মঙ্গলবার, ১৯শে ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং ৫ই পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদনে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার

AmaderBrahmanbaria.COM
নভেম্বর ২৩, ২০১৭
news-image

---

নিউজ ডেস্ক : নির্যাতন থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদনে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। আগামীকাল বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে এ চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।

বুধবার বিকালে নেপিদোতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে এ কথা জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

তিনি বলেন, আজ আমরা সন্তোষজনক আলোচনা করেছি। আমরা আশা করছি আগামীকাল চুক্তি স্বাক্ষর হবে।

স্থানীয় সময় বুধবার বিকাল ৫টা ১০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট পর্যন্ত নেপিদোতে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বাংলাদেশের ও মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দফতরের মন্ত্রী খিও তিন্ত সোয়ে তার দেশের নেতৃত্ব দেন।

এতে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম সুফিউর রহমান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দফতরের মন্ত্রীর মধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যুসহ দ্বিপাক্ষিক নানা ইস্যুতে লম্বা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার নেপিদোতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠক করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এরপর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে চুক্তিটি সম্পাদিত হবে।

মঙ্গলবার মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে চলতি সপ্তাহেই একটি স্মারক সই হবে। তার ভাষায় এরপরই বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যে চুক্তিটি সই হবে তাকে বলা হচ্ছে, রাখাইন রাজ্য থেকে আসা মিয়ানমারের নাগরিকদের ফেরত পাঠানো সংক্রান্ত অ্যারেঞ্জমেন্ট। এ চুক্তি চূড়ান্ত করার ব্যাপারে দু’দেশের কর্মকর্তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করছেন।

মিয়ানমার প্রথমে দুই দেশের মধ্যে ১৯৯২ সালের চুক্তির আলোকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার কথা বলেছিল। বাংলাদেশ বলেছে, সেই সময় এবং এখনকার চ্যালেঞ্জ এক নয়। ওই সময় রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর পোড়ানো হয়নি।

বাংলাদেশ একটি নতুন চুক্তির খসড়া মিয়ানমারের কাছে আগেই দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নতুন চুক্তির কিছু অংশ সংশোধন করে নতুন চুক্তির ব্যাপারে মিয়ানমার রাজি হয়েছে। এখন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর অন্তর্ভুক্ত থাকছে।

তবে মিয়ানমার বলছে, ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর আসা রোহিঙ্গাদেরই তারা ফিরিয়ে নিতে চায়। বাংলাদেশ বলছে, এ দেশে পালিয়ে আসা সব রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে হবে। ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, চুক্তিটি আজ-কালের মধ্যে যে কোনো দিন সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত আগস্টে রাখাইন রাজ্যে বিদ্রোহীবিরোধী অভিযান শুরুর জেরে বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি থেকে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। পুরনো রোহিঙ্গাসহ বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ।