বুধবার, ২৩শে মে, ২০১৮ ইং ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন হুইটনি!

news-image

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রয়াত গায়িকা হুইটনি হিউস্টন যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। তার জীবন অবলম্বনে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘হুইটনি’র মাধ্যমে এ অভিযোগ তোলা হয়েছে। কান উৎসবের ৭১তম আসরে মিডনাইট স্ক্রিনিংয়ে বুধবার (১৬ মে) রাত সোয়া ১২টায় গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে এর উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়। এটি নির্মাণ করেছেন স্কটিশ পরিচালক কেভিন ম্যাকডোনাল্ড।

হুইটনির পরিবারের সহযোগিতায় তৈরি হয়েছে এই প্রামাণ্যচিত্র। এতে বন্ধুদের দাবি, হুইটনিকে শৈশবে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন তার কাজিন আমেরিকান সৌল ঘরানার গায়িকা ডি ডি ওয়ারউইক। তিনি হলেন মার্কিন গায়িকা ডিওন ওয়ারউইকের ছোট বোন।

নির্মাতা কেভিনকে হুইটনির দীর্ঘদিনের সহকারী মেরি জোন্স জানান, প্রয়াত এই গায়িকাই তার কাছে এই তথ্য উন্মোচন করেন। যৌন হয়রানির ঘটনাই তাকে মাদকের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করেন মেরি।

হুইটনির সৎ ভাই গ্যারি গারল্যান্ড-হিউস্টনও দাবি করেন, তার বোন সাত থেকে নয় বছর বয়সের মধ্যে পরিবারের এক সদস্যের হাতে নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। তবে জনসমক্ষে কখনও এ নিয়ে মুখ খোলেননি তিনি।

২০১২ সালে ৪৮ বছর বয়সে হোটেলের বাথটাবে ডুবে হুইটনির মৃত্যু হয়। হৃদরোগ ও মাদকাসক্তির কারণে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তার মা সিসি হিউস্টনের ভাগ্নি ছিলেন ডি ডি ওয়ারউইক। ডিওন ও ডি ডি মাঝে মধ্যে সিসির গসপেল গানের দল ড্রিঙ্কার্ড সিঙ্গারসে গাইতেন।

সিসি ট্যুরে থাকার সময় তার মেয়েকে যৌন নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছিল বলে দাবি অভিযোগকারীদের। এ কারণে ট্যুরে গেলে নিজের মেয়ে ববি ক্রিস্টিনা ব্রাউনকে সঙ্গে রাখতেন তিনি।

২০০৭ সালে স্বামী ববি ব্রাউনের সঙ্গে তার বিয়েবিচ্ছেদ ঘটে। ছয় মাস কোমায় থাকার পর ২০১৫ সালে মায়ের মতো ২২ বছরের মেয়েকে বাথটাবে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

হুইটনির চেয়ে ১৮ বছরের বড় ডি ডি ওয়ারউইক দু’বার গ্র্যামি মনোনয়ন পান। অ্যারেথা ফ্রাঙ্কলিন, উইলসন পিকেটসহ কয়েকজনের সহশিল্পী হিসেবে কণ্ঠ মেলাতেন তিনি। ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন এই গায়িকা।

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’, ‘আই ওয়ানা ড্যান্স উইথ সামবডি’র মতো গান উপহার দিয়েছিলেন হুইটনি। আগামী ৬ জুলাই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘হুইটনি’।

এর আগে রোলিং স্টোনস ব্যান্ডের গায়ক মিক জ্যাগারের ওপর বিইং মিক (২০০১), কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী বব মার্লের ওপর মার্লে (২০১২) নির্মাণ করে প্রশংসিত হন কেভিন ম্যাকডোনাল্ড। হুইটনিতে রয়েছে এই গায়িকার মঞ্চ পরিবেশনার ফুটেজ আর অপ্রকাশিত স্থিরচিত্রও আছে।

স্পেশাল স্ক্রিনিং
এ বিভাগে বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় ছিল ‘অন দ্য রোড ইন ফ্রান্স’-এর উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয় সাল দ্যু সোসানতিয়েমে। ‌১৯৬৮ সালে মে মাসে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের এক তীব্র বিক্ষোভ-বিদ্রোহে কেঁপে উঠেছিল গোটা বিশ্ব। ভিয়েতনাম যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে রক্ষণশীল ও কর্তৃত্ববাদী সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন তারা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন ফ্রান্সের শ্রমিকরাও।

সেই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার দু’জন মানুষ ড্যানি কোন-ব্যান্ডিট ও রোমান গুপিল ৫০ বছর পর ফ্রান্স জুড়ে ঘুরে বেড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এই পথচলায় তারা ফরাসিদের পর্যবেক্ষণ করেছেন, তাদের কথা শুনেছেন, বিতর্কে অংশ নিয়েছেন। ফ্রান্সের সমস্যা ও আশা খুঁজেছেন।

এছাড়া প্রতিযোগিতা বিভাগের বাইরে (আউট অব কম্পিটিশন) উৎসবের অষ্টম দিন প্রদর্শিত ‘সলো: অ্যা স্টার ওয়ারস স্টোরি’ বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে আবারও দেখানো হয়েছে।

প্রতিযোগিতা বিভাগ
স্বর্ণ পামের দৌড়ে থাকা দক্ষিণ কোরিয়া লি চ্যাং-ডং পরিচালিত ‘বার্নিং’ ছবির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়েছে গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়ের ও সাল দুবুসিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। ডেলিভারিম্যান জংসু তার এক সময়ের প্রতিবেশী হায়েমির জন্য চাকরি ছেড়ে দেয়। মেয়েটি আফ্রিকায় যাবে, তাই তার বিড়ালকে দেখভালের দায়িত্ব নেয় জংসু। বেড়ানোর সময় পরিচিত হওয়া বেনকে সঙ্গে নিয়ে ফেরে হায়েমি। একদিন জংসুকে নিজের সবচেয়ে অস্বাভাবিক শখের কথা বলে বেন। সাল বাজিনে রাত পৌনে ৭টা ও রাত ১০টায় ছিল এর আরও দুটি প্রদর্শনী।

লি চ্যাং-ডংয়ের সবশেষ ছবি ‘পয়েট্রি’ ২০১০ সালে কান উৎসবে সেরা চিত্রনাট্য পুরস্কার জেতে। ‘বার্নিং’ তার ষষ্ঠ পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি। এর চিত্রনাট্য তৈরি হয়েছে হারুকি মুরাকামির ছোটগল্প অবলম্বনে। তার নতুন ছবি বানাতে লেগেছে আট বছর।

গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে রাত ১০টায় মাত্তিও গারোনের ‘ডগম্যান’ ছবির প্রদর্শনী হয়েছে। আশির দশকের ইতালির রোমের প্রেক্ষাপটে এর গল্প কুকুরের গ্রুমার মার্সেলোকে ঘিরে। লোকটা শান্তশিষ্ট ও ভদ্রগোছের। কিন্তু জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর প্রতিবেশীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া সাবেক বক্সার সিমোনসিনোর সঙ্গে বিপজ্জনক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে সে। মানুষ হিসেবে মর্যাদা ধরে রাখতে অপ্রত্যাশিত প্রতিহিংসা তৈরি হয় তার মধ্যে।

কানের প্রতিযোগিতা বিভাগে এ নিয়ে চতুর্থবার জায়গা করে নিলেন ইতালিয়ান নির্মাতা মাত্তিও গারোন। ২০১২ সালে ‘রিয়েলিটি’ ও ২০০৮ সালে ‘গোমোরাহ’ তাকে এনে দেয় কানের গ্রাঁ প্রিঁ প্রাইজ। আগামী ১১ জুলাই ফ্রান্সে মুক্তি পাবে তার নতুন ছবি ‘ডগম্যান’।

মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে উৎসবের অষ্টম দিনে দেখানো ডেভিড রবার্ট মিচেলের ‘আন্ডার দ্য সিলভার লেক’ বুধবার গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে সকাল সাড়ে ৮টা ও দুপুর পৌনে ৩টায়, সাল দুবুসিতে সকাল সাড়ে ৮টায়, সকাল সাড়ে ১১টায় সাল দ্যু সোসানতিয়েম ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অলিম্পিয়ায় আবারও দেখানো হয়। উৎসবের অষ্টম দিন প্রদর্শিত স্টেফানি ব্রিজের ‘অ্যাট ওয়ার’ বুধবার সকাল ৯টায় সাল দ্যু সোসানতিয়েমে ছিল আবারও।

আঁ সার্তেন রিগার্দ
এ বিভাগে সকাল সাড়ে ১১টা ও বিকাল সাড়ে ৪টায় সাল দুবুসি থিয়েটারে ছিল মরক্কোর নারী নির্মাতা মরিয়ম বেনেমবারেক পরিচালিত ‘সোফিয়া’। এর গল্প ২০ বছরের তরুণী সোফিয়াকে ঘিরে। মা-বাবার সঙ্গে ক্যাসাব্ল্যাঙ্কায় থাকে সে। বিয়ে ছাড়াই সন্তানের মা হয়ে আইন ভঙ্গ করে মেয়েটি। সন্তানের বাবার নাম জানাতে হাসপাতাল থেকে তাকে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। এরপর তারা জানিয়ে দেবে সরকারকে।

‘সোফিয়া’ হলো মরিয়ম বেনেমবারেকের প্রথম ছবি। তাই তিনি আছেন ক্যামেরা দ’র পুরস্কারের দৌড়ে। এর আগে কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি বানিয়ে হাত পাকিয়েছেন তিনি।

পর্তুগালের জোয়াও সালাভিজা ও ব্রাজিলের নারী নির্মাতা রেনে নাদের মেসোরার ‘দ্য ডেড অ্যান্ড দ্য আদারস’ সাল দুবুসিতে দেখানো হয় দুপুর ২টা ও রাত সোয়া ১০টায়। এর গল্প ব্রাজিলের ১৫ বছর বয়সী আদিবাসী কিশোর আইজ্যাককে ঘিরে। বাবাকে হারানোর পর থেকে দুঃস্বপ্ন তাড়া করে তাকে। চেনা মানুষ ও সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে সমকালীন ব্রাজিলের শহরে আদিবাসী হিসেবে বেঁচে থাকার বাস্তবতা উপলব্ধি করতে থাকে।

উৎসবের অষ্টম দিন প্রদর্শিত ভ্যালেরিয়া গলিনোর ‘ইউফোরিয়া’ বুধবার দুপুর সোয়া ১টায় আবারও দেখানো হয়েছে সাল দ্যু সোসানতিয়েমে। এ বিভাগে উৎসবের অষ্টম দিন দেখানো বাই গান পরিচালিত ‘‘লং ডে’স জার্নি ইনটু নাইট’’ বুধবার বিকাল পৌনে ৫টায় সাল দুবুসি থিয়েটারে ছিল আবারও। উৎসবের সপ্তম দিন প্রদর্শিত আতিয়েন কালোসের ‘দ্য হার্ভেস্টারস’ সাল দ্যু সোসানতিয়েমে বুধবার রাত ১০টায় দেখানো হয় আবারও।

ধ্রুপদি ছবি
কান ক্ল্যাসিকসের অংশ হিসেবে সাল বুনুয়েলে বুধবার দুপুর আড়াইটায় ছিল সেনেগালের সাফি ফেই পরিচালিত “ফাড’জেল” (১৯৭৯)। ১৯৭৯ সালে আঁ সার্তেন রিগার্দে এটি নির্বাচিত হয়েছিল।

একই ভেন্যুতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দেখানো হয় ইতালির ভিত্তোরিও ডি সিকার ‘বাইসাইকেল থিভস’ (১৯৪৮)। এটিকে ধরা হয় বিশ্ব সিনেমার সবচেয়ে সেরা ছবিগুলোর একটি। ১৯৪৯ সালে অস্কার জেতে এই ছবি।

প্যারালাল সেকশন
কান উৎসবের প্যারালাল সেকশন ক্রিটিকস উইক ও ডিরেক্টরস ফোর্টনাইটে আগের আট দিনের মতো বুধবারও বেশ কয়েকটি ছবির প্রদর্শনী হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিনের মতো মুক্ত ছবি ও এর পরিবেশনার সংগঠন এসিডের আয়োজন তো ছিলই। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Print Friendly, PDF & Email