মঙ্গলবার, ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ঝালকাঠিতে কলেজশিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

news-image

অনলাইন ডেস্ক: ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমিন মাঝির বিরুদ্ধে একই কলেজের এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীর মা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জাহাঙ্গীর খান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ হাসানের কাছে অভিযোগ করেছেন। এছাড়া তিনি এ ঘটনায় মামলা দায়েরের জন্য বৃহস্পতিবার ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে এফিডেভিট প্রদান করেছেন। তবে জেলা ও দায়রা জজ ছুটিতে থাকায় মামলা দায়ের হয়নি।

অভিযুক্ত শিক্ষক আল-অমিন মাঝির বাড়ি নলছিটি উপজেলার রানাপাশা গ্রামে। তার পিতার নাম মো. তৈয়বুর রহমান মাঝি। তিনি বছরখানেক পূর্বে ঝালকাঠি মহিলা কলেজে যোগদান করেন।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, নির্যাতিত ওই ছাত্রী ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এ বছর বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাশ করে। এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর কয়েক মাস আগে ফিজিকসের ক্লাশ নেওয়ার সুবাধে মো. আল-আমিন মাঝির সাথে পরিচয় হয় তার। পরিচয় হওয়ার পরই সুচতুর আল-আমিন মাঝি ওই ছাত্রীর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু করে সম্পর্ক তৈরি করে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট বের হলে আল-আমিন মাঝি ছাত্রীকে ফোন করে মহিলা কলেজে এনে বলেন- ‘তুমি ভাল রেজাল্ট করেছো, জিপিএ ৪.৬৭ পেয়েছো। তুমি মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা দাও আমি তোমাকে সব রকমের সহযোগিতা করবো। ‘

সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে আল-আমিন মাঝি প্রায়ই ওই ছাত্রীকে নিয়ে বরিশাল ও ঝালকাঠির বিভিন্ন চাইনিজ রেস্টুরেন্ট এবং তার মহিলা কলেজ সড়কের বাসায় নানা কৌশলে শ্লীলতাহানি ঘাটায়।

সর্বশেষ গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঝালকাঠি শহরের নোহা গার্ডেন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে নিয়ে আল-আমিন মাঝি ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে। ওই সময়ে কয়েকজন সাংবাদিক রেস্টুরেন্টে উপস্থিত হলে আল-আমিন মাঝি ছাত্রীকে রেখে সটকে পড়ে।

এদিক ওই শিক্ষকের অনৈতিক কর্মকান্ডের খবর শহরে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আল-আমিন মাঝি আরও একাধিক ছাত্রীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তাদের সর্বনাশ করেছে। শুধু আল-আমিন মাঝি নয় একই কলেজের আরও ৫/৬ জনের একটি শিক্ষক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ার অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি মহিলা কলেজের আশপাশে বাসা ভাড়া নিয়ে এরা কথিত মধুকুঞ্জু গড়ে তুলেছেন। এ সকল শিক্ষকরা তাদের বাহিরের বন্ধুদের নিয়ে নিয়মিত কলেজ অভ্যান্তরে দিনে ও রাতে আড্ডা বসায়। তাদের টার্গেট থাকে ছাত্রীহোস্টেলের দিকে।

এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে আল-আমিন মাঝির মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. জাহাঙ্গীর খান বলেন, ওই ছাত্রীর মা আমার কাছে মৌখিকভাবে আল-আমিন মাঝির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল। আমি আল-আমিন মাঝিকে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তবে তিনি অনৈতিক সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছেন।

কলেজে বহিরাগতদের আড্ডা প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, খোঁজ খবর নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।