সোমবার, ২২শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং ৭ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

যে কারণে বাড়ছে ডিমের দাম

news-image

বেড়েই চলেছে ডিমের দাম। ফার্মের ডিম এখন প্রতি হালি ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক মাস আগেও এ ডিম বিক্রি হয়েছিল ২২ থেকে ২৪ টাকায়। ডিমের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ক্রেতারা যখন চরম ক্ষুব্ধ ঠিক তখনই বিক্রেতারা দাবি করছেন, এটিই ডিমের ন্যায্যমূল্য। তাদের মতে, এত দিন লোকসান দিয়ে ডিম বিক্রি করছিলেন তারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যানুযায়ী, গতকাল রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি হালি ফার্মের ডিম বিক্রি হয় ৩২ থেকে ৩৫ টাকা দরে। এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছিল ২৮ থেকে ৩২ টাকা। এক বছর আগে এ ডিম ২৮ থেকে ৩২ এবং এক মাস আগে ২২ থেকে ২৬ টাকায় বিক্রি হয় বলে জানায় টিসিবি।

ডিমের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা পরস্পরকে দোষ দিয়েই চলেছেন। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকাররা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর পাইকারদের দাবি, তারা এক টাকা বাড়ালে খুচরা বিক্রেতারা তিন টাকা বাড়িয়ে দেন। তবে পাইকারি বিক্রেতারা বেশি দায়ী করছেন উৎপাদনকারী খামার মালিকদের। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে গরমের কারণে ডিম নষ্ট হওয়া এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াসহ আরো অনেক কিছু। কিছুটা বাড়তি দাম পেয়ে ডিম উৎপাদনকারী খামার মালিকেরা খুশি হলেও তাদের দাবি, ডিমের এটিই ন্যায্যমূল্য। কারণ এর উৎপাদন খরচ আরো বেশি। ওয়ার্ল্ড পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ শাখার কর্মকর্তারা জানান, মুরগির খাবারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ডিমের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। এক হালি ডিম উৎপাদনে খরচ পড়ে যাচ্ছে ২০ থেকে ২৪ টাকা।

বাজারে ৩৫ টাকা হালি দরে ডিম বিক্রি হলেও হাতবদল হয়ে উৎপাদকের কাছে যেতে যেতে এ দাম থাকে না। তা ছাড়া এত দিন যারা উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করতে গিয়ে খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন তাদের অভাবেই বাজারে ডিমের সরবরাহ কমে গেছে। সারা বছর সমান হারে ডিমের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চাইলে বন্ধ খামারগুলো চালু রাখতে হবে এবং খামারিদের উপযুক্ত দাম প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানান তারা। গতকাল রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে অধিক দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচও। আড়তে মরিচের সরবরাহ কম থাকায় গত সপ্তাহের মতো গতকালও মরিচ বিক্রি করেছেন প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা দামে।

এক পোয়ার (২৫০ গ্রাম) দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এ ছাড়া পটোল, ঝিঙে, ধুন্দল, চিচিঙ্গা, বেগুন, কাঁকরোল, ঢেঁড়স, মিষ্টিকুমড়া, পেঁপে, করল্লাসহ প্রায় সব সবজিই বাজারে ভরপুর। দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। গত সপ্তাহে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পাকা টমেটোর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। খুচরা বাজারে ফার্মের লেয়ার মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা। গত সপ্তাহে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া ফার্মের লেয়ার মুরগি গতকাল খুচরা বাজারে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। পাকিস্তানি জাতের কক মুরগি ২০০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হয় ২৪০ টাকা পর্যন্ত। মাঝারি আকারের এক হালি কক মুরগির দাম হাঁকা হয় ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা। আর দেশী মুরগির দাম তো আকাশছোঁয়া।

কেজিতে পড়ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কেজিতে ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে সব ধরনের মাছের। খুচরা বাজারে গতকাল মাঝারি আকারের একেকটি ইলিশ বিক্রি হয় ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা দরে। খুচরা বাজারে গতকাল প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০ থেকে ৩৫০, সরপুঁটি ২৫০ থেকে ৩৫০, কাতলা ৩০০ থেকে ৩৫০, তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৮০, সিলভার কার্প ১৬০ থেকে ২৫০, চাষের কৈ ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। প্রতি কেজি পাঙ্গাস ১৪০ থেকে ২৫০, টেংরা ৪০০ থেকে ৬০০, মাগুর ৬০০ থেকে ৮০০, প্রকারভেদে চিংড়ি ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়।