মঙ্গলবার, ২৪শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং ১১ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পাঁচ বছর ধরে বন্ধ দেড় হাজার পোশাক কারখানা

news-image

গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির নানা সমস্যায় পাঁচ বছর ধরে বন্ধ আছে প্রায় দেড় হাজার পোশাক কারখানা। আয়-ব্যয়ের তাল মেলাতে না পেরে ঝড়ে পড়ছে মাঝারি উদ্যোক্তাদের পোশাক খাত। এর বিপরীতে চালু হয়েছে নতুন নতুন বড় পোশাক কারখানা। এ পরিবর্তনকে ইতিবাচক বলেছেন বিশ্লেষকরা।

ক্রেতাদের শর্ত পূরণ করতে না পেরে বছরখানেক আগে বন্ধ হয়ে যায় অ্যালায়েন্স গ্রুপের মিরপুরের কারখানা। এখানে তৈরি ডেনিম রপ্তানি হতো এশিয়া-ইউরোপের অনেক দেশে।

গত ৫ বছরে বিজিএমইএ সরাসরি বন্ধ করেছে চারশ কারখানা আর সদস্যপদ বাতিল করেছে ৫৫০ কারখানার। মালিকরাই বন্ধ করেছেন দুইশ কারখানা। ১৮০ কারখানার সদস্যপদ বাতিল করেছে বিকেএমইএ। আর ২৩২ কারখানার সাথে ব্যবসায়ীক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে ক্রেতাজোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স।

বিজিএমইএ এর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ব্যবসা করতে পারছে কিন্তু তাদেরকে বায়ার ব্যবসা করতে দিচ্ছে না। অনেক সময় মার্কেটের ওপরে, কমপ্লায়েন্সে কাজ করে না, সিঁড়ির সমস্যা আছে, ফায়ার এক্সিটের সমস্যা সম্বলিত অনেক ফ্যাক্টরি আছে। এসবের কারণে অনেক ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেছে।

তবে কারখানা সম্প্রসারন ও আধুনিকিকরণে ব্যস্ত অনেকেই। ময়মনসিংহে ২০ লাইনের একটি গ্রিন ফ্যাক্টরি নির্মাণ করছেন উদ্যোক্তা। বিজিএমইএ এর হিসাবে, বছরে নতুন কারখানা হচ্ছে প্রায় দেড়শো। যার বড় একটা অংশ পরিবেশ বান্ধব।

অ্যাডামস অ্যাপারেলসের এমডি শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, গার্মেন্টস কারখানা একদিকে কমছে আবার অন্যদিকে বাড়ছে। যার কারণে প্রোডাক্টটা অনেক কমে যায়।

বিশ্লেষকরা জানান, কম সক্ষমতার কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কমে আসছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। পাশাপাশি বেশি সক্ষমতার নতুন কারখানায় গতিশীল থাকছে রপ্তানির ধারা।

বিআইডিএস জ্যেষ্ঠ গবেষক নাজনীন আহমেদ বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে যেমন ভারতও সেটার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সেটা হচ্ছে ছোট উদ্যোক্তা গিয়ে মাঝারি উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে, আর মাঝারি উদ্যোক্তারা ঝড়ে পড়ছে। উদ্যোক্তা ঝড়ে গেলেও অ্যামপ্লয়েন্স কমছে না।

বিশ্লেষকরা আরো জানান, রপ্তানির লক্ষ্য অর্জনে উদ্যোক্তাদের বেশি দামের পোশাক উৎপাদনে মনযোগি হতে হবে। পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগী হতে হবে সরকারকে।

সূত্র: ইনডিপেনডেন্ট টিভি

Print Friendly, PDF & Email