বুধবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং ২রা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বইটি আরও দুই-তিন মাস পরেও প্রকাশ করা যেত, এসকে সিনহাকে ওবায়দুল কাদের

news-image

ডেস্ক রিপোর্ট : নির্বাচনের আগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বই প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তাঁর মতে, এই সময়ে বইটি প্রকাশ করে সাবেক প্রধান বিচারপতি সরকারবিরোধী অপপ্রচারের উসকানি না দিলেও পারতেন। প্রথম আলো

আজ শুক্রবার সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোগড়া বাইপাস মোড় এলাকায় বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটসহ (বিআরটি) কয়েকটি প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে ওবায়দুল কাদের ওই সব কথা বলেন। জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন প্রয়োগ করা অনেক কঠিন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার মো. আরিফুল ইসলাম, বিআরটির প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. সানাউল হক, সড়ক ও জনপথের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ঢাকা জোন) আবদুস সবুর, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ঢাকা সার্কেল) মো. সবুজ উদ্দিন খান, গাজীপুর সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিন রেজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক বিচারপতি এস কে সিনহার বই প্রকাশ প্রসঙ্গে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাঁর লেখা বই তিনি প্রকাশ করবেন, এটাই স্বাভাবিক। তবে আমার শুধু একটাই প্রশ্ন, তা বিদেশের মাটিতে বসে কেন? আর নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন? বইটি আরও দুই-তিন মাস পরেও প্রকাশ করা যেত। বইটি এ সময়ে প্রকাশ করে সরকারবিরোধী অপপ্রচারের উসকানি এ সময় তিনি না দিলেও পারতেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সাবেক প্রধান বিচারপতি, তাঁর মনে কষ্ট থাকতে পারে, জ্বালা থাকতে পারে, প্রধান বিচারপতি পদ থেকে তিনি নিজেই সরে গেছেন। এখন বিদেশে গিয়ে মনগড়া তথ্য দিয়ে তিনি সরকারবিরোধী মহলের অপপ্রচারের সুবিধার জন্য যদি এ সময় বইটি প্রকাশ করে থাকেন, তাহলে আমার মনে হয়, তিনি একজন প্রধান বিচারপতি ছিলেন, এখানে তাঁর দায়িত্বশীলতার বিষয়টি প্রশ্নচিহ্ন হয়ে ঝুলে থাকবে।’

গাজীপুরের সড়ককে কার্যকর রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। এই স্থান দিয়ে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন রুটে যানবাহন চলাচল করে। যেকোনো অবস্থায় গাজীপুরের রাস্তাকে কার্যকর রাখতে হবে। সেটা তাঁর অগ্রাধিকারমূলক কাজ। গাজীপুরের রাস্তায় যেন যানজট না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখে মেয়র, পুলিশ, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যক্রম চালাতে বলেন তিনি।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিষ্কার বক্তব্য দিয়েছেন। এতে কারও আতঙ্কিত হওয়ার, উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। একটা আইন, প্রায়োগিক বাস্তবটাই সবচেয়ে বড় কথা। ডিজিটাল ক্রাইমকে মোকাবিলা করতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হবে না, ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। সেভাবেই আইনটি প্রয়োগ করা হবে।

এদিকে যুক্তফ্রন্টকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন দল ও নেতাদের ঐক্য প্রক্রিয়া, যুক্তফ্রন্টকে সরকার স্বাগত জানায়। তারা সভা–সমাবেশেরও অনুমতি পাচ্ছে। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, পুলিশ কমিশনারকে। যাঁরাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সভা করতে চান, তাঁদের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সামনে নির্বাচন, এখন দলে দলে ঐক্য হবে, নেতায় নেতায় ঐক্য হবে। তাতে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আমাদের পক্ষে জনমত আছে।