বৃহস্পতিবার, ২২শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সাবধান, খালি পেটে যে ৩টি কাজ কখনো করবেন না

news-image

জানেন কি ক্ষুধা পেটে বা খালি পেটে কিছু কাজ করা একদম ঠিক নয়? না হলে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। যেমন ধরুন, সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে চা-কফি পান করা একদম ঠিক নয়।

খালি পেটে এগুলো পান করলে এসিডিটির সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া আরো কিছু কাজ রয়েছে যেগুলো খালি পেটে করা ভালো নয়।

এক – প্রদাহরোধী ওষুধ গ্রহণঃ

খালি পেটে কখনো প্রদাহরোধী ওষুধ খাবেন না। এতে গ্যাস হতে পারে। এ ছাড়া এতে ওষুধের কার্যকারিতাও অনেক কমে যায়।

দুই – চুইংগাম চিবানোঃ

চুইংগাম চিবালে ডাইজেস্টিভ এসিড তৈরি হয়। খালি পেটে চুইংগাম চিবানো পাকস্থলীর দেয়ালে সমস্যা করে। এতে গ্যাসট্রিকের সমস্যা হতে পারে।

তিন – রাতে না খেয়ে ঘুমানোঃ

ক্ষুধা লাগলে এবং শরীরের গ্লুকোজের মাত্রা কম থাকলে ঘুমের অসুবিধা হয়। কম ঘুম আবার ক্ষুধা তৈরির হরমোনকে বাড়িয়ে দেয়। তাই রাতে একটু কিছু খেয়ে ঘুমান।

খালি পেটে কিসমিস ভেজানো পানি খাওয়ার উপকারিতাঃ

পায়েস কিংবা পোলাও- কয়েকটি কিসমিস তাতে দিলে, স্বাদ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। কিন্তু শুধু কিসমিসের কত গুণ, তা অনেকেরই অজানা। রোজ এক কাপ করে কিসমিস ভেজানো পানি খেলে পাওয়া যায় বিশেষ উপকারিতা। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এমনই জানা গিয়েছে।

জেনে নিন কী কী ফল পাবেন কিসমিস ভেজানো পানি খেলে—

• কিসমিসে থাকে পটাশিয়াম, যা হার্টকে ভাল রাখে এবং খারাপ কোলেস্টরল দূর করতে সাহায্য করে।

• এতে রয়েছে আয়রন। যা রক্তাল্পতা কমাতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।

• কিসমিসে কার্বোহাইড্রেট রয়েছে যা শক্তি জোগায়। মহিলারাই বিশেষত রক্তাল্পতায় ভোগেন, তাই চিকিৎসকরা বলেন কিসমিস খাওয়া মহিলাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে বিশেষ উপকারী।

• এছাড়াও নিয়মিত কিসমিস খেলে বা কিসমিস ভেজানো জল খেলে লিভারও ভাল থাকে। যাঁরা প্রায়শই পেটের গন্ডগোলে ভোগেন তাঁদের জন্য এই পানি বিশেষ উপকারী।

• কিসমিস ভেজানো পানি খেলে শরীরে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। যার ফলে রক্ত পরিশোধিত হয়।

• কিসমিস ভেজানো পানি খেলে লিভারের পাশাপাশি কিডনিও খুব ভাল থাকে। আর কিডনি ও লিভার দুটো ভাল থাকলে হজমও ভালভাবে হয়।

কীভাবে বানাবেন কিসমিস ভেজানো পানি ?

২ কাপ জলে ১৫০ গ্রাম কিসমিস ভিজিয়ে রাখতে হবে সারা রাত। গাঢ় রংয়ের কিসমিস বেশি উপকারী। কিসমিসগুলি ভালভাবে ধুয়ে, সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন।

পরেরদিন সকালে কিসমিস ছেঁকে নিয়ে সেই জল হালকা গরম করে খালি পেটে খেয়ে নিন। এর পরে আধ ঘণ্টা আর অন্য কিছু খাবেন না। সপ্তাহে অন্তত তিনদিন এই জল খেলে সুস্থ থাকবেন।

যে সমস্ত খাবার খালি পেটে খাবেন এবং খাবেন না তা জেনে নিন

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে কী দিয়ে আপনার ফাস্টটা ব্রেক করবেন, তাই নিয়ে নিশ্চয়ই আপনার চিন্তার অন্ত নেই? কেউ বলে সক্কাল সক্কাল খালি পেটে চা খেতে নেই। অথচ বেড টি না খেলে আপনার দিনটাই শুরু হয় না।

