মঙ্গলবার, ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

‘আমি পুলিশে আছি, আমার ভুল হয়ে গেছে’

news-image

নাম রেজাউল করিম। পুলিশের কর্মকর্তা তিনি। তার বাইকের পেছনে বসা ব্যক্তির মাথায় নেই হেলমেট। ছিল না লাইসেন্সটিও। তবু জোর খাটিয়ে চলে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। বাধা দিতে গিয়ে আঘাত পান সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত গার্লস গাইডের দুই সদস্য।

মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর)দুপুরে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবের সামনে ঘটে এ ঘটনা। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনের পর নড়েচড়ে বসেছে সরকার। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে স্কাউট ও গার্লস গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কাজ করছেন। এরই অংশ হিসেবে আঘাত পাওয়া আলফিসা সাফা গত রোববার থেকে অফিসার্স ক্লাবের মোড়ে কাজ করছেন।

এ সময় আলফিসা উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি একটু দূরে সড়কের অন্য পাশ দেখছিলাম। অন্যদিকে আমার আরেক বন্ধু এক মোটরসাইকেল আরোহীকে আটকায়। তার পেছনের জনের মাথায় হেলমেট ছিল না। আমি সেখানে এগিয়ে গিয়ে লাইসেন্স দেখাতে বললে নিজেকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন তিনি। এরপরও আমরা চাবি চাইলে না দিয়ে আমাদের দুজনের মাঝখান দিয়েই মোটরসাইকেল টান দেন। পেছন থেকে ওনার মোটরসাইকেল আমাদের আরেকজন ধরে ফেলে।’

আলফিসা জানান, তিনি ও তার বন্ধু দুজনেই পায়ে আঘাত পান। গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয় দেওয়া সেই কর্মকর্তা জানান, তার নাম মো. রেজাউল। আশপাশের লোকজন জড়ো হন এবং ট্রাফিকের অন্য সদস্যরা সেখানে চলে আসেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত রমনা ট্রাফিক জোনের ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) তরিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘মেয়েরা সিগন্যাল দিলে ওই লোক না থেমে চলে যেতে চাইলে ওরা লাইসেন্স দেখতে চায়। কিন্তু তিনি তা না করে মোটরসাইকেল টান দেন। এতে ওরা আঘাত পায়।’

তরিকুল বলেন, লাইসেন্স না থাকার কারণে ট্রাফিক আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং ৮০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া গায়ের ওপর তুলে দেওয়ার অভিযোগে তিনি গার্লস গাইডের সদস্যদের অপরাধ আইনে মামলা করার জন্য বলেন। তবে রেজাউল নিজের ভুল স্বীকার করে মাফ চাইলে গার্লস গাইডের সদস্যরা মামলা করেননি।

এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা রেজাউল করিমের কাছে ঘটনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি পুলিশে আছি, আমার ভুল হয়ে গেছে।’