শনিবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং ১লা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নফল আমলে হজের সওয়াব

news-image

আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হলো হজ। পবিত্র মক্কা মদিনা হজ করতে গিয়ে কাবা শরীফ তাওয়াফ করা, রাসূলের রওজা যিয়ারত করা এবং যমযমের সুপেয় পানি পান করে হৃদয় কে তৃপ্ত করা প্রতিটি মুমিনের স্বপ্ন। কিন্তু আর্থিক ইবাদত হওয়ায় সকলের ওপর হজ করা ফরজ নয়। তাহলে কী গরীব, দুর্বল, অসহায় ঈমানদারগণ বঞ্চিত হবে হজের সওয়াব থেকে? না, হাদীস শরীফে রাসুল (সা) এমন কিছু আমলের কথা বর্ণনা করেছেন যার মাধ্যমে অর্জিত হবে হজের সমপরিমাণ সওয়াব। হযরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে ফরজ নামাজ আদায় করল সে যেন হজ্জ করে আসল। আর যে ব্যক্তি নফল নামাজ আদায় করতে মসজিদে গমন করল সে যেন ওমরাহ করে আসল (তাবারানী: ৭৫৭৮)।

সার্বজনীন ধর্ম হলো ইসলাম। ধনী ব্যক্তি হজ করে বিরাট সাওয়াব অর্জন করবে, আর গরীব ব্যক্তি অর্থের অভাবে হজের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে এমনটা ইসলামের কাম্য নয়। রাসূল (সা) বলেন, শুক্রবার দিন জুমার নামাজ আদায় করা গরিবের হজ (কানযুল উম্মাল)। নফল নামাজ আদায়ের মাধ্যমেও প্রতিটি মুমিন ব্যক্তি অর্জন করতে পারবে হজের সাওয়াব। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা) বলেন, যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করল, তারপর সূর্যোদয় পর্যন্ত মসজিদে বসে আল্লাহর জিকির করল, এরপর দু রাকাত (ইশরাকের) নামাজ আদায় করল, সে ব্যক্তি হজ্জ ও ওমরার সওয়াব নিয়ে ফিরল (সুনানে তিরমিজি: ৫৮৬) । অন্য হাদিসে এসেছে হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল(সা) বলেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করল এবং বসে বসে সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর জিকির করল অতঃপর দুই রাকাত বা চার রাকাত নামাজ আদায় করল জাহান্নামের আগুন তাকে স্পর্শ করবে না ( সুনানে আবু দাউদ)।

ধনী ব্যক্তির ন্যায় বিরাট অংকের টাকা খরচ করে হজ না করতে পারলেও, গরীব ব্যক্তি অল্প খরচে ওমরা আদায়ের মাধ্যমে অর্জন করতে পারবে হজের সওয়াব। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা) ইরশাদ করেন, ‘রমজানে ওমরাহ আদায় করলে আমার সঙ্গে হজ্জ আদায়ের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে। (সহীহ বুখারী: ১৭৮২)। তা ছাড়াও যিকরুল্লাহ বা আল্লাহর যিকিরের মাধ্যমে পাওয়া যায় হজের সমপরিমাণ সওয়াব। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, দরিদ্র লোকেরা রাসূল (সা) নিকট এসে বলল, সম্পদশালী ব্যক্তিরা বেশি সওয়াব এবং জান্নাত নিয়ে যাচ্ছে! আমরা যেমন নামাজ পড়ি; তারাও পড়ে! আমরা যেমন রোজা রাখি; তারাও রাখে! উপরন্তু তাদের রয়েছে অতিরিক্ত সম্পদ; ফলে তারা হজ্জ করতে পারে, ওমরাহ করতে পারে, জিহাদে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সদকাও দিতে পারে! নবীজি তাদেরকে বললেন, আমি কি তোমাদের এমন একটি আমল শিখিয়ে দিব না; যা করতে পারলে তোমরা অগ্রগামীদের স্তরে পৌঁছে যাবে এবং যারা তোমাদের পেছনে তারা তোমাদের স্তরে পৌঁছতে পারবে না, তোমরা হবে শ্রেষ্ঠতম মানব, তবে অন্য কেউ এটি করলে সেও তোমাদের মতো হয়ে যাবে। আমলটি হলো, প্রত্যেক নামাজের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করবে।’ (সহীহ বুখারী)।
লেখক : শিক্ষার্থী, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা, টঙ্গী, গাজীপুর।