আবার কেউ বলে সকালে উঠে ফলের রস, মিষ্টি এসবও নাকি খেতে নেই! অথচ সকালবেলা উঠে খালি পেটে চা বা কফি, ওটস আর এক গ্লাস ফলের রস–এই দিয়েই আপনার দিনটা শুরু হয়। এবার থেকে সাবধান হন। জেনে নিন সকালবেলা উঠে খালি পেটে কি খাবেন আর কি খাবেন না।

কি কি খাবেন

খালি পেটে যে সমস্ত খাবার খাবেন না

১. পেস্ট্রি বা অন্যান্য ইস্ট যুক্ত খাবার

সকালে উঠেই খালি পেটে পেস্ট্রি বা প্যাটিস, পাউরুটি বা যে সমস্ত খাবারে ইস্ট আছে, সেগুলো এড়িয়ে চলুন। এই খাবারগুলি আপনার শরীরের ইস্টের মাত্রাকে স্বাভাবিকভাবেই বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া ইস্ট আপনার শরীরে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাকেও বাড়িয়ে তোলে আর গ্যাস-অম্বলের প্রবণতাকেও বাড়ায়।

২. মিষ্টি

মিষ্টি খেতে তো বাঙালী মাত্রেই ভালবাসে। আপনিও যে ভালবাসেন তা জানি। কিন্তু সকালে খালি পেটে মিষ্টি? কক্ষনো না। মিষ্টি আপনার শরীরে ইনসুলিনের মাত্রাকে বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে আপনার অগ্ন্যাশয়ের ওপর চাপ পড়ে। এর ফলে আপনার ডায়াবেটিসও হয়ে যেতে পারে।

৩. কলা

কলা খাওয়া যে খুবই উপকারী, সেটা আপনারা সবাই জানেন। কিন্তু জানেন কি খালি পেটে কলা খেলে কি মারাত্মক সমস্যা হতে পারে? কলায় প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম ও অন্যান্য নানা মিনারেল থাকে। ফলে আপনি যদি খালি পেটে কলা খান, তা আপনার রক্তে মিনারেলসের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় ও তার ফলে আপনার হার্টের নানা সমস্যা হতে পারে।

৪. মশলা

সক্কালবেলা ঘুম থেকে উঠেই একগাদা মশলাদার খাবার খেয়ে নিলেন। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা যদি থেকে থাকে, তাহলে কিন্তু ফল খুবই ক্ষতিকর হতে পারে। তাছাড়া সকালবেলা মশলাদার খাবার খাওয়া মানে গোটা দিনের জন্য অস্বস্তি আর অ্যাসিড প্রায় নিশ্চিত। আর এমনিতে মশলা যুক্ত খাবার হজম হতেও সময় লাগে।

৫. দই বা অন্যান্য নানা ফারমেন্টেড খাবার

দই খাবার পর যত খুশি খান, আপত্তি নেই। কিন্তু খালি পেটে দই বা ওই জাতীয় নানা ফারমেন্টেড খাবার খেলে তা পেটে গিয়ে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড তৈরি করে। যা দইতে থাকা ল্যাক্টিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে ও আপনার শরীরের ওভার অল যে স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়াল সিস্টেম, তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

৬. টমেটো

স্যালাড বানিয়ে যত খুশি টমেটো খান। কিন্তু খালি পেটে টমেটো? নৈব নৈব চ। টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে ট্যানিক অ্যাসিড থাকে, যার ফলে খালি পেটে টোম্যাটো খেলে অ্যাসিডিটি বা অম্বলের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

৭. নাশপাতি

নাশপাতি খালি পেটে খেলে ওতে যে ফাইবার থাকে তা কিন্তু আপনার শরীরের মিউকাস মেমব্রেনের ক্ষতি করতে পারে। তাই খালি পেটে নাশপাতি খাবেন না।

৮. শসা ও অন্যান্য সবুজ সবজি

কি? দেখে অবাক হচ্ছেন নাকি? এগুলো সবই খাওয়া শরীরের পক্ষে ভালো, কিন্তু ভরা পেটে। ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে শসা খেয়ে নিলেন এটা কিন্তু মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। কারণ এইসবে প্রচুর পরিমাণ অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে যা খালি পেটে খেলে অম্বল, তলপেটে ব্যথা ইত্যাদির কারণ হয়। তাই খালি পেটে এসব খাওয়ার অভ্যেস থাকলে আজই ছাড়ুন।

