g সেনাবাহিনী ‘ক্রিমিনাল’: রোহিঙ্গাদের পক্ষে সরব মিয়ানমারের মানবতাবাদীরাও | AmaderBrahmanbaria.Com – আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া


মঙ্গলবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং ২রা কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

সেনাবাহিনী ‘ক্রিমিনাল’: রোহিঙ্গাদের পক্ষে সরব মিয়ানমারের মানবতাবাদীরাও

AmaderBrahmanbaria.COM
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৭
news-image

---

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়ে সরকারের চুপ থাকা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত চাপের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন মানবতাবাদীরাও। সীমিত সংখ্যায় হলেও মিয়ানমারের বৌদ্ধ মানবতাবাদী অ্যাকটিভিস্ট ও সংগঠন রেহিঙ্গাদের পক্ষে বিবৃতি দেওয়ার পাশাপাশি জনমত গঠনেও কাজ করছে।

মিয়ানমারের আরেক উপজাতি গোষ্ঠী কারেন উইমেন অর্গানাইজেশন এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনীকে ‘ক্রিমিনাল’ আখ্যা দিয়ে বহু বছর ধরে নাগরিকদের বাস্তচ্যুত করছে বলে দাবি করেছেন। এ ছাড়া রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়ে সরব হয়ে জনমত গঠেনে নেমেছেন বৌদ্ধ মানবতাবাদী অ্যাক্টিভিস্ট মং জারনিও।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী কারেন উপজাতির নারী সংগঠন এক বিবৃতি দেয়। ওই বিবৃতিতে কারেন উইমেন অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘বিগত বছরগুলোতে শান এবং কাচিন প্রদেশের বহু নাগরিককে বাস্তুচ্যুত করেছে সেনাবাহিনী। তারা এখন মিয়ানমারের বিভিন্ন ক্যাম্পে দুর্দশাগ্রস্থ পরিবেশে জীবন কাটাচ্ছে। আর এখন স্বজনদের মৃত্যু দেখে মিয়ানমার ছেড়ে পালিয়ে গেছে তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গা। রাখাইনের অন্য নাগরিকরাও সেনাবাহিনীর এই কাজে ইন্ধন যোগাচ্ছে।’

 

‘এটি আমাদের দুঃস্বপ্নের গল্প এবং তা অচিরেই বন্ধ করতে হবে। এখন সময় জনগণের বিবেক জাগ্রত করবার’, বলা হয় ওই বিবৃতিতে।কারেন উইমেন অর্গানাইজেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে সংসদ, রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি এবং অন্যান্য উপজাতি গোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিদের রোহিঙ্গাদের ওপর সেনা নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে আহ্বান জানানো হয়।

 

এ ছাড়া জাতিসংঘের আনান কমিশনের দেওয়া প্রতিবেদনে সমর্থন জানিয়ে বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের স্বাধীন চলাফেরা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। সরকারকে অবশ্যই প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে। সেনাবাহিনীকে এই নিপীড়নের দায়মুক্তি দেওয়া যেতে পারে না।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে সব ধরনের প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র সরবরাহ থেকে বিরত থাকতে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ অন্য দেশগুলোকে আহ্বাবান জানানো হয়েছে। সেনাবাহিনীকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিবেচনা করতে ওই বিবৃতিতে বলা হয়।
এ ছাড়াও নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর সেনা নিপীড়নের বিষয়ে চুপ থাকায় ওই দেশগুলোকে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে অর্থনৈতিক বরাদ্দসহ সব ধরনের সম্পর্ক পুনঃবিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
এ দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিকল্প মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের পক্ষে জনমত গঠন করতে নেমেছেন বৌদ্ধ মানবতাবাদী অ্যাক্টিভিস্ট মং জারনি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর টুইটারে তিনি লিখেন, ‘আমি বার্মিজ এবং বৌদ্ধ। আমি নিন্দা করি সু চি, আর্মি ও মিয়ানমারের মিডিয়াকে। ‘সন্ত্রাসবাদের’ নামে এরা রোহিঙ্গা গণহত্যা চালাচ্ছে।’

তার এই টুইটে মিয়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কট্টর প্রতিক্রিয়া দেখালেও সমর্থনও পাচ্ছেন তিনি। এ ছাড়া মার্চে রোহিঙ্গাদের পক্ষে দাঁড়াতে রেল লাইনে দাঁড়িয়ে দেওয়া তার এক ভিডিও বার্তা বিশ্বজুড়ে আলোচিত হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর চৌকিতে বিদ্রোহীদের হামলার পর গত ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। অব্যাহত খুন আর ধর্ষণের মুখে দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ এই অভিযানকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের পাঠ্যপুস্তক উদাহরণ বলে অভিহিত করেছে। যুক্তরাজ্য মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া স্থগিত করেছ।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই নিপীড়নের বিষয়ে সোচ্চার হয়ে উঠলেও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বরাবর চুপ থাকার নীতি নিয়েছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়লে সরকারের জন্য তার আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ জাতীয় আরও খবর