সোমবার, ১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পাঠক মতামত ‘আমাদের টাকা আমাদের দিচ্ছে তাও আবার খোটা শুনতে হয়’

news-image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ১৫ টাকা সিট ভাড়া ৩৮ টাকা খাবার খেয়ে লাফালাফি। তাহলে সিটভাড়া আর খাবারে বাজারদর যা রয়েছে, তাদের তা দিতে হবে। সেটা তারা দিক। প্রধানমন্ত্রীর এই কথার প্রেক্ষিতে আমাদেরসময়.কম এর এক পাঠক বলেন, আমাদের করের টাকা আমাদের ছেলে মেয়েদের দিচ্ছে তাতেও আবার খোটা শুনতে হয়।

বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই ) প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আমাদেরসময়.কম এর ফেসবুক পেজ-এ শেয়ার হওয়ার পর অনেক পাঠক তাদের মতামত জানিয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে কয়েক জনের মতামত তুলে ধরা হলো।

জামি শামস লিখেছেন, কথায় একটু লাগাম দিন প্লিজ। টাকাটা বাংলাদেশের। এভাবে বলা মানে আপনার ব্যক্তিগত টাকা দিচ্ছেন?

ইয়াসিন মান্নান বলছেন, এই গুলোতো দেশের জনগণের টাকা।

আফরোজ জামান- দেশ বাসিকে সঠিক সিদ্ধান্ত জনানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।

মো. তাইয়েবুর রহমান মনে করেন, র্নিবাচনের আগে এই কোটা ইস্যু নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর টালবাহানা অনুচিত।

আধারা সিমতা লিখেছেন, এই টাকাটাও শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে নেওয়া উচিত না। কারণ ওরা বেকার এবং জাতীর ভবিষ্যত।

আশরাফি খানোম মনিকা বলছেন, এই ধরনের কথা বলে জনগণের মন থেকে উঠে যাচ্ছেন উনি।

মোসলে উদ্দিন লিখেছেন, আমাদের করের টাকা আমাদের ছেলে মেয়েদের দিচ্ছে তাতেও আবার খোটা শুনতে হয়। তবে কোটা সংস্কার সময়ের দাবি এটা একটা সময় আদায় হবেই। সেটা আজ হোক বা কাল হোক।

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) কোটা সংস্কার আন্দোলন কারীদের সম্পর্কে প্রশ্ন করে বলেছেন, ১৫ টাকা সিট ভাড়া ৩৮ টাকায় খাবার কোথায় আছে পৃথিবীর। আজ নতুন নতুন হল বানিয়েছি। ১৫ টাকা সিট ভাড়া আর ৩৮টাকায় খাবার খেয়ে তারা লাফালাফি করে। তাহলে সিটভাড়া আর খাবারে বাজারদর যা রয়েছে, তাদের তা দিতে হবে। সেটা তারা দিক।

দশম জাতীয় সংসদের একুশতম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

কোটা আন্দোলনকারীদের মধ্যে যারা ভিসির বাড়িতে ভাঙচুর ও আক্রমণ করেছে তাদেরকেই গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘উশৃঙ্খলা কখনও বরদাস্ত করা যায় না। ভাঙচুরকারীরা ভিসির বাড়ির ক্যামেরার চিপস নিয়ে গেলেও আশেপাশে থাকা ক্যামেরা দেখে তাদের একটা একটা করে খুঁজে বের করা হচ্ছে। যারা ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ ও আক্রমণ করেছে, তাদের তো ছাড়া হবে না। তাদেরকেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। তদন্ত করা হচ্ছে। অনেকে স্বীকারও করছে। যত আন্দোলনই হোক না কেন, এদের ছাড়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে।

মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে সরকার প্রধান বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের যে কোটা তাতে হাইকোর্টের রায় রয়ে গেছে। যেখানে হাইকোর্টের রায়ে আছে যে, মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা সংরক্ষিত থাকবে। তাহলে ওই কোটার বিষয়ে আমরা কীভাবে কোর্টের ওই রায় ভায়োলেট করবো। সেটা তো আমরা করতে পারছি না। এই রায় অবমাননা করে তখনতো আমি কনডেম্প অব কোর্টে পড়ে যাবো। এটা তো কেউ করতেই পারবে না।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে কোটা পূরণ হবে না, কোটার যেটা খালি থাকবে, তা মেধার তালিকা থেকে নিয়োগ হবে। এটা আমরা করে দিয়েছি। গত কয়েক বছর থেকেই এই প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।’