শনিবার, ২৩শে জুন, ২০১৮ ইং ৯ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

রয়টার্সের আটক সাংবাদিকদের অত্যাচার করছে মিয়ানমার

news-image

মিয়ানমারে আটক রয়টার্সের সাংবাদিকরা পুলিশি তদন্তের সময় নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে দাবী করেছেন। তারা জানিয়েছেন তাদের ঠিকমতো ঘুমাতে দেয়া হচ্ছেনা। কয়েকমাস পূর্বে এই দুই সাংবাদিককে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক করে মিয়ানমারের পুলিশ।

সোমবার এই সাংবাদিকদের আইনজীবি থান জাউ আঙ মিয়ানমারের পুলিশ ক্যাপ্টেন মিয়ান্ট লুইনকে আদালতে জেরা করেন। তিনি লুইনের কাছে জানতে চান গত বছরের ১২ ডিসেম্বর আটকের পর থেকে এই সাংবাদিকরা ঘুমাতে পারছেন না এই ব্যাপারে ইয়াঙ্গুনের পুলিশ প্রধান অবগত আছেন কিনা। তিরি স্বাক্ষ্য দিতে আসা ক্যাপ্টেন লুইনকে জানান সাংবাদিক কিয়াও সোয় ও কে জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রায় ৩ ঘন্টা হাঁটু গেড়ে থাকতে বাধ্য করা হয়েছিলো।

এই চাঞ্চল্যকর মামলাটি মিয়ানমারের আদালতে জানুয়ারি মাস থেকে ঝুলে আছে। কিয়াও সোয় ও এবং ওয়া লোনকে উপনিবেশিক আমলের ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ এর আওতায় বিচার করা হবে কিনা এই ব্যাপারে আদালত এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এই আইনের আওতায় এই দুই গণমাধ্যম কর্মীর ১৪ বছরের কারাদ- হতে পারে। ইয়াঙ্গুনের পুলিশ প্রধান মিন্ট লুইন এই দুই সাংবাদিকের আটকের পর থেকে প্রাথমিক তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সাংবাদিকদের ঘুমাতে না দেয়া বা হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন তার অধিনে থাকা কোন পুলিশ কর্মকর্তার এই ধরণের অপকর্ম করার কোন সুযোগ নেই। জেরার সময় লুইন এও জানান জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাংবাদিকদের কোন বিশেষ স্থানে নেয়া হয়নি।

আদালতে স্বাক্ষ্য গ্রহণের পর এই দুই সাংবাদিকরা নিজেরাই জানিয়েছেন তাঁদের উপর শারিরিক এবং মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। তাদের দিনের পর দিন ঘুমাতে না দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা জেরা করা হয়েছে। জেরার সময় তাদের বারেবারে গুপ্তচর বলে অভিহিত করা হয়। এই দুই সাংবাদিক রোহিঙ্গা গণহত্যা চলাকালে একটি গ্রামে পরিকল্পিত গণহত্যা চালানো হয়েছে এমন প্রমান সংগ্রহ করে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেন। রয়টার্সে প্রকাশিত এই রিপোর্ট বিশ্ব মিডিয়ায় ব্যাপক সারা ফেলে। এর ভিত্তিতেই মিয়ানমারের জান্তা তাদের গ্রেফতার করে।- রয়টার্স

Print Friendly, PDF & Email