শনিবার, ২৩শে জুন, ২০১৮ ইং ৯ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে ফুটবল বিশ্বকাপের পতাকা বিক্রির ধুম

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ১৪ জুন রাশিয়ায় বসতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২১তম আসর। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশে এক মাস আগে থেকেই ফুটবল ম্যানিয়া শুরু হয়েছে ঘরে-বাইরে। অফিস-আদালতপাড়া-মহল্লায় কিশোর ও যুবকদের মধ্যে এখনি শুরু হয়েছে সমর্থকগোষ্ঠী তৈরির কাজ। প্রিয় দলের পতাকা তৈরি এবং আকাশে উড়িয়ে দেয়ার ধুমও শুরু হয়েছে। এ উন্মাদনা শুধু ঢাকা শহরে নয়, গোটা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে।

ভক্তদের আগ্রহের কথা চিন্তা করে এরইমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতান, অলিগলিতে পতাকা বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। প্রতি চার বছর অন্তর এমনই ক্ষুদ্র বাণিজ্যের সূচনা হয়। ব্যতিক্রম থাকছে না এবারও।

বাজারে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগালসহ অনেক দেশের পতাকা পাওয়া যাচ্ছে। গুলিস্তান, বঙ্গবাজার, শ্যামপুর, সদরঘাট, মিরপুর, গাবতলী, মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন দেশের পতাকা।

রাজধানীর পথে-ঘাটে এরইমধ্যে বিক্রি হচ্ছে পতাকা। হকারদের ফুটপাত কিংবা ফেরি করে পতাকা বিক্রি করতে দেখা গেছে। সোমবার ঢাকার গুলিস্তান, ফার্মগেট, মহাখালী, পল্টন, মৌচাক, মতিঝিল ঘুরে দেখা যায়, সব বয়সী মানুষই হকারদের ডেকে পতাকা কিনছেন। আড়াই থেকে তিন ফিটের প্রতিটি পতাকার মূল্য ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দাম হাঁকছেন হকাররা।

তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্বকাপ আসার এক মাস আগে থেকেই চলে বেচাবিক্রি। যতই দিন যাবে, ততই বিক্রি বাড়বে। আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের পতাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান হকাররা। এদিকে হকারের হাতে থাকা স্ট্যান্ডে সাজানো বাহারি রকমের সব পতাকা। প্রতিটি পতাকার মূল্য ২০-৫০ টাকা।

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত জায়গা ফার্মগেটে কথা হয় শফিকুল ইসলামের সাথে। তিনি বিশ্বকাপকে ঘিরে পথে পথে পতাকা ফেরি করে বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, বছরের অন্যান্য দিন রঙের কাজ করি। সামনে বিশ্বকাপ তাই বাড়তি আয়ের আশায় বি‌ভিন্ন স্থা‌নে ঘু‌রে ঘু‌রে পতাকা বিক্রি করি। শ্যামপুর ও বঙ্গবাজার থে‌কে পতাকা কি‌নে আনি।

পতাকা কেমন বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে শফিকুল বলেন, বেচাকেনা শুরু হয়েছে। অনেকে দাম জানতে চাইছেন। দামে মিললে কিনেও নিচ্ছেন।

গুলিস্তানে কথা হয় মোহাম্মদ শহিদুলের সাথে। তিনি গুলিস্তানের আন্ডারপাসের পাশে পতাকা বিক্রি করছিলেন। তিনি জানান, অন্যান্য সময় তিনি জামাকাপড় বিক্রি করলেও বিশ্বকাপের আগে তিনি পতাকা ও জার্সি বিক্রি করে আসছেন কয়েক বিশ্বকাপ ধরে। এখনও তেমন বিক্রি বাড়েনি। দৈনিক ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার পতাকা বিক্রি করেন। দাম নির্দিষ্ট না করে যার কাছ থেকে যেমন টাকা নেয়া যায় সে হিসেবে তিনি পতাকা বিক্রি করে থাকেন।

দৈনিক বাংলা মোড়ে কথা হয় পতাকা বিক্রেতা ১৬ বছর বয়সী করিমের সাথে। তিনি জানান, তিনি হোটেলে কাজ করেন। বেশি লাভের আশায় এ ব্যবসায় নেমেছেন। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হেঁটে হেঁটে পতাকা বিক্রি করেন তিনি। কোন দলের পতাকা বেশি বিক্রি হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকাই বেশি বিক্রি হয়।

ফুটবল বিশ্বকাপের ২২তম আসরে অংশ নিয়েছে ৩২ দেশ। টানা এক মাস চলবে ফুটবল যুদ্ধ। এবার বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে বিশ্ব মানচিত্রের সবচেয়ে বড় দেশ রাশিয়া। বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে রাশিয়ার ১১টি শহরে প্রস্তুত করা হয়েছে ১২টি স্টেডিয়াম।

Print Friendly, PDF & Email