শুক্রবার, ২৪শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

রাশিয়া থেকে মিগ-৩৫ যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

AmaderBrahmanbaria.COM
আগস্ট ২৩, ২০১৭
news-image

---

রাশিয়ার তৈরি চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান মিগ-৩৫ কিনতে বাংলাদেশ আগ্রহী বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে।

মিগ এয়ারক্র্যাফট করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিয়া তারাসেনকোর বরাত দিয়ে মঙ্গলবার তাদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্মি-২০১৭ মিলিটারি টেকনিক্যাল ফোরামে এ বিষয়ে সমঝোতা আলোচনা হবে।

বাংলাদেশ ছাড়াও মিয়ানমার ও পেরুও এই জঙ্গিবিমান কিনতে আগ্রহী এবং তাদের প্রতিনিধিরাও ওই সমঝোতা আলোচনায় অংশ নেবেন বলে আশা করছেন তিনি।

আর্মি-২০১৭, একটি আান্তর্জাতিক মিলিটারি টেকনিক্যাল ফোরাম, ২২ থেকে ২৭ অগাস্ট মস্কোর থিম পার্ক প্যাট্রিয়টে তা অনুষ্ঠিত হবে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১৮ সাল থেকে মিগ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির পরিকল্পনা করছে বলে তারাসেনকো জানান।এ বিষয়ে কথাবার্তা চলছে বলে জানান তিনি।

তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিগ-২৯কে/কেইউবি ও মিগ-২৯এম/এম২ এর উপর ভিত্তি করে মিগ-৩৫ এর নকশা করা হয়েছে। চতুর্থ প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমান অনেক কাজে লাগানো যাবে।

গত ২৬ জানুয়ারি মিগ-৩৫ এর পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন শুরু হয়। পরদিন মস্কোতে এর প্রদর্শনী হয়।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তর ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য আটটি বহুমাত্রিক যুদ্ধবিমান কেনার জন্য সম্প্রতি তাদের ওয়েবসাইটে দরপত্র প্রচার করে।

রাশিয়া থেকে বড় ধরনের সামরিক সরঞ্জাম কেনার ঘটনা নতুন নয়। ১৯৯৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে আটটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান কেনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ওই সময় থেকে চুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ১ কোটি ১০ লাখ ডলারে কেনা হয়। সাজসরঞ্জামসহ প্রশিক্ষণ, পরিবহনসহ আটটি বিমানের জন্য মোট ১২ কোটি ৪ লাখ ডলার ব্যয় হয়, যা বাংলাদেশি টাকায় ছিল ৫৭৫ কোটি।

২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে বিমানগুলো বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেগুলো আর বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। ওই সময় সরকারের ৭০০ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগ এনে ২০০১ সালের ১১ ডিসেম্বর শেখ হাসিনাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়। ২০১০ সালে ২ মার্চ হাইকোর্ট মামলাটি বাতিল করে দেন।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়া থেকে রাষ্ট্রীয় ঋণে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার (১০০ কোটি ডলার) সমরাস্ত্র কিনেছিল। মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শীর্ষ বৈঠকের পর এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী সেনাবাহিনীর জন্য ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের সমরাস্ত্র কেনা হয়।

এর আগে ২০০৯-১০ অর্থবছরে বিমানবাহিনীর জন্য চীন থেকে কেনা হয় স্বল্প পাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা পদ্ধতি (এসএইচওআরএডি)। এ সময় এফ-৭ বিমানের জন্য চীন থেকে এবং মিগ-২৯ বিমানের জন্য রাশিয়া থেকে ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হয়। ২০১০-১১ অর্থবছরে চতুর্থ প্রজন্মের ১৬টি যুদ্ধবিমান এফ-৭ বিজি ১ এবং রাশিয়ার তৈরি এমআই-১৭১ এসএইচ হেলিকপ্টার কেনা হয়।