শুক্রবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

৮ হাজার টাকা ন্যূনতম মাসিক মজুরি প্রত্যাখান শ্রমিকদের

news-image

গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত নূন্যতম মজুরি ৮ হাজার টাকা প্রত্যাখ্যান করেছে কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন। তারা ন্যূনতম মজুরি ১৬-১৮ হাজার করার দাবি জানিয়েছে। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্ট এবং গার্মেন্ট শ্রমিক অধিকার আন্দোলন একথা জানিয়েছে।

গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকার ঘোষণা অন্যায্য উল্লেখ করে মজুরি পুনর্বিবেচনা করে রাষ্ট্রীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মজুরির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ন্যূনতম মজুরি ১৮ হাজার টাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট।

নেতারা বলেন, সরকার ৮ হাজার টাকার যে মজুরি ঘোষণা করেছে তার মধ্যে মূল মজুরি ৪১০০ টাকা। ২০১৩ সালে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত নিম্নতম মূল মজুরি ৩০০০ টাকা ৫ শতাংশ হারে বাৎসরিক বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ৫ বছর পরে বিদ্যমান মূল মজুরি ৩৮২৮ টাকা। অর্থাৎ মজুরি ঘোষণায় শ্রমিকদের মূল মজুরি মাত্র ২৭২ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। যা প্রমাণ করে মজুরি বোর্ড শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৪১ নম্বর ধারায় উল্লেখিত মানদণ্ড কিংবা আইএলও কনভেনশন ১৩১ এর মজুরির মাপকাঠিকে কোনও মূল্য দেয়নি। দরকষাকষির ক্ষেত্রে সরকার মালিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করে শ্রমিকদের বঞ্চিত করেছে।

ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকার ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে অবিলম্বে ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র।

সমাবেশে নেতারা বলেন, বর্তমান বাজারে ৮ হাজার টাকা দিয়ে কারও পক্ষে জীবন ধারণ করা এবং উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। ঘোষিত মজুরি অগ্রহণযোগ্য এবং মালিকপক্ষকে খুশি রাখতে সরকারের উপঢৌকন। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের শ্রমিকদের নিম্নতম মোট মজুরি প্রায় ১৮ হাজার টাকা ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি অর্ধেকেরও কম, দেশের সর্বোচ্চ রফতানি আয় করা শ্রমিকরা এই চরম বৈষম্য কখনোই মেনে নেবে না।

গার্মেন্ট শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের নেতারা বলেছেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের জন্য গঠিত মজুরি বোর্ডের সুপারিশে সরকার বৃহস্পতিবার গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ৮ হাজার টাকা ঘোষণা করেছে। সরকার মালিকদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে শ্রমিকদের দাবির সঙ্গে প্রহসনমূলক মজুরি ঘোষণা করেছে।

এসময় বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, আমাদের প্রস্তাব ছিল নূন্যতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা করার। কিন্তু সব শ্রমিকের আশাকে উপেক্ষা করে অর্ধেকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমরা সরকারের এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে ফান্ড আদায় করতেই মালিক পক্ষের স্বার্থ দেখছে সরকার। আজ সুইপারের বেতন ১৭ হাজার টাকা, কিন্তু গার্মেন্টস শ্রমিকের মজুরি ৮ হাজার টাকা। এটা মানা যায় না।

গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুলের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক,গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদসহ অন্যান্য নেতারা।

গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন আয়োজিত সমাবেশে শ্রমিকনেত্রী মুশরেফা মিশু বলেন, আমরা দুই বছর আগে ১৬ হাজার টাকা শ্রমিকের মজুরির প্রস্তাব করেছিলাম। দুই বছরে সব পণ্যের দাম বেড়েছে অথচ শ্রমিকের মজুরি করা হলো ৮ হাজার টাকা। আমরা সরকারের প্রস্তাবের সঙ্গে একমত না। আমাদের দাবি ১৬ হাজার টাকা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আন্দোলনের মাধ্যমে মেহনতি মানুষের দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরবো।