রবিবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

‘ড. কামালের যতগুলো ভোট আছে তারচেয়ে বেশি বয়ফ্রেন্ড ছিলো আমার’​

news-image

বিএনপিকে জামায়াত ছেড়ে দিয়ে ড​. কামাল হোসেনকে গ্রহন করার পরামর্শ দিয়েছেন পিনাকি ভট্টাচার্য​। তার ফেসবুকে দেয়া সেই পোষ্টে জোনাকি চৌধুরি নামের এক নারী কমেন্টে জানান​, “ড. কামালের যতটা ভোট আছে তারচেয়ে বেশি বয়ফ্রেন্ড ছিলো আমার​।” পিনাকি ভট্টাচার্যর সেই পোষ্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো..

জাতীয় ঐক্যের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জামাতে ইসলামী থাকলে বিএনপির সাথে ঐক্য হবেনা। অর্থাৎ সামনের যে জাতীয় ঐক্যের সম্ভাবনা সৃস্টি হয়েছে সেখানে জামাতকে বাদ দিয়েই বিএনপিকে যোগ দিতে হবে।

বিএনপি এখন কী করবে সেটা বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। আমরা সেটা নিয়ে আলাপ করতে পারিনা। তবে বিএনপি কী করতে পারে বা কী করা উচিত সেটা নিয়ে নিশ্চয়ই আলাপ করতে পারি।

বর্তমান সরকার এই দশ বছরে সারা পৃথিবীকে জানাতে সফল হয়েছে যে বাংলাদেশে ধর্মীয় জংগীবাদের ঝুঁকি রয়েছে এবং এই ঝুঁকির একটা বড় কারণ জামাতে ইসলামী। জঙ্গীবাদের সাথে জামাতে ইসলামীর সম্পর্ক আছে বা নাই তা আলাদা কথা, কিন্তু পশ্চিম যা বিশ্বাস করে তা লিখছি আমি এখানে ।

এই বাস্তবতায় বিএনপি জামাতকে সাথে নিয়েই সামনের নির্বাচনে অংশ নিলে সেই জোট পশ্চিমের সন্দেহ উৎপাদন করবে। এর ফল গিয়ে পড়বে নির্বাচনের আবহ তৈরিতে। তখন নির্বাচনের হাওয়া বিএনপির দিকে আনাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে যেতে পারে। আর স্যেকুলার শিবিরের একটা বড় অংশ যারা বিএনপির মিত্র হতে পারতো তারা সরে যাবে।

বিএনপি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। তাদের অনেক নিবেদিত কর্মী আছে। কিন্তু তাদের দলের দুই শীর্ষ নেতা রাজনীতির মাঠে নেই। তাই শক্তি আর জনসমর্থন থাকলেও সেকারণেই তাদের সেই গ্ল্যামার নেই। নির্বাচনে জেতার জন্য জনসমর্থনই শুধু নয় গ্ল্যামারও লাগে।

ঠিক যেমন, এফ সি বার্সেলোনার সব আছে, কিন্তু মেসি তাদের জন্য অপরিহার্য। মেসি ছাড়া বার্সেলোনা লবণ ছাড়া তরকারীর মত।এফ সি বার্সেলনার মতো বিএনপিকে যদি জিততে হয় তাহলে মেসির মতো কামাল হোসেনকে লাগবে।

বিএনপি প্লাস জামাতের চাইতে বিএনপি প্লাস কামাল হোসেন যেকোন বিচারেই বহুগুণে শক্তিশালীই শুধু নয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক গ্রহণযোগ্য।

মণি কাঞ্চন-যোগ বলে বাংলায় একটা কথা আছে। মণি বা বহুমুল্য রত্ন ও সোনার শোভন মিলনের মতো, অতি শুভ ও শোভন মিলন; যোগ্যর সঙ্গে যোগ্যের সার্থক মিলনের মতো বিএনপি আর কামাল হোসেনের ঐক্য প্রক্রিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা মণি কাঞ্চন যোগ হবে বলেই আমার বিশ্বাস।

দেশের সাধারণ মানুষের আকাঙ্খাকে মুল্য দিয়ে জামাতকে ছেড়েই বিএনপি কামাল হোসেনের সাথে ঐক্যে আসবে বলে আশা করি। তবে এটাও ঠিক বিএনপিকে জামাতের সাথে দীর্ঘ আলাপে এটা বুঝিয়ে দিতে পারতে হবে কেন তাদের সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ দুই তরফের জন্যই মংগল। রাজনৈতিক মিত্রের কাছে এই দায় বিএনপির আছে।

আর বিএনপি যদি মনে করে কামাল হোসেনের সাথে ঐক্যের চাইতে জামাতের সাথে বর্তমান ঐক্যই উত্তম বিকল্প, তাহলে এই অবস্থান যে ভুল ছিলো সেটা ২০২৩ সালে নিশ্চয়ই বিএনপি বুঝতে পারবে। আর ততদিনে বিএনপি দেশের অন্যতম প্রধান জনপ্রিয় দল থাকবে কিনা তা ইতিহাস তখনি বলে দেবে।