বৃহস্পতিবার, ১৫ই মার্চ, ২০১৮ ইং ১লা চৈত্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

ত্রিভুবন নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ৬ কর্মকর্তা বদলি

দেশটির ইংরেজি নিউজ পোর্টাল মাই রিপাবলিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনা প্রত্যক্ষ করার ধাক্কা ‘সামলে ওঠার সুযোগ দিতে’ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ ব্যবস্থা নিয়েছে।

ঢাকা থেকে ৬৭ জন যাত্রীসহ ৭১ জন আরোহী নিয়ে সোমবার দুপুরে ত্রিভুবনে নামার সময় ইউএস-বাংলার ফ্লাইট ফ্লাইট বিএস ২১১ রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়।

ওই উড়োজাহাজে নেপালের ৩৩ জন, বাংলাদেশের ৩২ জন এবং চীন ও মালদ্বীপের একজন করে যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, ২২ জনকে কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর।

ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ মডেলের ওই উড়োজাহাজটি কেন দুর্ঘটনায় পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে পাইলটের শেষ মুহূর্তের কথোপকথনের একটি রেকর্ড প্রকাশ পেয়েছে, যাতে মনে হয়  রানওয়েতে নামা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

ত্রিভুবন কর্তৃপক্ষ বলেছে, যে দিক দিয়ে বিমানটির রানওয়েতে নামার কথা ছিল, পাইলট নেমেছেন তার উল্টো দিক দিয়ে। অন্যদিকে ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ এ দুর্ঘটনার জন্য ত্রিভুবনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ এনেছে।

তবে নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের উপ মহা পরিচালক রাজন পোখারেল বলেছেন, ওই অডিও রেকর্ডের সঙ্গে ছয় কর্মকর্তাকে বদলির কোনো সম্পর্ক নেই।

তার ভাষায়, দুর্ভাগ্যজনক এমন দুর্ঘটনার পর মানসিক চাপ লাঘবের এটাই প্রচলিত নিয়ম।

“তাদের সামনে বড় ধরনের একটি বিপর্যয় ঘটেছে। তাদের মনের ওপর এতে বড় ধরনের চাপ পড়েছে। এ কারণে আমরা তাদের অন্য বিভাগে বদলি করেছি।”

ইউএস বাংলার জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম মঙ্গলবার ঢাকায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, বিএস ২১১ এর দুর্ঘটনার পেছনে পাইলট আবিদ সুলতানের কোনো ভুল ছিল না।

“ইউএস-বাংলার ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ মডেলের বিমানে তিনি ১৭০০ ঘণ্টা ফ্লাই করেছেন। বাংলাদেশের এভিয়েশনে ৫০০০ ঘণ্টার উপরে কাজ করেছেন। কাঠমান্ডু এয়ারফিল্ডে শতাধিক ল্যান্ডিং ওনার আছে। এয়ারফিল্ড, এয়ারক্রাফট ওনার জন্য নতুন কিছু না।  আমাদের মনে হয় না, এখানে ক্যাপ্টেনের কোনো ভুলভ্রান্তি আছে।”

ত্রিভুবন বিমানবন্দরের জেনারেল ম্যানেজার রাজ কুমার ছেত্রীর বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তদন্তকারীরা সোমবারই ধ্বংসস্তূপ থেকে ফ্লাইটের ডেটা রেকর্ডার উদ্ধার করেছেন।

এ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে নেপাল সরকার।

দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাবেক মহাপরিচালক যজ্ঞ প্রসাদ গৌতমের নেতৃত্বে ওই কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email