বুধবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

‘পুরাতন কারাগারের ভেতরে বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক’

news-image

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিচারের জন্য পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে আদালত বসিয়ে যে বিচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

রাজধানীর রমনায় অবস্থিত ই‌ঞ্জি‌নিয়ার্স ইন্স‌টি‌টিউশন মিলনায়তনের সামনে কারাব‌ন্দি দ‌লের চেয়ারপারসন খা‌লেদা জিয়ার মু‌ক্তির দাবি‌তে পূর্ব‌ঘো‌ষিত প্র‌তীকী অনশন কর্মসূ‌চিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বুধাবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত প্র‌তীকী অনশন পালন করেন দলটির নেতারা।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তার বক্তব্যে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, এমন কর্মসূচি দেওয়া হবে, যার স্রোতে এই সরকারের নৌকা ভেসে যাবে। সুতরাং প্রস্তুতি নেন। দেখা যাবে চিৎকার করে কি করেন। বেগম খালেদা জিয়া নির্জন কারাগারে আছেন। তার এই নির্জন কারাবাস সংবিধান পরিপন্থী। তাকে একটি পরিত্যাক্ত দালানের মধ্যে রাখা হয়েছে। এখন একটি নির্জন আদালতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের একজন মন্ত্রী কথা উল্লেখ করে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, উনি বলেছেন যে বিএনপির আইনজীবীরা নাকি আইন জানেন না, তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির সেকশন ৯ এর কথা বলেছেন। কিন্তু উনি ভুলে গেছেন সংবিধান হলো সর্বোচ্চ আইন। সমস্ত আইনের উর্ধ্বে সংবিধান। সেই সংবিধানে বলা আছে, অনুচ্ছেদ ৩৫ এর ৩ এ যেকোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি বা আসামির বিচার উন্মক্ত আদালতে হতে হবে। তো সংবিধান বড় নাকি উনি যে আইনের কথা বলেছেন সেটা বড়। যে আদালতে তার বিচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক।

আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয় মন্তব্য করে দলটির এই প্রভাবশালী নেতা বলেন, ‘তথাকথিত সাজার পরে আজকে বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস ৬ মাসের বেশি হয়ে গেছে। তার তো ৬ দিনও কারাগারে থাকার কথা ছিল না। কিন্তু নিম্ন আদালতের বিচারকরা সরকারের ইন্ধনে, প্রভাবে তার এই জামিন বিলম্বিত করেছে। সুতরাং বিষয়টা খুব স্পষ্ট, সরকার চায় না যে বেগম খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পাক। সেজন্য আইনি পক্রিয়ায় তার মুক্তি সম্ভব নয়, তার মুক্তি একমাত্র রাজপথ। আমাদের যে আন্দোলন চলছে এই আন্দোলন চলবে, আরও বেগবান হবে, সেদিন এই সরকারের পতন আসেবে। এজন্য রাজপথে নামতে হবে। এবার প্রস্তুতি নিতে হবে, যে কেউ যেনো আন্দোলন সফল না করা পর্যন্ত রাজপথ থেকে বাড়ি ফিরে না যায়।’

প্র‌তিকী অনশ‌নে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন,
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমাদ, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এমাজউদ্দীন আহমদ, জামায়া‌তের না‌য়ে‌বে আ‌মির মিয়া গোলাম পরওয়ার
সহ বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাহী কমিটির সদস্য সহ দলটির নেতা-কর্মীরা।