মঙ্গলবার, ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে নেই যারা

news-image

যত না যুক্তফ্রন্টের ডাকা ঐক্যের ডাক- তা ছাপিয়ে আজ ছিল বিএনপির সাথে ড. কামাল হোসেন ও বি. চৌধুরীর এককাট্টা হওয়ার আনুষ্ঠানিক মিলন দিবস। বিএনপিসহ ২০ দলের জোটের শরীক দলগুলোকে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। দাবি করা হচ্ছিল যে, জামায়াত ছাড়া সবাইকে বলা হয়েছে। কিন্তু একাত্তরের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী হিসাবে মাওলানা ইসহাকের দলের মহাসচিব কুখ্যাত কাদেরের উপস্থিতি কামাল হোসেনের ইমেজকে মাটিতে নামিয়ে এনেছে সমাবেশে আসা কর্মীদের মধ্যে কথা উঠেছে। এই সেই কাদের, যিনি একসময় ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি ছিলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের এক অংশের নেতা কাসেমীও।

এদিকে দেশের জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের গ্রহণযোগ্য রাজনীতিক কর্নেল (অব.) অলি আহমেদকে জাতীয় ঐক্যের সভায় দেখা যায়নি। তার দলের কোন প্রতিনিধিকেও পাঠানো হয়নি। একই পথ অনুসরণ করেছেন মশিউর রহমান যাদু মিয়ার নাতি জেবেল রহমান গাণির বাংলাদেশ ন্যাপ। যে যাদু মিয়া একদিন নিজের দলকে স্থগিত করে জিয়ার বিএনপি গড়ার সেনাপতি ছিলেন।

শনিবার ঢাকা মহানগর নাট্য মঞ্চে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিমের কল্যাণ পার্টিকে দেখা যায়নি। সভায় যায়নি এমন দলের মধ্যে রয়েছে ন্যাশন্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টিও। যার নেতৃত্বে আছেন খন্দকার গোলাম মতুজা। রহস্যময় কারণে বাংলাদেশ মুসলিম লীগকেও দেখা যায় নাই।

সূত্রমতে, কর্নেল অলির নেতৃত্বে এলডিপি, বাংলাদেশ ন্যাপ, কল্যাণ পার্টি, এনডিপিসহ আরো কয়েকটি দলের বোঝাপড়া চমৎকার পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি বিএনপির ভোটহীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিকট আত্মসমর্পণ করাকে তারা ইতিবাচক চোখে দেখছে না। অথচ জোটের দুর্দিনে তারা কখনই বিএনপিকে ছেড়ে চলে গেয়ে আপস করেনি কারোর সাথে। যুক্তফ্রন্টের উদ্যোক্তা মাহমুদুর রহমান মান্নার দল নাগরিক ঐক্যের তো নিবন্ধনই নেই।

অন্যদিকে খোদ বিএনপিতেও কামাল হোসেন এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরীর এমন জোট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে ও ছিল। বিএনপির মধ্যেও উত্তপ্ত পরিস্থিতি বইছে। যেকোন মুহূর্তে তা সামনে চলে আসতে পারে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিএনপির জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের একজন নেতা বলেন, যতই কামাল হোসেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে গালমন্দ করুক কিংবা জামায়াত বর্জনের কথা বলুন বাস্তবতা তেমন করে নয়। এই জোটের মূল লক্ষ্য, দেশে অগণতান্ত্রিক শক্তিকে ক্ষমতায় বসানো। সেই কারণে কামাল হোসেন কিংবা মাহমুদুর রহমান মান্নাদের কোন সংসদীয় আসন না থেকেও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বলে তারা চালিয়ে যাচ্ছে, শান্তিপূর্ণ হতে হতে তারা একসময় নাশকতাকে পরিচিত করাবেন।

ওই নেতা আরো বলেন, বিএনপির সারাদেশের নেতারা মুলত নির্বাচন করতে চান। কিন্তু এই ঐক্যের নামে জোট মুলত নির্বাচনমুখী নয়, নির্বাচন প্রতিহত করার শক্তি। যারা এর নেতৃত্বে আছেন বৈশ্বিক পরিমন্ডলে তাদের ইমেজ বেশ ভাল।

কর্নেল অলিসহ জোটের নেতৃবৃন্দ এই ঐক্যে না যাওয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হলো। ধারণা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক আরো কিছু ঘটনা আগামী সপ্তাহ হতে শুরু হতে পারে। বিএনপির বড় অংশ ও কর্নেল অলি আবারো আলোচনায় চলে আসতে পারেন।