রবিবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসকরা কেন প্রতিদিন একটি পেয়ারা খেতে বলেন?

news-image

নিউজ ডেস্ক।। শীত হোক কিংবা বর্ষা, শরীর সুস্থ রাখতে পেয়ারার কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। শুধু তাই নয়, শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যাতে কম করে ৯০ বছর পর্যন্ত ঠিক মতো কাজ করতে পারে, সেদিকেও নজর রাখে এই প্রকৃতিক উপাদানটি। সম্প্রতি একদল আমেরিকান বিজ্ঞানীদের করা পরীক্ষায় এমন তথ্য উঠেছে। পেয়ারায় আছে ভিটামিন সি, লাইকোপেন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অংশকে সুস্থ এবং সুন্দর রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
এছাড়া শরীরকে চাঙ্গা রাখার পাশাপাশি এটি নানাভাবে শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন একটি করে পেয়ারা খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। আসুন জেনে নিই সেসব কারণ-

সংক্রমণের আশঙ্কা কমে : একেবারেই ঠিক শুনেছেন, এই ফলটিতে উপস্থিত অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট শরীরে প্রবেশ করে মাত্রাতিরিক্ত ক্ষতিকর জীবাণুদের মারতে শুরু করে। ফলে কোনো ধরনের সংক্রমণের আশঙ্কা কমে যায়। সেই সঙ্গে শরীরে উপস্থিত সকল ধরনের বিষাক্ত উপাদানও বেরিয়ে যায়। ফলে নিমেষে শরীর চাঙ্গা হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে আয়ুও বাড়ে চোখে পরার মতো।

ত্বককে ফর্সা করে তোলে : অল্প পরিমাণ পেয়ারার খোসা নিয়ে তার সঙ্গে ডিমের কুসুম মিশিয়ে একটা মিশ্রণ বানিয়ে ফেলুন। তারপর সেটি ভাল করে মুখে লাগিয়ে কম করে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। সময় হয়ে গেলে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এইভাবে সপ্তাহে ২-৩ দিন ত্বকের পরিচর্যা করলে দেখবেন ত্বক ফর্সা এবং উজ্জ্বল হয়ে উঠতে সময় লাগবে না।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে : একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন একটা করে পেয়ারা খাওয়া শুরু করলে দেহে পটাশিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এর প্রভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লাগে না।

দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে : প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন এ থাকার কারণে নিয়মিত পেয়ারা খেলে দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে। সেই সঙ্গে ছানি, ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং গ্লকোমার মতো রোগও দূরে থাকে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে শুরু করে : য়ারায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থাকে এতটা মজবুত করে তোলে যে ছোট-বড় কোনও ধরনের রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। শুধু এখানেই শেষ নয়, নানা ধরনের সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতেও ভিটামিন সি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই কারণেই তো একেবারে ছোট বেলা থেকে বাচ্চাদের পেয়ারা খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।

ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায় : পেয়ারায় উপস্থিত ভিটামিন বি৩ এবং বি৬ মস্তিষ্কে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্রেনের কগনেটিভ ফাংশন। অর্থাৎ স্মৃতিশক্তি, বুদ্ধি এবং মনোযোগের উন্নতি ঘটে।

ক্যান্সারের মতো রোগ দূরে থাকে : পেয়ারায় উপস্থিত লাইকোপেন, কুয়েরসেটিন, ভিটামিন সি এবং পলিফেনল শরীরে জমতে থাকা ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। ফলে ক্যান্সার সেল জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে যায়। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে ব্রেস্ট এবং প্রস্টেট ক্যান্সার রোধে পেয়ারার কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রকোপ কমে : শরীরে ফাইবারের মাত্রা বাড়তে থাকলে পেটের রোগ যেমন কমে, তেমনি কনস্টিপেশনের মতো সমস্যাও দূরে পালায়। আর ফলের রাজ্যে পেয়ারায় মধ্যেই রয়েছে সবথেকে বেশি মাত্রায় ফাইবার। তাই প্রতিদিন সকালে প্রকৃতির ডাকে সারা দেওয়ার সময় যদি বেজায় কষ্ট পোহাতে হয়, তাহলে আজ থেকেই পেয়ারাকে রোজের সঙ্গী বানান। দেখবেন কষ্ট একেবারে কমে যাবে।

রক্তে সুগারের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে : পেয়ারায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা রক্তে শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর এই ফলটি যেহেতু গ্লাইকেমিক ইনডেক্সে একেবারে নিচের দিকে আসে, এজন্য পেয়েরা খেলে ব্লাড সুগার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে না। তাই ডায়াবেটিক রোগীরা নিশ্চিন্তে এই ফলটি খেতে পারেন।

স্ট্রেস এবং অ্যাংজাইটির প্রকোপ কমে : ত কয়েক দশকে আমাদের দেশের পাশাপাশি সমগ্র বিশ্বে যে রোগগুলোর প্রকোপ চোখে পরার মতো বৃদ্ধি পেয়েছে, সেগুলোর প্রায় সঙ্গেই মানসিক চাপ বা স্ট্রেসের সরাসরি যোগ রয়েছে। তাই সময় থাকতে থাকতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াটা জরুরি। এক্ষেত্রে পেয়ারা আপনাকে দারুণভাবে সাহায্য করতে পারে। এতে উপস্থিত ম্যাগনেসিয়াম নার্ভের চাপ কমানোর মধ্য দিয়ে স্ট্রেস কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

হার্টের ক্ষমতা বাড়ে : শরীরে সোডিয়াম এবং পটাশিয়াম লেভেল ঠিক রাখার মধ্যে দিয়ে ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয় পেয়ারা। শুধু তাই নয়, ট্রাইগ্লিসারাইড এবং ক্ষতিকর কোলেস্টরলের মাত্রা কমিয়ে হার্টকে সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে এই ফলটি। তাই যাদের পরিবারে উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্টের রোগের ইতিহাস রয়েছে, তারা নিয়মিত পেয়েরা খাওয়া শুরু করুন, দেখবেন উপকার মিলবে।