সোমবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

হাতুড়ি পেটায় দু’পা ভাঙা তরিকুলকে বের করে দিয়েছে হাসপাতাল

news-image

নিউজ ডেস্ক: গত সোমবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের লাঠি, হাতুড়ি ও রামদার আঘাতে দুই পা ভেঙে যাওয়া শিক্ষার্থী তরিকুল সুস্থ না হলেও তাকে ছাড়পত্র দিয়ে বের করে দিয়েছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) বিকালে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

তরিকুলের ছাড়পত্রে সাক্ষর করেছেন রামেক হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক সুব্রত প্রামাণিক। তিনি জানান, তার (তরিকুল) সঙ্গে কোনও অবিচার করা হয়নি। তার পা প্লাস্টার করে দেওয়া হয়েছে। এখন দুই সপ্তাহ অবজারভেশনের জন্য রাখা হয়েছে। দুই সপ্তাহ পর তাকে আবারও হাসপাতালে নিয়ে আসতে বলা হয়েছে।’

তবে তরিকুলের সহপাঠীরা অভিযোগ করেন, ‘তরিকুলের পায়ে কোনও প্লাস্টারই করা হয়নি। দুদিন পর পর ড্রেসিং করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে আহত তরিকুল বলেন ,‘কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। একা হাঁটাচলা করতে পারছি না। এপাশ-ওপাশ করতেও খুব কষ্ট হচ্ছে। ডাক্তার যখন রিলিজ দিচ্ছিলেন, তখন আমি একা ছিলাম। আমি স্যারকে রিলিজ না দিতে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তিনি ১৫ দিন পর আসতে এবং দু’দিন পর পর ড্রেসিং করতে বলেছেন। তখন বিষয়টি আমার সহপাঠীদের জানাই। তারা প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলে। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। পরে আমার সহপাঠীরা আমাকে রয়্যাল হাসপাতালে নিয়ে আসে।’

তরিকুল আরও বলেন, ‘এর আগে সকাল ৮টার দিকে তিন জন নতুন পুলিশ দায়িত্বে আসে। তাদের একজন আমার হাতে হাতকড়া পরাতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু অন্য একজন পুলিশ তাকে বাধা দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডাও হয়। পরে আর হাতকড়া পরাননি তারা।’

তরিকুলের সহপাঠীরা জানান, বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) দুপুর দু’টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যখন তরিকুলকে রিলিজ দেওয়ার কথা বলছিল। তখন আমরা প্রক্টরের কাছে যাই। আমরা প্রক্টরকে বলি, স্যার তরিকুলের অবস্থা খুবই খারাপ। তাকে কর্তৃপক্ষ রিলিজ দিচ্ছে। আপনি যদি তাদের বলে দেন, তাহলে হয়তো রিলিজ দেবে না। কিন্তু প্রক্টর জানান,কর্তৃপক্ষ রিলিজ দিলে তার কিছুই করার নেই।

এদিকে, তরিকুলের ওপর হামলার বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কোটা সংস্কারের নামে তারা ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। এসময় আমরা মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিই। আমাদের হাতে কোনও লাঠি বা অস্ত্র ছিল না। তবে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শিবির ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চাইলে আমরা তা প্রতিহত করেছি।’ সূত্র: পূর্বপশ্চিম