রবিবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মজুরি নিয়ে অসন্তোষের সুযোগ নেই: শ্রম প্রতিমন্ত্রী

news-image

নতুন মজুরী নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ হওয়ার কনো সুযোগ নেই। কারণ বর্তমান মজুরি থেকে শতকরা ৫১ ভাগ বাড়িয়ে তা ন্যুনতম ৮ হাজার করা হয়েছে। যা আগামী ডিসেম্বরে কার্যকর হবে।

রোববার সচিবালয়ে শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে বিএসআরএম প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু।

উল্লেখ্য, এখন একজন গার্মেন্ট শ্রমিকের ন্যুনতম মজুরী ৫ হাজার ৩০০ টাকা। ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি কোনো কোনো শ্রমিক সংগঠন মানতে চাইছে না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কে মানবেন, কে মানবেন না সেটা তাদের বিষয়।

এটা মিনিমাম, এর নিচে বেতন দেয়া যাবে না উল্লেখ করে মুজিবুল হক বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পোশাক মালিকরা অবকাঠামো উন্নয়ন করেছেন। এতে তাদের শত শত কোটি টাকা খরচ হয়েছে। কারখানা কমপ্ল্যায়েন্স করার পরও ক্রেতারা দাম কমিয়েছেন। তারা একদিকে কমপ্ল্যায়েন্স করার জন্য চাপ দেয়, অপরদিকে দাম কমিয়ে দেয়। এটা তাদের দ্বিমুখী আচরণ, যা ঠিক নয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর থেকে বেশি বেতন বাড়ালে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। এতে শ্রমিকরা চাকরি হারাবেন। যেসব সংগঠন ন্যূনতম মজুরি প্রত্যাখ্যান করছে, তারা আসলে কতটুকু শ্রমিক দরদী আর কতটুকু অন্য উদ্দেশ্যে, সেটা আমার কাছে প্রশ্ন? তিনি বলেন, দুই পক্ষের স্বার্থ রক্ষার জন্য ন্যূনতম মজুরি যৌক্তিক মনে করে আমরা তা ঘোষণা করেছি।

ন্যূনতম মজুরিকে কেন্দ্র করে এই খাতকে অস্থিতিশীল করার কোনো আশঙ্কা আছে কিনা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, গার্মেন্ট খাতের প্রায় সব সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার আগে আমি আন অফিসিয়ালি শ্রমিক, শ্রমিক ফেডারেশন, ইউনিয়ন অনেকের সঙ্গে আলোচনা করেছি, তারাও বলেছেন যদি ৮ হাজার টাকা হয় তাহলে হয়তো সবাই সেটা গ্রহণ করবে।

কিছু কিছু শ্রমিক সংগঠন নামধারী আছে যাদের উদ্দেশ্য ভাল নয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই-তিন বছর আগে হঠাৎ দেখলাম প্রেসক্লাবের সামনে কিছু শিশুদের দাড়া করিয়ে দাবি করছে, এরা রানা প্লাজায় নিহত শ্রমিক সন্তান। পরে খোঁজ নিয়ে জানাগেল, এসব শিশুদের এতিমখানা থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি বলেন, এরাই আইএলওর কাছে দরখাস্ত করেছিল। পরে আমি আইএলও’র ডিজিসহ সংশ্লিষ্টদের প্রমান দেখালে তারা বিষয়টি আমলে নেন।
প্রধানমন্ত্রীর কমিটমেন্ট অনুযায়ী ন্যুনতম মজুরী ঘোষণা করা হয়েছে তাই এ নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ হওয়ার কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।