বুধবার, ২৩শে মে, ২০১৮ ইং ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তান ফেরত ভারতীয় প্রতিবন্ধী নারীর ২০ বিয়ের প্রস্তাব!

news-image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের এক মুক ও বধির নারীর জন্য মন্দিরের পুরোহিত ও লেখকসহ ২০ জন বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। গীতা নামের ওই নারীর জন্য ফেসবুকে বিয়ের বিজ্ঞাপন দেয়ার পর এমন সাড়া পড়েছে। খবর খালিজ টাইমসের।

দিল্লির একজন অধিকারকর্মী জ্ঞানেন্দ্র পুরোহিত কয়েক দিন আগে গীতার জন্য ফেসবুকে বিয়ের পাত্র চেয়ে পোস্ট দেন। গীতার হারিয়ে যাওয়া বাবা-মাকে খুঁজে পেতে এই জ্ঞানেন্দ্রই তাকে সাহায্য করছেন।

জ্ঞানেন্দ্র বলেন, ২০ জন পুরুষ গীতাকে বিয়ের জন্য আগ্রহ দেখিয়েছেন। তারা তাদের জীবন-বৃত্তান্তও পাঠিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২ জনই আবার প্রতিবন্ধী। তবে বাকিরা স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, আগ্রহী ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মন্দিরের পুরোহিত ও আরেকজন নিজেকে লেখক বলে দাবি করেছেন।

এর আগে জ্ঞানেন্দ্র দাবি করেছিলেন, গীতার জন্য বিয়ের পাত্র দেখতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
গীতার বাবা-মাকে খুঁজে বের করার জন্য ফেসবুকে ‘রিইউনাইট গীতা, এ ডেফ গার্ল, উইথ হার ফ্যামিলি’ পেজে ওই বিয়ের পোস্ট দেন জ্ঞানেন্দ্র। ১০ এপ্রিল খোলা এই পেজের বিজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘আমরা ভারতের মেয়ে গীতার’ জন্য ২৫ বছরের বেশি বয়সী ‘ভালো ও স্মার্ট বধির ছেলে’ খুঁজছি।

ওই বিজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, গীতা নিজেই প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করবেন এবং কেন্দ্রীয় সরকার অন্যান্য বিষয়গুলো দেখভাল করবে।

গীতা আপাতত মুক-বধির সংগঠন নামের একটি এনজিও-তে বসবাস করছেন। আর তার দেখভাল করছে মধ্যপ্রদেশ সোশ্যাল জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট।

সাত-আট বছর বয়সে সামঝাউটা এক্সপ্রেস নামের ট্রেনের মধ্যে পাওয়া যায় গীতাকে। তখন ধারণা করা হয়েছিল সে হয়তো ভারতের কোনো একটি স্থান থেকে ভুলক্রমে লাহোরগামী ওই ট্রেনে উঠে পড়েছিল।

করাচিভিত্তিক এদি ফাউন্ডেশন পাকিস্তানে থাকা অবস্থায় গীতার খেয়াল রেখেছিল। পরে ২০১৫ সালে গীতা ভারত ফিরে আসতে সক্ষম হয়।

এদিকে ভারত ফেরার পর কমপক্ষে ১০ দম্পতি নিজেদের গীতার বাবা-মা হিসেবে দাবি করেছেন। যদিও তারা তাদের দাবির স্বপক্ষে জোরালো দলিল দেখাতে পারেনি।

Print Friendly, PDF & Email