বুধবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং ৯ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

উচ্চস্বরে গানের প্রতিবাদ: নিহত বৃদ্ধকে মারধরের কথা রিমান্ডে স্বীকার সাজ্জাদের

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুরান ঢাকার ওয়ারীতে বাড়ির ছাদে উচ্চৈস্বরে গান বাজানোর প্রতিবাদের জেরে নিহত বৃদ্ধ নাজমুল হককে (৬৫) মারধরের কথা রিমান্ডে স্বীকার করেছেন আসামি সাজ্জাদ।

এ আসামি ঘটনার মূল হোতা ও রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ৪৪ নম্বর বাড়ির ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সভাপতি আলতাফ হোসেনের ছেলে।

গত শুক্রবার সকালে ওই বাড়িতে আলতাফের নেতৃত্বে নাজমুল হক ও তার ছেলেকে মারধর করা হয়। এতে একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে মারা যান বৃদ্ধ নাজমুল।

ওই দিনই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে আলতাফ, তার ছেলে সাজ্জাদ, মেয়ে রায়য়ান হাসনিন ও তাদের আত্মীয় মির্জা জাহিদ হাসানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরে এ ঘটনায় গ্রেফতার চারজনসহ সাতজনকে আসামি করে ওয়ারী থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের ছেলে নিবিড়।

সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হারুনুর রশিদ বলেন, গত শনিবার গ্রেফতারকৃতদের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত সাজ্জাদ ও জাহিদ হাসানকে একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে সাজ্জাদ এ হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

এসআই হারুন জানান, এ মামলায় হৃদয়, হোসনে আরা ও জিন্নাত আরা নামে আরও তিন আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান এ তদন্ত কর্মকর্তা।

নিহত নাজমুল হক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। তিনি পরিবার নিয়ে রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ওই বাড়ির নবম তলায় থাকতেন।

নিহতের মেয়ে নাফিসা হক যুগান্তরকে বলেন, ৪৪ আরকে মিশন রোডের ওই ভবনের ৮তলায় তাদের বাসা। ভবনের ১১তলায় কমিউনিটি হল রয়েছে। ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সভাপতি আলতাফ হোসেনের এক আত্মীয় হৃদয়ের গায়েহলুদ অনুষ্ঠান উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাতে কমিউনিটি হলে উচ্চ শব্দে বাদ্যযন্ত্র ও গান বাজানো হচ্ছিল।

নাফিসা হক বলেন, আমার বাবা হার্ট ও কিডনির রোগী। ২০০৫ সালে তার বাইপাস অপারেশন করানো হয়েছে। গান-বাজনার তীব্র আওয়াজে তার সমস্যা হচ্ছিল। এ কারণে রাতেই আমরা বিল্ডিংয়ের কেয়ারটেকারের মাধ্যমে খবর পাঠিয়ে বাদ্যযন্ত্র একটু কম শব্দে বাজানোর অনুরোধ জানাই। এতে আলতাফ হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। তারা আমাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন।

তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে বিয়েবাড়ির লোকজন এসে বাড়ির নিচে মারধর করে আমার ছোট ভাই (নাজমুল হকের ছেলে) নিবিড়কে। এ সময় তাকে উদ্ধার করতে আমি এবং বাবা ও ভাবী এগিয়ে গেলে তারা আমাদেরও মারধর করেন। তাদের টানাহেঁচড়ার একপর্যায়ে বাবা (নাজমুল হক) ফ্লোরে পড়ে যান। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর ১২টায় মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছেলে নিবিড় বলেন, যার বিয়ে সেই হৃদয় আমাকে কলার ধরে টেনে নিয়ে মারধর করেছে। সে আমার বোন ও স্ত্রীর সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী জোনের এসি সোহেল রানা বলেন, ভিকটিমের ছেলেমেয়ে বলেছে- তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এ কাজ করেছে। আর সিসিটিভি ফুটেজ দেখেও আমাদের তাই মনে হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email