শনিবার, ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং ৪ঠা ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

‘এখনও কেন আমাকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে না’

news-image

দীর্ঘ ৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া আইনজীবীদের কাছে তিনি জানতে চেয়েছেন, ‘এখনও কেন আমাকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে না?’

খালেদা জিয়া বলেন, আমি মারাত্মক অসুস্থ। বাম পা ও হাতের আঙুলগুলো বেঁকে গেছে। হাত অবশ হয়ে গেছে। হাঁটতে পারছি না। হাত দিয়ে খেতেও পারছি না। পরশুদিন একবার পড়ে গেছি। এই মুহূর্তেই আমার চিকিৎসা জরুরি। আমাকে এখনও কেন হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে না? সরকারকে বলুন, আজই যেনো আমাকে হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। আমি প্রচণ্ড অসুস্থ। আগে আমার চিকিৎসা করা হোক। আমি নিজে না বাঁচলে কীভাবে আদালতে হাজির হবো?

প্রসঙ্গত, বুধবার বিকেলে রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার দেখা করতে গেলে তাদেরকে নিজের ভঙ্গুর শারীরিক অবস্থার কথা জানান। বিকাল ৪ টা ১০ মিনিট থেকে একঘণ্টা কারা অভ্যন্তরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন তারা।
আইনজীবীরা কারাগারের দ্বিতীয়তলায় বেগম জিয়াকে যেখানে রাখা হয়েছে সেই কক্ষের সামনে বারান্দায় গেলে বেগম জিয়া একটি হুইল চেয়ারে এসে তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরে কারাগার থেকে বেরিয়ে আইনজীবী অ্যাডভেকেট মাসুদ আহমদ তালুকদার জানান, বেগম জিয়ার বাম হাত ও বাম পা সম্পূর্ণ অবশ। নাড়াচাড়া করতে পারছেন না। নিজে হাঁটাচলা করতে পারছেন না। হুইল চেয়ারে বসে থাকতে হচ্ছে। নিজে হাতে তুলে কিছু খেতেও পারছেন না। গত পরশু-১৭ সেপ্টেম্বর বাথরুমে যাওয়ার সময় হাঁটতে গিয়ে পড়ে যান।

মাসুদ আহমদ তালুকদার জানান, খালেদা জিয়া তাদের বলেছেন, ‘আমি একথা মোটেই বলিনি যে, আদালতে যাবো না। কারা কর্তৃপক্ষ অসত্য বলছে। তারা মিথ্যাচার করছে। আমি বলেছি, আমি আদালতে যেতে চাই। তবে আমার শারীরিক অবস্থা এতই খারাপ যে, আদালতে উপস্থিত হয়ে বসে থাকার মতো সামর্থ নেই। আগে আমাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করে সুস্থ করা হোক। তারপর আমি নিয়মিত আদালতে হাজির হতে পারবো। আমি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমার মা ও আমার ছোট ছেলের মৃত্যুর দিবসেও আদালতে গেছি, সারাদিন না খেয়ে থেকেছি। এখনই আমার চিকিৎসা জরুরি।’

আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের বাম হাতের আঙুলগুলো বেঁকে গিয়েছে। হাত অবশ হয়ে যাওয়ায় নাড়াচাড়া করতে পারছেন না। তার শারীরিক অবস্থা চরম উদ্বেগজনক। অথচ তাকে এখনো হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে না। আমরা বেগম জিয়ার এই ভয়াবহ শারীরিক অবস্থা দেখে ভীষণ কষ্ট বোধ করছি। সরকারকে বলবো তাকে নিয়ে রাজনীতি করবেন না। দয়া করে আজই বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করুন।

সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই খালেদা জিয়া নানারকম শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। আমি আবারও বলছি, আর এক মুহূর্ত বিলম্ব করবেন না। তাহলে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। তিনি সুস্থ না হলে আদালতে যেতে পারবেন না। কারাগারের অস্থায়ী আদালতে আসার মতো অবস্থাতেও নেই তিনি। খালেদা জিয়া দুদিন আগেও কারাকক্ষের বাথরুমে পড়ে গিয়েছেন।

৫ সেপ্টেম্বর কারাগারে আদালত বসানোর পর বেগম খালেদা জিয়াকে বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানায় বিএনপি। পরে তার চিকিৎসায় গঠিত সরকারি মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর প্রদত্ত রিপোর্টে বলেছেন,

খালেদা জিয়ার বাম হাতের সমস্যাসহ (বিকলাঙ্গতা) রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (বাতজনিত সমস্যা), সার্ভাইকাল স্পন্ডিলোসিস, লাম্বার স্পন্ডিলোসিস, বাম কোমরের অস্থিসন্ধিতে অস্ট্রিয়আর্থ্রাইটিস, অস্ট্রিয়পোরোসিস, সিনাইল ট্রেমর, এলার্জিজনিত সমস্যার কারণে চোখ শুকিয়ে যাওয়ার লক্ষণ রয়েছে। এছাড়া তার দুই হাঁটুই প্রতিস্থাপিত।

রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে বোর্ড বেগম জিয়াকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। নিতে বলা হয়েছে যে হাসপাতালে সব ধরনের স্পেশালিটি আছে, সেখানে। এক্ষেত্রে সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তির সুপারিশ করেন।

এ জাতীয় আরও খবর

অনেক আগেই জামায়াতের ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল : হানিফ

জামায়াতে ইসলামী থেকে পদত্যাগ করলেন ব্যারিস্টার রাজ্জাক

আমির খসরুকে প্রধান করে বিএনপির বিদেশ বিষয়ক ২১ সদস্যের কমিটি

নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে বিএনপি-গণফোরামের মামলা

খবরটি পত্র-পত্রিকায় দেখে চমকে উঠলাম : রিজভী

১৮ উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির

আমলাতান্ত্রিক সহযোগিতায় ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে : ড. কামাল

প্রধানমন্ত্রী চাইলেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন : রিজভী

সংরক্ষিত নারী আসন: সালমা ইসলামসহ ৪জন জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পেলেন

প্রধানমন্ত্রী-আপনি দেয়ালের ভাষা পড়ুন : রিজভী

আ.লীগ নেত্রী মনোনয়ন না পেয়ে নিজের ফাঁসি চাইলেন

এরশাদ আজ সংসদ অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন