বুধবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং ২রা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ফরিদা ফারহানার কাছে জীবন মানে ইতিবাচক চিন্তা করা

news-image

ইমরুল শাহেদ : কবি ও গীতিকবি হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ফরিদা ফারহানার সর্বশেষ কাজ হলো মেঘা ধারাবাহিক নানা রঙের মানুষ নাটকের থিম সং। এই নাটকটি প্রচারিত হয় এটিএন বাংলায়। গানটিতে সুর করেছেন খ্যাতিমান সঙ্গীত পরিচালক ফরিদ আহমেদ এবং কন্ঠ দিয়েছেন প্রতীক হাসান। তিনি আরও বেশ কিছু গান লিখেছেন, যার মধ্যে স্থান পেয়েছে জীবন, জগত এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক। নিজের জীবন দর্শন সম্পর্কে তিনি বলেছেন, জীবন মানে ইতিবাচক চিন্তা করা এবং প্রতিদিনের হাসি কান্নাকে মেনে নেয়া।

টাঙ্গাইল মধুপুরের মেয়ে ফরিদা ফারহানার কাব্যচর্চা তথ্য সাহিত্য ক্ষেত্রে পদচারণা শুরু হয় সেই স্কুল জীবন থেকেই। টাঙ্গাইলের স্থানীয় পত্রিকা মজলুমের কন্ঠ-তে তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। সেই কাব্যচর্চার পাশাপাশি শুরু হয় গান লিখা। সেই সময়টা ২০০২ সাল।

ফরিদা ফারহানার পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তার কর্মজীবনও শুরু হয়। তার পিতা ফরহাদ হোসেন একজন ঔষধ ব্যবসায়ী। ফরিদা ফারহানাও তার কর্ম জীবন শুরু করেছেন ঢাকার স্কয়ার হাসপাতাল থেকে। তিনি সেখানেই এখনও কর্মরত আছেন।

জীবিকার কারণে চাকরীজীবি হলেও ফরিদা ফারহানার চেতনা জুড়ে রয়েছে, কাব্য। জীবনের সব কিছুই তিনি কাব্যের মতো নান্দনিকভাবে সাজাতে চান। তিনি বলেন, ‘কাজের মধ্যেই কোনো নতুন আইডিয়া এলে আমি সেটাকে শব্দে, বর্ণে সাজাতে শুরু করি।’

২০১০ সালের একুশে বই মেলায় তার প্রথম কবিতার বই ‘স্বপ্ন অথবা ভালোবাসা’ প্রকাশ হয়। বইটির জন্য তিনি পাবলিক লাইব্রেরী থেকে রকি পুরষ্কার পান। ২০১৩ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় বই ‘আকাশী রঙের মন’।

কবিতা লেখার পাশাপাশি ২০০২ সাল থেকে তিনি নিয়মিতভাবে গান লিখতে শুরু করেন। গীতিকবি হিসাবে তালিকাভূক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনে। ফারহানার লেখা প্রথম গান ‘মেঘে ঢাকা রোদ্দুর ছুঁয়ে যায় সমুদ্দুর’। গানটিতে কন্ঠ দেন আরশী জোয়ারদার। সঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন বেলাল খান। দ্বিতীয় গান ‘ঘুমহীন রাত’। ফরিদ আহমেদের সঙ্গীত পরিচালনায় গানটিতে কন্ঠ দিয়েছেন শিরিন মুন্নী। এভাবেই শুরু হয় তার গীতিকবির জীবন।

ফরিদা ফারহানার গানের দীর্ঘ তালিকার সর্বশেষ গানটিতে কন্ঠ দিয়েছেন আসিফ আকবর ও পলি। ‘প্রেমের গল্প’ শিরোনামের এ গানটিরও সুর করেছেন ফরিদ আহমেদ। গত বছরের নভেম্বরের প্রথম দিকে ইউটিউবে গানটি মুক্তি পায়। অ্যালবামের জন্য গান লেখা ছাড়াও বেশ ক’টি নাটক ও টিভি অনুষ্ঠানের থিম সং লিখেছেন ফারহানা।

শুধু একজন সফল কবি ও গীতিকবি নয়, সমাজকর্মী হিসাবেও ফরিদা ফারহানার রয়েছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। নিজ এলাকায় ‘আলোকিত মধুপুর’ নামে একটি আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন। সম্প্রতি তিনি ‘রেশ ফাউন্ডেশন’ নামে একটি অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সংস্থার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই সংস্থার সভাপতি কন্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। এই সংগঠন দেশের সংস্কৃতি সেবা, শিল্পীদের চিকিৎসা ও উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের চিকিৎসা ও মৌলিক সমস্যার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

ফরিদা ফারহানা বলেছেন, তিনি একজন আত্মনির্ভরশীল মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান।