রবিবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৮ ইং ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিয়ের মানে স্বামীর যৌন-ইচ্ছা মেটাতে বাধ্য নয় স্ত্রী

news-image

বিয়ে মানেই যে স্বামীর সঙ্গে যৌন সংসর্গে স্ত্রীতে তৈরি থাকতে হবে তা নয় বলে মন্তব্য করেছেন ভারতে দিল্লির উচ্চ আদালত।
সম্প্রতি স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্কের একটি রিটের ব্যাপারে দিল্লি হাইকোর্ট গতকাল মঙ্গলবার তার বক্তব্যে আরও বলেছেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কে সম্মান মূখ্য ব্যাপার। তবে দুজনের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তারা শারীরিক সম্পর্কে আবদ্ধ হয়। কিন্তু তার মানে এই নয়, যে কোনো সময় স্বামীর যৌন-ইচ্ছা মেটাতে স্ত্রী তৈরি থাকবে।

বিচারপতি গীতা মিত্তাল ও বিচারপতি হরি শঙ্করের এক হাইকোর্ট বেঞ্চে বলা হয়েছে, দাম্পত্য সম্পর্কের মধ্যেও যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নারী কিংবা পুরুষ উভয়েরই ‘না’ বলার অধিকার রয়েছে।
মঙ্গলবার স্ত্রীর অসম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে কি হবে না- শুনানিতে আইনজীবীদের উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে আদালতের এই পর্যবেক্ষণ আসে।
বিচারকরা বলেন, ‘বিয়ে মানে এই নয় যে নারীরা সব সময় তৈরি থাকবেন, ইচ্ছা ও সম্মতি দিয়ে (শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে)। পুরুষকে প্রমাণ করতে হবে যে নারীরও ইচ্ছা ছিল।’
পুরুষ কল্যাণ ট্রাস্ট নামে একটি এনজিওর বিরোধিতার মধ্যেই আদালতের এই বিপরীত মন্তব্য আসে। ওই এনজিওটি স্ত্রীকে ধর্ষণ অপরাধ হিসেবে বিবেচনার বিরোধিতা করছিল শুনানিতে।
যে আবেদনে আদালতের এই পর্যবেক্ষণ আসে, তা যৌথভাবে করেছিল আরআইটি নামে একটি এনজিও এবং অল ইন্ডিয়া ডেমক্রেটিক ওমেন অ্যাসোসিয়েশন।
তারা ভারতের পেনাল কোডের ৩৭৫ নম্বর ধারাটি চ্যালেঞ্জ করে আবেদনটি করেছিল। যে ধারায় বলা হয়েছে, স্ত্রীর সঙ্গে কোনো ব্যক্তির সঙ্গম কিংবা যৌনাচার ধর্ষণ বলে গণ্য হবে না।
এই আবেদনের বিরোধিতায় পুরুষ কল্যাণ ট্রাস্ট শুনানিতে বলেছিল, বিয়ের পরও নারীদের যৌন সহিংসতা রক্ষায় যথেষ্ট আইন রয়েছে, ফলে ওই ধারাটির পরিবর্তন নিষ্প্রয়োজন। এই বক্তব্যের জবাবে আদালত বলেছেন, যদি তাই হয়, তবে কেনো স্ত্রীর সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হয়েও ৩৭৫ ধারাটি পেনাল কোড বা দণ্ড বিধিতে রয়ে গেছে।
আগামী ৮ অগাস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন রেখেছে আদালত।