মঙ্গলবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং ৮ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

২০০ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা কে এই ইব্রাহিম?

news-image

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে কোটি কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে প্রতারক চক্রের এক হোতা। স্থানীয় ও প্রতারণার শিকার লোকজন জানান, গোদাগাড়ী পৌর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মৃত ওমর আলীর ছেলে ইব্রাহিম আলী একটি কোম্পানি খুলে বসেন। সিদ্দীক ষ্টোর নামে কোম্পানিটির সরকারিভাবে কোন অনুমোদন নেই। অথচ সিদ্দীক ষ্টোরের নামে ইব্রাহিম আলী এলাকার লোকজনের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করে। এক লাখ টাকায় প্রতি মাসে ১৩ হাজার টাকা আমানতকারী লাভ দিবে স্দ্দিীক ষ্টোর। প্রথম দিকে সিদ্দীক ষ্টোর কয়েকজন আমানতকারীকে চুক্তি মোতাবেক লাভের অংশের টাকা পরিশোধ করলে শতশত ব্যাক্তি অধিক লাভের আসায় সিদ্দীক ষ্টোরের মালিক ইব্রাহিম আলীর কাছে টাকা জমা দেন।

প্রতারণানর শিকার বারুইপাড়া আলী পুরের তোজাম্মেল হক বলেন, জমি বিক্রি করে ২৭ লাখ টাকা আমানত হিসাবে সিদ্দীক ষ্টোরে জমা দিলে নন-জুডিশিয়াল তিনশত টাকার ষ্ট্যামে লিখিত ও সোনালী ব্যাংক গোদাগাড়ী শাখার একটি চেক প্রদান করে। চুক্তি অনুয়ায়ী লাভের অংশের প্রতি মাসে ১৩ হাজার টাকা করে ৩৯ হাজার টাকা তিনমাস পর আমানতকারীকে দেয়ার কথা রয়েছে। কিন্ত লাভের অংশেরসহ আমানতের টাকা ফেরত না দিয়ে গত ১০ জুলাই স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে এলাকা ছেড়ে পারিয়েছে ইব্রাহিম আলী।

গত দশদিন ধরে ইব্রাহিম আলীর মুঠোফোনটি বন্ধ রয়েছে। উপজেলার দিয়াড় মানিক চকের কৃষক গিয়াসউদ্দীন ও তার ছেলে মিনারুল ৬ লাখ টাকা সিদ্দীক ষ্টোরে আমানত হিসাবে জমা রয়েছে। গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মহিশালবাড়ী গ্রামের জরিনা বেগম অন্য বাড়ীতে কাজ করে জমাকৃত ৫০ হাজার টাকা সিদ্দীক ষ্টোরে জমা দিয়েছে। তোজাম্মেল, গিয়াসউদ্দীন ও জরিনা মত উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৫ শতাধিক ব্যক্তি সিদ্দীক ষ্টোরে ইব্রাহিমের কাছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আমানত হিসাবে জমা রয়েছে।

স্থানীয় সৃত্র জানায় ইব্রাহিম আলী প্রতারণার মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে একদিনেই ১৩ টি ট্রাক ক্রয় করে সড়কে নামিয়েছে। প্রতারণার শিকারদের মধ্য চা, সবজি, বিক্রেতা, রিকশাচালক, কৃষক, হুন্ডি ও মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। এদের মধ্যে ৫০ লাখ টাকা দিয়েছে বারুই পাড়ার ইলিয়াস আলী। এ ছাড়াও দিয়াড় মানিক চকের জহুরুল মেম্বারের ৩০ লাখ, শরিফুল মেম্বারের ২৫ লাখ, মহিশাল বাড়ীর মহিউদ্দীন কলেজ পাড়ার জমির উদ্দীনের ২৫ লাখ ও লোকমানের ৩০ লাখ রয়েছে বলে একটি সৃত্র জানায়।

আমানত জমাদানকারী টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য ইব্রাহিম আলীর মহিশালবাড়ীস্থ বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে। বাড়িতে শুধু মাত্র তার মা ছাড়া কেউ নেই। ইব্রাহিম আলীর মা হাজেরা বেগম বলেন, তার ছেলে ইব্রাহিম আলী কোথায় গেছে তা জানা নেই।

তবে এলাকার লোকজন জানান, ইব্রাহিম বর্তমানে রাজশাহী শহরে কোথাও অবস্থান করছে। শ্রীঘ্রই থাইল্যান্ড চলে যাবে এমনটাই এলাকাবাসী জানতে পেরেছে।

ইব্রাহিম আলীর বাড়িতে আমানতকারীরা জানান, ইব্রাহিম আলী ঢাকার নামি দামি কয়েকটি কোম্পানির বিদেশে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানী করে থাকে বলে আমানতকারীদেরকে কাগজ পত্র দেখিয়ে আস্থা অর্জন করে। এখন আমানতকারীরা জানতে পেরেছে কোম্পানির সব কাগজ পত্র ভুয়া। ইব্রাহিম আলী প্রতারণার ফাঁদ হিসাবে কয়েক জনকে লাভের অংশের টাকা কোম্পানির সাথে জড়িত থাকার কাগজ পত্র দেখায়।

এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আমানতকারীদের কাছ থেকে পুলিশ অবহিত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।