শনিবার, ১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনে অংশগ্রহণে প্রস্তুত ২০ দলীয় জোট

news-image

নিউজ ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে নীতিগতভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও বিএনপির নীতি নির্ধারকরা। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ২০ দল নয়, বিএনপির সিদ্ধান্তই হবে জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। কিন্তু বিএনপির এবং ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে যাচ্ছে, এটা পরিষ্কার। আর নির্বাচনের বিষয়ে ২০ দলীয় জোটের বাইয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে দলটি। এর মধ্যে যুক্তফ্রন্ট অন্যতম। বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

তবে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরেই অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য জাতির সামনে কিছু দফা তুলে ধরবে বিএনপি। সরকার সব দফা না মানলেও এক-দুইটা মেনে নেবে বলে মনে করছেন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।

গত ১৩ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে সরকারকে কিছু দফা দেওয়া বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু কয়টি দফা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি দলটি। তবে দফাগুলো সব চূড়ান্ত না হলেও নিরপেক্ষ নির্বাচনের শর্ত হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দফার মধ্যে থাকবে।

এদিকে গত ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট। আর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুসারে পর পর দুইবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলে দলের নিবন্ধন থাকবে না। সুতরাং বিএনপিসহ ২০ দলকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতেই হবে। কারণ পরপর দুইবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে বিরত থাকলে আইন অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন থাকে না। ফলে নিবন্ধন রক্ষা করতে হলে আগামী নির্বাচনে তাদের অংশ করতেই হবে।

নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, অনেকে আমার কাছে প্রশ্ন করেন, আপনারা নির্বাচনে যাবেন না কী? আমরা যদি নির্বাচনে নাই যেতে চাই তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচন, নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন এবং নির্বাচনের সময় সেনা মোতায়েনই কেন চাচ্ছি? নির্বাচনে যাব বলেই তো এসব চাচ্ছি।

২০ দলীয় জোটের নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, বিএনপি ও ২০ দল একটি নির্বাচনমুখি জোট। আর নির্বাচনও সামনে। সুতরাং জোট অবশ্যই নির্বাচনে যাবে। কিন্তু এরআগে নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টির জন্যই তো কাজ করা হচ্ছে। সেই পরিবেশন তৈরীর জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজও চলছে। যেমন জাতীয় ঐক্য তৈরীর কাজ চলছে। আর এর সাথে সাথে আন্দোলনেরও প্রস্তুতি চলছে। তবে জোট নেত্রীকে মুক্ত করাই আমাদের প্রথম চ্যালেঞ্জ। আর দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তাকে নিয়ে নির্বাচনে যাওয়া। কিন্তু ২০ দলীয় জোট নির্বাচন করবে। কারণ এটা একটি নির্বাচনী জোট এবং নির্বাচনী মোর্চা।

জোটের অন্যতম শরীক দল বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, আমরা নির্বাচমুখি একটি রাজনৈতিক দল। তাই যে কোন পরিস্থিতিতেই যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার মানসিক প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। আর আমরা জোটগত ও একক, দুইভাবেই নির্বাচনী প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। তবে আমরা জোটের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিতে চাই। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরো একটু সময় আমাদের সকলকেই অপেক্ষা করতে হবে।

একই বিষয়ে কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও জাতির স্বার্থে আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচিত, আগামী নির্বাচনে দেশের সকল রাজনৈতিক দল যাতে অংশগ্রহণ করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা। সেই রকমই একটি নির্বাচন নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।

প্রসঙ্গত, আগামী ডিসেম্বর মাসে শেষ সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। এমনটা ধরেই কাজ করছে নির্বাচন কমিশন।বাংলাদেশ জার্নাল