মঙ্গলবার, ২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সরকারের গুণ্ডামির মীমাংসা হবে গণ-অভ্যুত্থানে: দুদু

news-image

বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার নির্বাচনকে বিপদগামী ও বিতর্কিত করার করার জন্য অবৈধ সরকার গুণ্ডামির আশ্রয় নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, আমরা সরকারের এই গুণ্ডামির মীমাংসা করবো গণ-অভ্যুত্থানের ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।

শনিবার(১৪ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এলডিপির চেয়ারম্যান ও ২০ দলীয় জোট নেতা কর্নেল অলি আহমেদকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, জাতীয় নির্বাচন খুব সন্নিকটে। আগামী পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে এই নির্বাচন হবে। যার কারণে এই অবৈধ সরকার ক্ষমতা হারানোর ভয়ে নির্বাচনকে বিপদগামী ও বিতর্কিত করার করার জন্যে এবং ২০ দলীয় জোটের ক্ষমতায় যাওয়ার পথকে রোধ করার জন্য তারা গুণ্ডামির আশ্রয় নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি হয়তো এটা বুঝতে পেরেছেন যদি স্বাভাবিক গ্রহণযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়। তবে সেই নির্বাচনে আপনার নৌকার কোন সম্ভবনা থাকবে না। তাই আপনি তাড়াহুড়ো করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন। আর আমরা চেয়ে চেয়ে দেখবো এটা যদি ভেবে থাকেন তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে বসবাস করছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বুঝতে পেরেছে শেখ হাসিনার ১০ বছরের যে অপশাসন ব্যাংক,শেয়ার বাজারে লুটাপাট মানুষকে গুম,হত্যা,নিখোঁজ করা হয়েছে তার প্রেক্ষিতে এই যে দেশে তারা আর নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। যার কারণে তারা বারবার নির্বাচনকে কলুষিত করতে চাচ্ছে। গুণ্ডামির ক্ষেত্র বানাতে চাচ্ছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারান্তরীণ রাখা হয়েছে দাবি করে দলটির এই ভাইস-চেয়ারম্যান বলেন, একেবারে মিথ্যা মামলা যে মামলার কোন ধরনের ভিত্তি নেই। এটা কল্পনাও করা যায় না। বাংলাদেশের যতগুলো নির্বাচনে তিনি জীবনে অংশ গ্রহণ করেছেন কোন নির্বাচনে তিনি পরাজিত হননি। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি গণতন্ত্রের একটি প্রতীকে রুপান্তরিত হয়েছেন। সেই ব্যক্তিকে তথাকথিত বিচারের নামে ভণ্ডামি করে কারাগারে রাখা হয়েছে। হাইকোর্ট তাকে জামিন দিয়েছে সুপ্রিমকোর্টের রায়ে তাকে আটকে রাখা হয়েছে।

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, এই সরকার শুধু গণতন্ত্র না এদেশের বিচার ব্যবস্থা প্রশাসনকে ধ্বংস করেছে। তাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে যদি রক্ষা করতে হয়, পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হয়। তাহলে এই অবৈধ সরকারের অপসারণ ছাড়া সেটা কখনও সম্ভব না। তাই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে আবারও গণঅভ্যুত্থাণ ঘটাতে হবে। যেমনিভাবে ঘটানো হয়েছিল ৬৯ এবং ৯০-এ।

কর্নেল অলির উপর পরিকল্পিতভাবে আক্রমণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা আগামী দিনে কর্নেল অলি আহমেদের ওপর আক্রমণের জবাব দিবো ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।

এলডিপির মহাসচিব মহাসচি ড. রেদোয়ান আহমেদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্তজা,লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান,ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূইয়া,জাগপার মহাসচিব খন্দকার লুৎফর রহমান, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদৎ হোসেন সেলিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।