৯. কোল্ডড্রিঙ্কস

খুব গরম লাগছে, তাই ঘুম থেকে উঠেই বসে গেলেন এক গ্লাস কোল্ডড্রিঙ্কস নিয়ে—মোটেই ভালো নয়। কোল্ডড্রিঙ্কসে থাকা কার্বন-ডাই-অক্সাইড কিন্তু আপনার পেটের মিউকাস মেমব্রেনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং পাকস্থলীতে রক্ত সঞ্চালনও কমিয়ে দেয়। এর ফলে খাবার হজম হতে দেরী হয় ও হজমের নানা সমস্যা হয়।

১০. কমলালেবুর মতো সাইট্রাস ফল

বুঝতেই পারছেন কমলালেবু বা ওই ধরণের সাইট্রাস ফলে প্রচুর অ্যাসিড থাকে। তাই সকালে উঠেই যদি এইসমস্ত ফল বা ফলের রস খান, তাহলে তো আপনার অম্বল হতেই পারে। তাছাড়া গ্যাস্ট্রিক আলসারের মতো গুরুতর সমস্যাও কিন্তু হতে পারে।

যে সমস্ত খাবার খালি পেটে খাবেন

ওপরের লিস্ট দেখে আপনি নিশ্চয়ই খুব ঘাবড়ে গেছেন? তা খানিক ঘাবড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। কি ভাবছেন? তাহলে সকালে উঠে কি কি খাবার খাবেন তো? চিন্তা না করে আসুন, জেনে নিন।

১. বাদাম

সকালে উঠে বাদাম ভেজানো খাবার অভ্যেস আছে নাকি? যদি থাকে, তাহলে অভ্যেসটা ছাড়বেন না। বাদাম কিন্তু আপনার হজমের সমস্যাকে দূর করে ও পেটে পি.এইচ.-এর মাত্রাও স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

২. মধু

সকালবেলা খালি পেটে একচামচ মধু কিন্তু আপনার সারাদিনের এনার্জি বুস্টার হয়ে উঠতে পারে! কীভাবে? মধু আসলে আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয় ও ‘ফিল গুড’ হরমোন সেরাটোনিনের মাত্রাও বাড়িয়ে দেয়। ফলে এক চামচ মধুই সকালে উঠে খেয়ে দেখুন। দেখবেন গোটা দিনটা আপনার ওই ‘ফিল গুড’ এফেক্টেই কেটে গেল!

৩. ইস্ট ছাড়া হোল গ্রেন

সকালে ঘুম থেকে উঠে কি খাবেন ভাবছেন? হোল গ্রেনে থাকা কার্বোহাইড্রেট ও অন্যান্য নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ কিন্তু আপনার ব্রেকফাস্টের জন্য একদম আদর্শ হতে পারে। দুধ দিয়ে এক বাটি মুয়েসলি বা ওটস কিন্তু আপনার হেলদি ব্রেকফাস্ট অপশন হতেই পারে!

৪. তরমুজ

তরমুজ আমাদের শরীরে প্রচুর জলীয় উপাদান বা ফ্লুয়িড সরবরাহ করতে পারে। তাছাড়া তরমুজে প্রচুর পরিমাণে লাইকোপেন থাকে, যা আপনার চোখ ও হার্টের জন্য ভালো হতে পারে। তাই গরমের দিনে খালি পেটে তরমুজ খান। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় জলও পাবেন আর সারাদিন তরতাজাও থাকবেন!

৫. ডিম

সকালে ডিম খাওয়াও কিন্তু আপনার রোজকার ক্যালোরি গ্রহণের মাত্রা কমাতে পারে। তাই ব্রেকফাস্টে ডিম কিন্তু আপনার জন্য অটোমেটিক চয়েস হতেই পারে।

৬. ওটস

আমরা বাঙালীরা তো মোটামুটি এখন সাহেবি ব্রেকফাস্টেই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি। তাই ব্রেকফাস্টে ওটসও কিন্তু আপনার জন্য দারুণ একটা অপশন হতে পারে।

আপনার পেটের মধ্যে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড তৈরি হলে তা আপনার পাকস্থলীর প্রাচীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ওটসে কিছু দ্রবণীয় ফাইবার থাকে যা আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কম করতেও সাহায্য করে।

তাহলে জেনে নিলেন সকালে উঠে খালি পেটে কি কি খাওয়া যায় আর কি কি খাওয়া যায় না! এবার থেকে সেই অনুযায়ী আপনার ফাস্টকে ব্রেক করুন। দেখবেন আপনার শরীরও সারাদিন সুস্থ থাকছে, আর আপনিও।