বুধবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং ২রা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

চোখের চিকিৎসায় বিদেশ পাঠানো হতে পারে বাপ্পীকে

news-image

ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলার দিন একটি চোখে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা বাপ্পীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেয়া হতে পারে।

রোববার দুপুরে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসার কাজ চলছে। সেদিন তিনি আমাকে দেখে গেছেন এবং সব ধরণের সহযোগিতার কথা বলে গেছেন। বিদেশ পাঠাতে প্রসেসিং করার জন্য আমার পাসপোর্ট নেয়া হয়েছে।

ঢাকার চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের একটি কেবিনে আছেন আরাফাতুল ইসলাম বাপ্পী। রোববার দুপুরে যখন তার সাথে কথা হয় তখন তিনি কালো চশমা পড়েছিলেন। গত ৪ আগস্টের সেই সংঘর্ষে বাপ্পীর একটি চোখে ইটপাটকেলের আঘাত লাগে। তিনি ঢাকার হাজারীবাগ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের দপ্তর সম্পাদক।

বাপ্পির পরিবারে পুরুষ মানুষ দ্বিতীয়টি নেই। এজন্য তার সেবায় নিয়োজিত আছেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিজান ও ফুয়াদ। মিজান বলেন, ওর চোখের অনেক গভীরে আঘাত লেগেছে। চিকিৎসকরা বলেছেন, ওর চোখ টিকবে না। আবার টিকতেও পারে। সে সম্ভবনা খুবই কম।

২৯ বছর বয়সী বাপ্পী হাজারীবাগের স্থায়ী বাসিন্দা। তার বাবা আবদুল জব্বার ১৯৯৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন। সেই থেকে মা নাজমা বেগম ও এক বোনকে নিয়ে তার কঠোর সংগ্রামী জীবন শুরু হয়। হাজারীবাগের চামড়ার ছোটখাট ব্যবসায়ের পাশপাশি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন বাপ্পী।

বাপ্পী বলেন, সেদিন আমরা শিক্ষার্থীদের বোঝাতে গিয়েছিলাম যে, পার্টি অফিসে চার লাশ ও চার নারীকে ধর্ষণ এটা সত্য নয়, অফিসে ঢুকে তাদের দেখে যেতে বলছিলাম। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই অতর্কিত হামলা। আসলে ওদের মধ্যে অপশক্তি ঢুকে পড়েছিল। সেই অপশক্তিই লাশের গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের উস্কে দেয় পার্টি অফিসে হামলা করতে।

এদিকে, বাপ্পীর পাশের কেবিনে আন্দোলনরত একজন শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন। তার নাম আনোয়ার হোসেন (২৩)। তার চোখেও গুরুতর জখম আছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলা যায়নি। তারা বদমেজাজ দেখিয়ে এ প্রতিবেদককে সরিয়ে দেন। আরও দুজন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী চোখে আঘাত নিয়ে এ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। তাদেরও একই অবস্থা। কথা বলতে তারা মোটেও আগ্রহী নন।