শনিবার, ১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিকদের তিন দিনের আল্টিমেটাম

news-image

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে সংবাদ সংগ্রহ করার সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার জন্য তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। অন্যথায় যেসব ছাত্র হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সংগঠন ঘেরাও করা হবে। হামলার প্রতিবাদে এসেছে সাংবাদিক ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন থেকে।

সোমবার কারওয়ান বাজারে সার্ক ফোয়ারায় মানববন্ধন করেন প্রায় ২০০ জন সাংবাদিক। মানববন্ধনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ নাগরিক টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক দীপ আজাদ বলেন, হামলাকারীরা যে পরিচয়ের হোক, তাদের বিচার চাই। তাদের ধরিয়ে দিতে ছবি দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রচারের দাবি জানাচ্ছি পুলিশের প্রতি।

সোমবার মানববন্ধনকারীরা ‘সাংবাদিকদের মেরে সত্য লুকানো যায় না’, ‘গণমাধ্যমের উপর হামলা বন্ধ করুন’, ‘নিরাপদ ও মুক্ত গণমাধ্যম চাই’ স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে আরেকটি মানববন্ধন করেন সাংবাদিকরা।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য খায়রুজ্জামান কামালের সভাপতিত্বে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শুক্কুর আলী শুভ, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, সাংবাদিক নেতা কুদ্দুস আফ্রাদ, সাজ্জাদ আলম খান তপু, আখতার হোসেন, আবদুল মজিদ, শরিফুল ইসলাম বিলু, নুরুল ইসলাম হাসিব, অমরেশ রায়, মতলু মল্লিক, আশিষ কুমার দে ও কুদরত ই খুদা মানববন্ধনে অংশ নেন।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ। পরিষদের সেক্রেটারি জেনারেল ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম সোমবার এক বিবৃতিতে সাংবাদিকদের এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামও (এলআরএফ) সুপ্রিম কোর্টের সামনে মানববন্ধন করেছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্যাম্পাস জার্নালিস্ট ফেডারেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন।

মঙ্গলবারের কর্মসূচি: সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ডিইউজের বিক্ষোভ সমাবেশ এবং দুপুর ১২টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রোববার ধানমণ্ডি এলাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ধরে ধরে পেটায় হেলমেট পরা একদল যুবক। প্রত্যক্ষদর্শী অনেকে হামলাকারীদের আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী হিসেবে চিহ্নিত করলেও ক্ষমতাসীন দলটির পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে। সোমবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবয়দুল কাদের হামলায় ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তাদের তালিকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিকদের প্রতি। রোববারের হামলায় সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়, ধানমণ্ডি ১ নম্বর ও ২ নম্বর সড়কে বেশ কয়েকজন আলোকচিত্র সাংবাদিক আহত হন। চাপাতি, রড, লাঠি হাতে হেলমেট পরা যুবকদের তৎপরতার সময় পুলিশ সামনে থাকলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি; তবে ওই সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দিকে কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ছিল পুলিশ।