শনিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৮ ইং ৩রা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ভারত দখলের ডাক মমতার

news-image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ‘বিজেপি হঠাও, দেশ বাঁচাও।’ এই সুরেই বাঁধা পড়ল তৃণমূলের ২৫তম শহিদ দিবস। খোদ তৃণমূল নেত্রী তো বটেই, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারী, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো দলের অন্যান্য নেতাদের গলাতেও শোনা গেল ২০১৯ লোকসভা ভোটে কেন্দ্র দখলের ডাক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই যে আগামী লোকসভা ভোটে লড়বে ফেডেরাল ফ্রন্ট, স্পষ্ট হল সে বিষয়টিও।

পঞ্চায়েত ভোটের পর প্রথম এবং আগামী লোকসভা ভোটের আগে শেষ ২১শে জুলাই। এবারের সভায় যে দিল্লিমুখী ঢেউ আছড়ে পড়বে, তা একপ্রকার জানাই ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসে পৌঁছনোর আগেই সেই সুরটা বেঁধে দেন পার্থ, সুদীপ, সুব্রতরা।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কিছুদিন আগে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন যে একজন বাঙালিকে প্রধানমন্ত্রীর আসনে দেখা তাঁর শেষ জীবনের ইচ্ছে। এই সময় কোন বাঙালি প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসতে পারেন?’ মঞ্চের সামনের জনসমুদ্র তখন গর্জে উঠেছে মমতার নামে।

পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ শুধু বাংলার নন, গোটা দেশের জননেত্রী।’ তৃণমূলের দায়িত্ব শুধু বাংলার মানুষের স্বার্থরক্ষা নয়, গোটা দেশের স্বার্থরক্ষা করা বলে দাবি করেন তিনি। ২১শে-র মঞ্চ থেকে তৃণমূল ‘দিল্লি চলো’ ডাক দিলে বলে জানালেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়।

আগামী ১৯ নভেম্বর ব্রিগেড সমাবেশে ফেডেরাল ফ্রন্টের নেতৃবর্গকে উপস্থিত করে সেখান থেকেই দিল্লি দখলের ডাক দেওয়া হবে বলে জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার এদিনের বক্তব্যের পুরোটাই ছিল বিজেপি বিরোধী সুরে গাঁথা। এ রাজ্যে বিজেপি টাকা ছড়িয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কিন্তু টাকা দিয়ে কোটি কোটি মানুষের সমর্থন কেনা যায় না বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। আগামী লোকসভা ভোটে এ রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে ৪২টিই দখল করতে হবে বলে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের জানালেন তিনি। বৃহস্পতিবারের আস্থাভোটে জিতলেও সংসদের বাইরে বেরিয়ে ভোটের ময়দানে এসে দাঁড়ালে বিজেপির ভরাডুবি কেউ আটকাতে পারবে না বলে দাবি করেছেন তিনি।

আগামী বছর শহিদ দিবস পালন ভারত জয় করা ২১শে হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন যে বিজেপির হিন্দুত্বকে তৃণমূল মানে না, যাদের হাতে দাঙ্গার রক্ত, তারা আবার বড় বড় কথা বলছে। মেদিনীপুরে নরেন্দ্র মোদীর সভায় কাঠামো ভেঙে বেশ কয়েকজনের আহত হওয়া নিয়েও এদিন কটাক্ষ করেন মমতা ও অভিষেক। যারা একটা মঞ্চ সামলাতে পারে না, তারা দেশ সামলাবে কী করে এই প্রশ্ন তোলা হয়।