বৃহস্পতিবার, ২২শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় রড-চাকু দিয়ে চোখ উপড়ে যুবককে হত্যা

news-image

বরগুনা প্রতিনিধি : বরগুনায় এক ইউপি চেয়ারম্যানকে পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় লোহার রড ও চাকু দিয়ে আল আমীন নামে এক যুবকের চোখ তুলে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা রাশেদা বেগম বাদী হয়ে গতকাল বুধবার বরগুনা থানায় হত্যার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন- বরগুনা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম আহাদ সোহাগসহ আরও ১২ জন।

রাশেদা বেগম জানান, ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আহাদ সোহাগের সঙ্গে একই ইউনিয়নের নারগিস নামে এক যুবতীর দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া চলছিল। ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ হেউলিবুনিয়া গ্রামের ইউনুস মিয়া ও আল আমীন তাদের সেই পরকীয়ায় বাধা দেয়। এতে ওই চেয়ারম্যান তার দলীয় লোকজন নিয়ে প্রতিশোধপরায়ন হয়ে আল আমীনের ওপর হামলা চালায়।

গত রোববার সন্ধ্যায় তারা হেউলিবুনিয়া ব্রীজের দক্ষিণ পাশে আসামি মিজানের রিকশার গ্যারেজের মধ্যে ঢুকিয়ে প্রথমে আল আমীনের দুচোখে মরিচের গুড়া দেয়। পরে ১২ জন আসামি তার দুচোখ রড ও চাকু দিয়ে উপড়ে ফেলে।

পরে মুমূর্ষু অবস্থায় আল আমীনকে বরিশালের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বেলা দুইটায় তিনি মারা যান।

নিহতের মা বলেন, ‘আমার ছেলেটা সংসারের কাজ করে আমাদের ভরনপোষণ দিতো। চেয়ারম্যান সোহাগের অবৈধ প্রেমে আল আমীন বাধা দিতে গেলে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন নির্মমভাবে তার চোখ তুলে হত্যা করে।’

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান গোলাম আহাদ সোহাদ মুঠোফোনে বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। আমার প্রতিপক্ষরা নির্বাচনে হেরে গিয়ে ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে ‘

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস.এম মাসুদুজ জামান বলেন, মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।