রবিবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মানুষ দেখলে আমার বয়স কমে যায়, মানুষ আ.লীগ ও বিএনপির মধ্যে আর ক্ষমতার পালাবদল চায় না : এরশাদ

news-image

ডেস্ক রিপোর্ট : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বলেছেন, ‘প্রতিদিন কত মানুষ মারা যায়, খুন হয়, গুম হয়, তার হিসাব নেই। সমাজব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না। মানুষ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে আর ক্ষমতার পালাবদল চায় না। মানুষ শান্তি চায়, জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।’

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের সরকারি জুবিলি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আজ রোববার দুপুরে জেলা জাতীয় পার্টির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরশাদ এসব কথা বলেন।

সমাবেশে এরশাদ সুনামগঞ্জ-৪ আসনে (সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির বর্তমান সাংসদ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহকে দলের প্রার্থী ঘোষণা করেন।

নিজের বয়স হয়েছে উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, ‘আমি সারা জীবন মানুষের জন্য রাজনীতি করেছি। এখন আমার বয়স হয়েছে, কিন্তু মানুষ দেখলে আমার বয়স কমে যায়। প্রখর রোদের মধ্যে আপনারা ছুটে এসেছেন। মিসবাহ বলেছিল, সম্মেলনে ৫০ হাজার লোক হবে। এখন দেখছি, মানুষ আরও বেশি হয়েছে। আমি নিজের জন্য কিছু চাই না। মানুষের মুক্তি চাই, মানুষের অধিকার চাই।’

আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমদের কথা উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, ‘তোফায়েল আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে ক্ষমতায় না যেতে পারলে দেশে এক লাখ লোক মারা যাবে। আপনারা জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দিন। আমি বলছি, একজন লোকও মারা যাবে না। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। আমরা পরিবর্তন চাই। এই পরিবর্তন জাতীয় পার্টি আনতে পারে।’

জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক সাংসদ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহর সভাপতিত্বে সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন দলের মহাসচিব এ বি এম রহুল আমিন হাওলাদার। এ ছাড়া দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, সাংসদ ইয়াহহিয়া চৌধুরী, দলের নেতা ও সাবেক সাংসদ আবদুল মজিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়া হবে বলে সমাবেশে ঘোষণা দেন এ বি এম রহুল আমিন হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘কঠিন সময় চলছে, ইচ্ছে করলেই সবকিছু বলা যাবে না। সরকার আসে সরকার যায়, মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না। লাঙলে ভোট দিন, আমরা শান্তি দেব, শান্তির নীড় উপহার দেব।’ প্রথম আলো