সোমবার, ১৮ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং ৪ঠা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

কুরআন তিলাওয়াতকারী জান্নাতের জন্য সুপারিশকারী

AmaderBrahmanbaria.COM
অক্টোবর ১১, ২০১৭
news-image

---

ইসলাম ধর্ম ডেস্ক : প্রত্যেকেই চায় তার প্রয়োজনের সময় কেউ তার পক্ষে সুপারিশ করুক। বিশেষ মূহুর্তে, বিশেষ প্রয়োজনে যদি কাঙ্খিত বস্তু লাভের সুপারিশ পাওয়া যায়, তাহলে তা হবে চরম সফলতা। কিয়ামতের ময়দানে কঠিন মুসিবতের সময় স্বয়ং আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কেউই কারো পক্ষে সুপারিশ করতে পারবে না। সবচেয়ে কঠিন মূহুর্ত। এ সময় প্রত্যেকেই চাইবে কেউ তার পক্ষে সুপারিশ করুক। কিন্তু কেউই সুপারিশ করতে সক্ষম হবে না। সেদিন মানুষের মুখে মহর মেরে দেয়া হবে।

তবে আমাদের নবীজি (সা.) ব্যতীত। তিনি আল্লাহর বিশেষ রহমতে তার উম্মতের জন্য সুপারিশ করতে পারবেন। তাছাড়া আরো কিছু সুপারিশকারী রয়েছে। যেমন : কুরআন তেলাওয়াতকারী। কুরআন তেলাওয়াতকারীর জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির এবং জান্নাতের প্রবেশের সুপারিশ করবে। এ সর্ম্পকে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা বলেন :“যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, সালাত কায়েম করে, আমার দেয়া রিজিক থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারাই আশা করতে পারে এমন ব্যবসার যা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কারণ আল্লাহ তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেবেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরো অধিক দান করবেন। তিনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।” (সূরা ফাতির : ২৯-৩০)

আবু উমামা বাহেলী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি :“তোমরা কুরআন তিলাওয়াত কর, কারণ, কুরআন কেয়ামতের দিন তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে।” (মুসলিম)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি যিনি কুরআন মজিদ শিক্ষা করে ও অন্যকে শিক্ষা দেয়।”(বুখারি)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন,“আল কুরআনে দক্ষ ও পারদর্শী ব্যক্তি সম্মানিত পুণ্যবান ফেরেশতাদের সাথে থাকবে। যে ব্যক্তি কুরআন আটকে আটকে তিলাওয়াত করে এবং তা তার জন্য কষ্টকর হয়, তার জন্য দু’টি প্রতিদান রয়েছে। প্রথমটি, তিলাওয়াতের প্রতিদান, দ্বিতীয়টি কষ্টের প্রতিদান।” (বুখারি ও মুসলিম)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, “যে মোমিন কুরআন তিলাওয়াত করে তার দৃষ্টান্ত কমলালেবুর মত, যা সুস্বাদু ও সুঘ্রাণযুক্ত। আর যে মোমিন কুরআন তিলাওয়াত করে না, তার দৃষ্টান্ত খেজুরের ন্যায় যার ঘ্রাণ নেই, কিন্তু মিষ্টি। (মুসলিম)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন,“তোমাদের মধ্যে হতে যে ব্যক্তি সকালে মসজিদে দু’টি আয়াত পাঠ করে বা শিখে, তাকে দু’টি উট সদকা করার সওয়াব দেয়া হবে। এভাবে যত বেশি আয়াত তিলাওয়াত করবে, ততবেশি উট সদকা করার সওয়াব প্রদান করা হবে।” (মুসলিম)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, “যে কোন সম্প্রদায় আল্লাহর কোন ঘরে একত্রিত হয়ে কুরআন তিলাওয়াত করে এবং নিজদের মাঝে তা পঠন ও পাঠন করে, তাদের উপর শান্তি অবতীর্ণ হয়, আল্লাহর রহমত তাদের ঢেকে রাখে, ফেরেশতারা তাদের বেষ্টন করে রাখে এবং আল্লাহ তাআলা নিকটস্থ ফেরেশতাদের সঙ্গে তাদের ব্যাপারে আলোচনা করেন।”(মুসলিম)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, “যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পাঠ করে, তাকে একটি নেকি প্রদান করা হয়। প্রতিটি নেকি দশটি নেকির সমান। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ, মীম একটি হরফ।” (তিরমিজি)