শনিবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং ১লা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কয়লা সংকট, তাপবিদুৎ কেন্দ্র বন্ধ, বিদ্যুৎ ভোগান্তিতে ৮ জেলা

news-image

রুকুনুজ্জামান বাবুল, দিনাজপুর : কয়লা সংকটের কারনে সোমবার থেকে বন্ধ হয়ে গেছে দেশের এক মাত্র কয়লা ভিক্তিক দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগওয়াড তাপ বিদুৎ কেন্দ্র। এতে বিদুৎ ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুরসহ রংপুর বিভাগের আট জেলা।

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম বলেন, কয়লা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিঃ (বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি) কতৃপক্ষ কয়লা সরবরাহ করতে না পারায়, তাপ বিদুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে উত্তোলন কৃত কয়লা মধ্যে এক লাখ ৪০ হাজার মে: টন কয়লা ঘাটতি রয়েছে, এই কারনে গত ১৯ জুলাই বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কোম্পানীর সচিব (জিএম প্রশাসন)কে প্রত্যাহার করেছে, একই কারনে মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মাইনিং এন্ড অপরেশন, ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর)কে সাময়িক বহিস্কার করেছে। যদিও খনি কতৃপক্ষ বলছে এক লাখ ৪০ হাজার টন কয়লা সিস্টেম লস। তাদের দাবী গত ১১ বছরে এক কোটি ১০ লাখ টন কয়লা উত্তোলন করা হয়েছে এর মধ্যে এক লাখ ৪০ হাজার টন কয়লা সিস্টেম লস।

এদিকে বিদুৎ সরবরাহ কারী প্রতিষ্ঠান নর্দান ইলেক্ট্রি সাপ্লাই কোম্পানী লিঃ নেসকো এর রংপুর জোন এর প্রধান প্রকৌশলী শাহাদৎ হোসেন সরকার বলেন, রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় প্রতিদিন ৬৫০ মেগওয়াড বিদুতের প্রয়োজন, এর মধ্যে ৫২৫ মেগওয়াড বিদুৎ আসে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্র থেকে, কিন্তু কয়লা সংকটের কারনে গত এক মাস থেকে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্রের ২টি ইউনিট বন্ধ থাকায়, সেখান থেকে মাত্র ১৫০ মেগওয়াড বিদুৎ আসতো। এই কারনে গত এক মাস থেকে বিদুতের কিছু ঘাটতি দেখা দিয়েছে, এখন পুরোপুরি বিদুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ায় এই ঘাটতি আরো বাড়লো। তিনি আরো বলেন বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হলেও, বাহির থেকে বিদুৎ এনে চাহিদা পুরোন করা হবে, তবে এতে বিদুতের ভোল্টেজ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেই সাথে লোড শেডিং হতে পারে।

অপরদিকে বিদুতের ঘাটতি দেখা দিলে বড়রকমের লোকশানের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান কলকারখানা ও শিল্প প্রতিষ্টান গুলোর মালিকরা। ফুলবাড়ী লাভলী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাঃ লিঃ এর চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি বলেন, প্রতিদিন ২ ঘন্টা বিদুতের লোড শেডিং হলে প্রতিদিন ৪-৫ লাখ টাকা লোকশান গুনতে হবে। একই কথা বলেন মির্জা গ্রুপ অব ইন্ডাঃ এর জেলারেল ম্যানেজার মশিউর রহমান। তারা আরো বলেন, ঘনঘন লোড শেডিং হলে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয় ,মেশিনের ক্ষতিও হয়, এতে লোকশানের পরিমান আরো বেড়ে যায়।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিঃ এর মহা ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান বলেন, আগামী আগষ্ট মাসের মধ্যে নতুন ফেইজ থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হবে, কয়লা উত্তোলন শুরু হলেই কয়লার এই সংকট থাকবে না বলে তিনি আশা রাখেন। #