মঙ্গলবার, ১৯শে ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং ৫ই পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

জয়ী হয়েও বড় ঘা খেলেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল

AmaderBrahmanbaria.COM
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৭
news-image

---

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :রবিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চতুর্থ বারের মতো চ্যান্সেলর নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করলেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল। কিন্তু এ নির্বাচন জার্মানির জন্য বিশাল পরিবর্তনের অশুভ বার্তাও বয়ে এনেছে বলে মনে করা হচ্ছে। কেননা, দক্ষিণপন্থি পপুলিস্ট এক দল এই প্রথম জার্মান সংসদে প্রবেশ করতে পারলো। এতেই জার্মান বেতার ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক মনে করেন, আঙ্গেলা ম্যার্কেল বড় ঘা খেয়েছেন। কিভাবে, ব্যাখ্যা দিয়েছে ডয়চে ভেলে :

এই নির্বাচন এক স্পষ্ট বার্তা বহন করছে যে সবকিছু আর আগের মতন চলবে না এবং এই নির্বাচনে দুই শিবিরের স্পষ্ট পরাজয় ঘটেছে – এসপিডি দল ২০ শতাংশের মতো ভোট পেয়ে ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের মুখ দেখেছে, অন্যদিকে চ্যান্সেলরের নিজের দল প্রায় ৮ শতাংশ সমর্থন হারিয়েছে।

এমন রাজনৈতিক ভূমিকম্প ঘটলে সাধারণ অবস্থায় নেতাদের পদত্যাগের প্রসঙ্গ উঠে আসে। কিন্তু জার্মানির জন্য এটা মোটেই স্বাভাবিক সময় নয়। প্রায় ১৩ শতাংশ ভোট পেয়ে এএফডি দল যেভাবে সংসদে প্রবেশ করলো, সেটা শুধু অস্বাভাবিকই নয়, ফেডারেল জার্মান প্রজাতন্ত্র পত্তনের পর এই প্রথম কোনো দক্ষিণপন্থি পপুলিস্ট দল জার্মান সংসদে পা রাখছে।

এ এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন। একে সাক্ষাৎ বিপর্যয় বলা চলে। এটা একটা চ্যালেঞ্জ। সবার শেষে বলতে হয়, এটাই হলো গণতন্ত্র।

গোটা বিশ্বের সঙ্গে তুলনা করলে এটা বিশ্বাস করে নেয়া যায় যে জার্মানি এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে। সংসদে আবার সেরা যুক্তি-তর্ক নিয়ে বাকবিতণ্ডা হবে, যা বেশ ইতিবাচক। প্রকৃত বিরোধিতার অভাবে এক শক্তিশালী চ্যান্সেলর ইচ্ছামতো দেশ শাসন করে যাবেন – এমনটা আর সম্ভব হবে না।

এটাও একটা বার্তা বটে, তবে সেই পরিস্থিতি সম্ভব করতে হলে গণতান্ত্রিক দলগুলিকে এএফডি দলের জনমোহিনী বিতর্কের জালে জড়িয়ে পড়লে চলবে না। বিভিন্ন সমস্যার চটজলদি পপুলিস্ট সমাধানসূত্রের মোকাবিলা করে তাদের সে সম্পর্কে প্রকৃত জবাব দিতে হবে। শরণার্থীরা এসে তাদের দেশ বদলে দিতে পারে বলে অসংখ্য মানুষের মনে আজ যে ভয় জন্মেছে, সেই আবেগকেও অবশেষে গুরুত্ব দিতে হবে। জার্মানিকে এমন-সব বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্কের ক্ষমতা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে হবে। মানুষের ভয়কে গুরুত্ব না দিয়ে তাকে ‘ট্যাবু’ বা নিষিদ্ধ বিষয় করে তুললে চরম রাজনৈতিক শক্তির পালে বাতাস দেয়া হয়। এটাও এবারের নির্বাচনের এক বার্তা৷

এসপিডি বিরোধী আসনে বসছে
এই অবস্থায় সরকার গঠন করা হবে প্রথম চ্যালেঞ্জ। এসপিডি দল যেভাবে প্রথমেই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা বিরোধী আসনে বসবে, তা অত্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয়। একমাত্র এভাবেই এই দল নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার করতে এবং ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে তুলতে পারবে। তাছাড়া এর ফলে এএফডি সংসদে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা ভোগ করতে পারবে না। এমন বড় ধাক্কা খেয়ে আঙ্গেলা ম্যার্কেলকে জোট গড়তে জটিল আলোচনার পথে এগোতে হবে। নিজের শিবিরেই অনেকে সরাসরি তাঁকে এবং তাঁর শরণার্থী নীতিকে দলের বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করায় তাঁকে সেই বোঝাও বহন করতে হবে। অন্যদিকে তাঁর প্রতি গোটা বিশ্বের প্রত্যাশা এই যে, নির্বাচনের এই ফল সত্ত্বেও তিনি পশ্চিমা জগতের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে থেকে যাবেন এবং তাঁর সঙ্গে জার্মানি আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্থিতিশীল ও আস্থাভাজন সহযোগী থেকে যাবে। এমন এক মুক্ত জার্মানি, যেখানে গণতন্ত্রের শিকড় অত্যন্ত গভীর।

এ জাতীয় আরও খবর