রবিবার, ১৯শে আগস্ট, ২০১৮ ইং ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ইবি ছাত্রীকে বারবার ফেল করাতেন শিক্ষক, অতঃপর

news-image

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগের ছাত্রীকে বার বার ফেল করানোর অভিযোগ উঠেছে। ড. ভুপেশ চন্দ্র রায় নামের ওই শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক।
গত ১ আগস্ট ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ওই বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী সিরাজুম মনিরা। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী।
মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেজিষ্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ।

উপাচার্য বরাবার লিখিত ওই অভিযোগে মুনিরা উল্লেখ করেন, ২য় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় ড. ভুপেশ চন্দ্র রায়ের একটি ল্যাব বিষয়ে ফেল করি। কেন ফেল করানো হয় তা আমি এখনো জানি না। ফলে স্যার আমাকে ৩য় বর্ষে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ দেননি। তার পর তৃতীয় বর্ষে ভুপেশ স্যারের কেমিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে আশ্চর্যভাবে ফেল আসে। আমি জীবনে কোন দিন নকল করি নাই। অতঃপর ২০১৮ সালে অনার্স (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষে ওই বিষয়ে পুণঃমূল্যায়ন পরীক্ষায় স্যার আবারো আমাকে ফেল করিয়েছেন। এরপর গত ৩০ জুলাই ওই বিষয়ে আমার জীবনের শেষ সুযোগ ছিল। পরীক্ষার হলে আমি একা পরীক্ষা দিচ্ছিলাম, হলে তিন জন শিক্ষক কর্তব্যরত ছিলেন। পরীক্ষার সময় আমার লিখিত খাতা স্যার আমাকে দিয়ে জোর করে কাটিয়ে নিয়েছেন। এই বিষয়ে এবারো যদি পাশ না আসে তবে আমি স্নাতক এর কোন সনদ পাব না।

এ দিকে গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত ওই ছাত্রীর পুণঃমূল্যায়ন পরীক্ষায় পরিদর্শক হিসেবে ছিলেন বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. আরিফুজ্জামান। পরীক্ষার হলে ওই ছাত্রীর খাতা কাটার বিষয়ে অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে এ বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে চান নি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রীর লিখিত অভিযোগের পর উপাচার্য ওই ছাত্রীকে ডেকে কথা বলেন। তখন ওইছাত্রী উপাচার্যকে জানান। আমাকে প্রেক্ষিতে গত বুধবার (১ আগস্ট) তাৎক্ষণিকভাবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের কর্মকর্তাদের দিয়ে পরীক্ষার খাতা ও নম্বরপত্র যাচাই বাছাই করেন। তবে নম্বর পত্রে ওই বিষয়ে কোন নম্বর উল্লেখ ছিলোনা। বিষয়টি আমলে নিয়ে উপাচার্য অনুসন্ধান পূর্বক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রেজোয়ানুল ইসলামকে আহবায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান ও ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এদিকে অধ্যাপক ড. ভুপেশ চন্দ্র রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস প্রশাসকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. ভুপেশ চন্দ্র রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘আমাকে নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু বলার ভাষা আমার নেই। আমার সম্পর্কে আমার বর্তমান ও সাবেক ছাত্র-ছাত্রী এবং আমার সহকর্মীদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে ভালভাবে জানতে পারবেন।’ এসময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস প্রশাসকের পদ থেকে তার পদত্যাগের বিষয়টিও জানান।