শুক্রবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কীভাবে রঙচটা গাড়ি লাইসেন্স পায়; প্রশ্ন দুদকের

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্নীতি দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। যদি দুর্নীতি দমন বা প্রতিরোধ করা যায় তবেই শিক্ষাসহ সকল প্রকারে সরকারি সেবা মানুষ হয়রানি মুক্ত ভাবেই পেত। বললেন দুর্নীতি দমন কমিশন –দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতি দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। যদি দুর্নীতি দমন বা প্রতিরোধ করা যায় তবেই শিক্ষাসহ সকল প্রকার সরকারি সেবা মানুষ হয়রানি মুক্ত ভাবেই পেত।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বিআরটিএ যদি দুর্নীতিমুক্ত হত তাহলে কীভাবে রঙচটা, হেড লাইটবিহীন গাড়ি, ফিটনেস সার্টিফিকেট পায়?

তিনি আরও বলেন, আমরা বিআরটিএ-র কার্যক্রম দেখছি, বর্তমানে কৌশলগত কারণেই হস্তক্ষেপ করছি না। তারা যদি বেআইনি কিছু করে, জনস্বার্থেই কমিশন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়টি গুরুত্ব দেবে।

”বাংলাদেশের সমস্যা দুর্নীতি এবং আইন ও বিধি-বিধান না মানা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য কিংবা রাস্তার মূল সমস্যা হচ্ছে আইন না মানা। আর এই না মানাই দুর্নীতি। তাই আসুন, আজকের এই দিনে শপথ গ্রহণ করি আমরা সবাই আইন মানবো এবং আইন না মানার এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে সচেষ্ট হবো।”

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালো রাত্রে জাতির পিতার পরিবারের যেসব সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন শহীদ হয়েছেন তাদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানায় দুদক।

দুদকের চেয়ারম্যান বলেন, আজ জাতীয় শোক দিবস যেমন সত্য, তেমনি আজকের দিনটি লজ্জার এবং কলঙ্কেরও দিন। কারণ আমি এমন একটি দেশের নাগরিক যে দেশের মানুষের জন্য বঙ্গবন্ধু জীবনের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন, সেই দেশেরই কতিপয় দুর্বৃত্ত তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। বঙ্গবন্ধুকে আমরা রক্ষা করতে পারিনি, তাই এই কলঙ্ক জাতি হিসেবে মোচন করা সম্ভব নয়। এমনকি এ কলঙ্ক ভবিষ্যতে হাজার বছর পরের প্রজন্মকেও বহন করতে হতে পারে।
তিনি বলেন, দুর্নীতিই মানুষের মুক্তির প্রধান অন্তরায়। তাই আমার অনুরোধ আসুন, আমরা সবাই আইন মেনে চলবো। কেউ আমাদের আইন মানাবে সেজন্য অপেক্ষা করে থাকবো সেটা হতে পারে না। কারণ আইন না মানাই দুর্নীতি । তাই এই প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আইন মেনে চলতে হবে। যে বা যারা আইন মানবেন না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, রাস্তায় যখন বের হবেন তখন দুদকের পরিচয় ব্যবহার করবেন না, সাধারণ মানুষের মতো আচরণ করবেন, অসাধারণ হওয়ার চেষ্টা করবেন না।

কথা প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমাদের বাচ্চারারা দুদকের লোগো লাগানো একটি গাড়ি আটকিয়েছে এমন সংবাদ পাওয়া মাত্রই আমরা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছি। কাউকেই আমরা ছাড় দেইনি এবং ভবিষ্যতেও ছাড় দেব না।

শোকসভায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, মহাপরিচালক মোহাম্মদ জয়নুল বারী, পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন, উপপরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী প্রমুখ।
আলোচনাসভা শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালো রাত্রে জাতির পিতার পরিবারের যে সব সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন শহীদ হয়েছেন তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।