শনিবার, ২৩শে জুন, ২০১৮ ইং ৯ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বাড়ি ফেরার আগেই পরমাণু চুক্তি বাতিল করতে পারেন ট্রাম্প: ইরান

news-image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশ্বাস না করতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে মঙ্গলবার সতর্ক করে দিয়েছে ইরান। তারা বলছে, ট্রাম্প পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির সইয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা বাতিল করতে পারে। খবর রয়টার্সের।

এক মাস আগে ইরানের সঙ্গে একই ধরনের একটি চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র বাতিল করার পর তেহরান কিমকে ওয়াশিংটনের ব্যাপার নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে সতর্ক করে দিলো।

পিয়ংইয়ংকে নিরাপত্তা দেয়ার ব্যাপারে ওয়াশিংটন আশ্বস্ত করার পর সিঙ্গাপুরে মঙ্গলবারের ওই বৈঠকে ট্রাম্প ও কিম কোরিয়ান উপদ্বীপে সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে একমত হন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা সরকারের মুখপাত্র মোহাম্মদ বাঘের নোবাখতকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, আমরা জানি না উত্তর কোরিয়ার নেতা কোন ধরনের মানুষের সঙ্গে আপোস করছেন। তিনি (ট্রাম্প) বাড়ি ফেরার আগেই যে ওই চুক্তি বাতিল করবেন না এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই।

নোবাখত এসময় ট্রাম্পের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, এই ব্যক্তি মার্কিনিদের প্রতিনিধিত্ব করেন না এবং আগামী নির্বাচনে জনগণ তার থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেবে।

২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ছয় জাতির একটি চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়া ছাড়াও শনিবার জি-সেভেনের বৈঠকস্থল ত্যাগ করার কয়েক ঘণ্টার পর গ্রুপটির একটি যৌথ বিবৃতিতে সই করতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমন আচরণে খুশি ইসরায়েল কিমের সঙ্গে ট্রাম্পের এই বৈঠকের প্রশংসা করেছে। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, কোরীয় উপদ্বীপে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পরমাণু অস্ত্র সমৃদ্ধকরণে ইরানের প্রচেষ্টা একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের যুদ্ধংদেহী মনোভাব রুখতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শক্ত অবস্থান নিচ্ছেন।
ওই অঞ্চলে কেবল ইসরায়েলের কাছেই পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে ধারণ করা হয়।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি তেহরানের সঙ্গে একটি নতুন পরমাণু চুক্তি করতে রাজি আছেন। যদিও ট্রাম্পের দাবি তার উত্তরসূরি বারাক ওবামার সময় করা বর্তমান চুক্তি ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে।

এছাড়া যে শর্তানুযায়ী আন্তর্জাতিক পরিদর্শকরা ইরানের সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থান পরিদর্শন করবেন এবং একইসঙ্গে ‘সানসেট’ ক্লজ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন ট্রাম্প। সানসেট ক্লজ অনুযায়ী ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিতকরণের মেয়াদ ১০ বছর পর শেষ হবে।
তবে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যেকোনও চুক্তিতে অপরিবর্তনীয় এবং যাচাইযোগ্য পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করা হবে বলে জোর দিয়েই বলেছেন ট্রাম্প।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশটির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করবে ওয়াশিংটন। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে দেশটির তেল খাত ও ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লেনদেন।
তবে ছয়জাতির বাকি দেশগুলো-ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি ও রাশিয়া চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার সমালোচনা করেছে এবং তারা চুক্তি বহাল রাখার ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email