বুধবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং ২রা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

রাসুল (সা.) এর আশুরা পালন

news-image

রাসুল (সা.) মহাররম মাসকে খুব সন্মান করতেন। মহরররম মাস অধিক সন্মানিত একটি মাস। এই মাসের মর্যাদা আল্লাহ তায়ালার নিকট অত্যাধিক। যেহেতু এই মাসকে আল্লাহর মাস বলা হয়। রমজান মাসের পরই এই মাসের অবস্থান। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন,‘রমজানের পর আল্লাহর মাস মুহাররমের রোজা হল সর্বশ্রেষ্ঠ।’(সহীহ মুসলিম২/৩৬৮ পৃষ্টা)।

রাসুল (সা.) এই মাসে অধিক পরিমান দোয়া করতেন। এই মাসের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ন দিন রয়েছে। হজরত আলী (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) কে এক সাহাবী প্রশ্ন করলেন, রমজানের পর আর কোন মাস আছে যে মাসে আপনি রোজা রাখার আদেশ করেন? রাসুল (সা.)বললেন, রমজানের পর তুমি যদি রোজা রাখতে চাও তাহলে মহররম মাসে রাখ। কারন এটা আল্লাহর মাস। এই মাসে এমন একটি দিন আছে যে দিনে আল্লাহ তায়ালা একটি জাতির দোয়া কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য জাতির তাওবা কবুল করবেন। ’(জামি তিরমিযী,১ম খন্ড,১৫৭ পৃষ্টা)।

মহাররম মাসের ১০তারিখকে আশুরা বলা হয়। আশারা শব্দ থেকে আশুরা শব্দের উৎপত্তি। আশারা মানে দশ আর আশুরা অর্থ হল দশম দিবস। এই দিনের গুরুত্বপূর্ন অনেক আমল রয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম হল রোজা পালন করা। রাসুল (সা.) এই আশুরার দিন রোজা পালন করতেন। হজরত আয়েশা (রা.)বলেন,‘ জাহেল যুগে এই দিন কুরাইশরা রোজা পালন করতেন। রাসুলল (সা.) এদিন রোজা নিজে রেখেছেন এবং সাহাবীদের রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর আশুরার রোজাকে ইচ্ছাধীন করে দিয়েছেন।’(বুখারী- ১৮৯৮,তিরমিজী-৭৫৩)

আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে,ইয়াহুদিরা আশুরার একদিন রোজা রাখত। তাদের সাথে সাদৃশ্য না হয় সে দিকে খেয়াল রেখে আশুরার পূর্বের দিন ৯ তারিখ বা পরের দিন ১১ তারিখ অতিরিক্ত একটি রোজা রাখা প্রয়োজন। রাসুল (সা.) এই দিনে রোজা পালন করলেন। রাসুল (সা.) বলেন,‘তোমরা আশুরার রোজা রাখ এবং ইয়াহুদির সাদৃশ্য পরিত্যাগ করে আশুরার আগে বা পরে একদিন রোজা রাখ।’(মুসনাদে আহমদ ১ম ,২৪১ পৃষ্ঠা)

রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পূর্বে আশুরার রোজা ফরজ ছিল। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর আশুরার রোজার ফরজিয়্যাত রহিত হয়ে যায় এবং তা নফল হয়। রাসুল (সা.) এ নিয়মে রোজা রাখতেন । এরপর যখন তিনি হিজরত করে মদিনায় গেলেন তখন রাসুল (সা.) দেখলেন, ইয়াহুদিরা এই দিনে রোজা পালন করছে, রাসুল (সা.) কারন জিজ্ঞাসা করলে তারা বলল এই দিনে আমাদের নবী হজরত মুসা (আ.) জামেল ফিরাউনের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন তাই আমাদের নবী মুসা(আ:) আল¬াহর কৃতজ্ঞতা আদায়ের জন্য এ দিন রোজা পালন করতেন। এ জন্য আমাদের নবীর অনুসরন করে আমরা এই দিনে রোজা পালন করি। তখন রাসুল (সা.) বললেন ‘আমরাই বেশী হকদার মুসা (আ.) এর সাথে সুসম্পর্কের”। সুতারং আশুরার রোজা পালন করা মুস্তাহাব যদি কেউ পালন করে তাহলে সে অজস্র সাওয়াবের অধিকারী হবে তার গুনাহ মহান আল¬াহ তায়ালা ক্ষমা করে দিবেন। রাসুল(সা.) বলেন, ‘আমি আশাবাদি যে, আশুরার রোজার কারনে আল্লাহ তায়ালা অতীতের একবছরের (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন’। ( মুসলীম ১/৩৬৭পৃষ্ঠা)

প্রিয় পাঠক,আসুন আমরা আশুরার রাতে বেশী বেশী করে নফল নামাজ, তাসবিহ তাহলীল সহ অতিরিক্ত হারে তাওবা ও কৃত কর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে পারি। আল্লাহ যেন হায়াত বাড়িয়ে দেয় সে জন্য তার নিকট প্রর্থনা করতে হবে। সারাটি বছর রাঙিয়ে দেওয়া যায় সে জন্য এখন থেকেই জীবনকে গড়ে তুলতে হবে। স্বরন রাখা প্রয়োজন্ গুরুত্বপূর্ন এই দিনে অপসাংস্কৃতি ও ইসলাম নিষিদ্ধ করছে এমন কোন কর্মকান্ড যেন আমার দ্বারা সংগঠিত না হয়। হে আল্লাহ আপনি আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমিন। লেখক : প্রাবন্ধিক, গবেষক, মো: আবু তালহা তারীফ।