানের সঙ্গে উদাহরণ দিয়ে যারা ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমকে অসম্মান করছেন- বাংলাদেশের জনগণ তাদের জন্য আর ধৈর্য দেখাবে না।

রাজনীতির গতি-প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কোনো আদালতের নেই দাবি করে শামীম ওসমান কিছু কাগজপত্র (দলিল) হাতে নিয়ে বলেন, এ দালিলিক প্রমাণ যদি নির্ভীক গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে দেয়া হয় তবে পাকিস্তানপ্রেমী কারও মুখোশ খুলে যাবে। সোমবার দুপুরে ২১ আগস্ট উপলক্ষে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামীম ওসমান এমপি এসব কথা বলেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন থানা আওয়ামী লীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন রেনু।

এদিকে শোকসভা শেষে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীরা শামীম ওসমানের কাছে বক্তৃতার সময় দেখানো দলিলটি সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সময় হলে সব দেখানো হবে, বলা হবে।

এদিকে শোকসভায় শামীম ওসমান তার বক্তব্যে বলেন, জনগণের পয়সায় বেতন পাওয়া পাকিস্তানপ্রেমীরা যেসব উদ্ভট, অনভিপ্রেত কথাবার্তা বলছেন তারা ভুলে গেছেন বাংলাদেশটা পাকিস্তান নয়, বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানের জনগণ নয়। বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়। বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতো আইএসআই দ্বারা পরিচালিত না। পাকিস্তানের রাজনীতি এবং বিচার বিভাগ সেনাবাহিনীর নির্দেশে চলে। পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আর বাংলাদেশ জাতির জনকের নেতৃত্বে পরিচালিত সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে।

শামীম ওসমান আরও বলেন, আমার এসব কথার জন্য যদি আদালত আমাকে তলব করেন, তবে অবশ্যই যাব। সংসদ সদস্য পদ ও দলীয় পদ ছেড়েই যাব এবং এ দেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্বাসী কোটি কোটি মানুষের মনের কথাগুলো আদালতে বলে আসব। বিশ্বাস করি আদালত সেই কথার মর্মার্থ বুঝবেন। মনে রাখা উচিত, শেখ হাসিনা নীলকণ্ঠী হলেও বাংলার মানুষ নীলকণ্ঠী নয়। সব কিছু নিয়ে আপস করলেও বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা শেখ হাসিনা প্রশ্নে তার কর্মীরা আপস করতে শেখেনি।

শামীম ওসমান এ সময় বলেন, দেশ নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের মনে রাখতে হবে, শেখ হাসিনার কর্মীরা রাজপথের অকুতোভয় সেনা। আওয়ামী লীগ কর্মীরা সব ষড়যন্ত্রের জবাব দেয়ার মতো ক্ষমতা রাখে। কেউ কেউ দায়িত্বশীল জায়গায় বসে দায়িত্বহীনের মতো কথা বলছেন, শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে অশ্রদ্ধার কথা বলছেন। তাদের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে পল্টন থেকে কোনো বিএনপি-জামাতের প্রেতাত্মা কথা বলছে। তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, এসব নিন্দনীয় বক্তব্য দেশের ৮৫ ভাগ মানুষের কাছে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে হচ্ছে। তাই উচিত হবে তাদের সম্মানের সঙ্গে সেই বক্তব্য প্রত্যাহার করা, নয়তো নিজেকে সেই সম্মানের চেয়ার থেকে সরিয়ে নেয়া। ইতিহাস সাক্ষী, যারা ইতিহাস বিকৃত করেছে, ইতিহাস তাদের বারবার আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করেছে। সময় এসেছে সব কিছুর জবাব দেয়ার।

শামীম ওসমান নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানাতে শকুনীর দল আমাদের নেত্রীকে হত্যার জন্য এখনও ওতপেতে আছে। কিন্তু দেশ, দল ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই আবারও প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসাতে হবে এবং কর্মীরাই সেটা করবেন।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ওপর আল্লাহর রহমত আছে। যারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে, তাদের সঙ্গে শয়তান আছে। আর শয়তান কখনও আল্লাহর সঙ্গে পারে না। শোকসভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মতিন মাস্টার, থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, নাসিক কাউন্সিলর হাজী ওমর ফারুক, কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসান, কাউন্সিলর ইফতেখার আলম খোকন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আমিনুল হক রাজু, আদমজী আঞ্চলিক শ্রমিক লীগ সভাপতি আবদুস সামাদ বেপারি, যুবলীগ নেতা হুমায়ুন কবির ও মো. ফারুক প্রমুখসহ অঙ্গসংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী।