মঙ্গলবার, ২৩শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং ১০ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

এখনও ১/১১’র আশংকা করছে আ’লীগ

আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া
জানুয়ারি ১১, ২০১৮
news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : এক/এগার থেকে আওয়ামী লীগ শিক্ষা নিলেও বিএনপি নেয়নি, যার কারণে এখনও ১/১১ এর আশংকা করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলির সভা শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আরেকটি ১/১১ হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেন থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি, কিন্তু বিএনপি নেয়নি। সে কারণে ভয় আছে। আশঙ্কা আছে।’

২০০৭ সালে ফখরুদ্দিনের আমলে ১১ জানুয়ারিতে জারিকৃত জরুরি অবস্থাকে ১/১১ বুঝায়। তখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন জেনারেল মঈন উদ্দিন আহমেদ।

সেই আশঙ্কার কথা বলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি তার বর্তমান অবস্থা জেনে গেছে। নির্বাচনের আগেই সারা দেশে আওয়ামী লীগের জোয়ার দেখে বিএনপি বুঝে গেছে যে আগামী নির্বাচনে তাদের পরিণতি কী।’

‘ভোট পাওয়ার মতো কোনো কাজ করেনি তারা। সে কারণে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করবে বিএনপি। আওয়ামী লীগ বিএনপির সেই দূরভিসন্ধি বাস্তবায়ন করতে দিবে না,’ বলেন ওবায়দুল কাদের।

নিজেদের দল এবং সরকারের চার বছর নিয়ে দলের ভেতরে কোনো সংকট বা ত্রুটি দেখেন কি না এই প্রশ্নের জবাবে এই নেতা আরো বলেন, ‘দলের ভেতরে ছোটখাটো সমস্যা থাকতেই পারে। সেকারণে কোথাও কোথাও সম্মেলন হয়নি।’

‘তবে দলকে আধুনিক এবং মাঠ সুসংগঠিত করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আগামী নির্বাচনে অংশ নেবো। ইতোমধ্যে আমাদের টিম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রত্যেকের সাংগঠনিক এলাকায় তারা টিমওয়ার্ক করে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান নিবে,’ যোগ করেন তিনি।

সরকারের সফলতা ব্যর্থতা নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ নিয়ে ১২ তারিখ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন। এরপর দলীয়ভাবে আমরা একটি সংবাদ সম্মেলনে আমাদের কথাগুলো বলবো।’

‘আপাতত এতটুকু বলা যায়, আমাদের ত্রুটি নেই এমনটি বলবো না। চাঁদেরও তো কলংক আছে। তাই বলে কি আলো থেমে থাকে? আমাদের অনেক সফলতা আছে ত্রুটিও আছে, তাই বলে আমাদের উন্নয়নকে ঢেকে রাখা যাবে না,’ বলেন ওবাদুল কাদের।

সিটি নির্বাচনে প্রার্থী প্রসঙ্গ

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আগামী ১৬ জানুয়ারি ঠিক করা হবে।’

ওই দিন দলের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

‘নেতাদের পরিবর্তে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ক্রমশ ব্যবসায়ীদের দিকে ঝুঁকছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল বলেন, ‘দলের প্রার্থী, দলীয় নেতা আর নির্বাচন এটার মধ্যে পার্থক্য আছে। এটা রাজনৈতিক কৌশল। স্ট্রাটেজিক এলায়েন্স। নির্বাচনে স্ট্রাটেজিক এলায়েন্স হয়।’

‘আর একজন রাজনীতিবিদ কী ব্যবসা করতে পারেন না? তারা চাঁদাবাজি করে খাবেন?’ পাল্টা প্রশ্ন করেন ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলির সভায় উপস্থিত ছিলেন- যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক আহমদ হোসেন, এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আক্তার, উপ প্রচার আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।